Delhi Protest October 10

বিক্ষোভ আটকাতে বৈঠক করেছেন স্বরাষ্ট্র সচিব, আটক প্রতিবাদীদের দেওয়া হচ্ছে না জলও

জাতীয়

দিল্লির রাস্তায় পুলিশ টেনে হিঁচড়ে আটক করছে ঐশী ঘোষ সহ ছাত্র-যুব প্রতিবাদীদের।

দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ ঠেকাতে রাজ্যে রাজ্যে নির্দেশ পাঠিয়েছিল অমিত শাহের নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। বেশি জমায়েত হতে পারে এমন বিভিন্ন রাজ্যের ডিজি স্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার পদে জ্ঞানেশ কুমারকে রাখতে সরকার সবরকম চেষ্টা চালাচ্ছে। শনিবার, ১০ অক্টোবর, বহু চেষ্টা সত্ত্বেও দিল্লিতে প্রতিবাদ থামাতে পারেনি পুলিশ। সিপিআই(এম) সহ বামপন্থীদের দপ্তরের সামনে মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল বাহিনী। ছাত্র-যুবরা রাস্তায় বাসে থেকেছে স্বচ্ছ নির্বাচন প্রক্রিয়ার দাবিতে। টেনে হিঁচড়ে তাঁদের তুলেছে পুলিশ। টেনে হিঁচড়ে তুলেছে বামপন্থী নেতানেত্রীদের। সারা দেশ দেখছে সেই দৃশ্য। 
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সূত্র থেকে উল্লেখ করো সংবাদমাধ্যমে জানানাো হয়েছে যে যে কোনোভাবে বিক্ষোভ আটকাতে কতটা মরিয়া ছিল নরেন্দ্র মোদী সরকার। জানা গিয়েছে স্বরাষ্ট্র সচিব স্পষ্ট করেছিলেন যে গত জুলাইয়ে যন্তর মন্তরের বিক্ষোভে এসেছিলেন এমন প্রতিবাদীদের আটকাতে হবে।
গত ৪ অক্টোবর বৈঠক থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক আটক এবং প্রতিবাদীদের নোটিশ পাঠানোর নির্দেশ পাঠায়। এবার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল যাতে দিল্লিতে প্রতিবাদীরা পৌঁছাতেই না পারেন। 
গত ৬ অক্টোবর দিল্লিতে বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ মঞ্চের মিছিল হয় সংসদ ভবন থেকে নির্বাচন কমিশন দপ্তর পর্যন্ত। কমিশনের দপ্তরের পৌঁছানোর আগেই আটকে দেওয়া হয় রাস্তা। একের পর এক গ্রেপ্তার করা হয় বিরোধী নেতা ও কর্মীদের। বস্তুত পরপর পাঁচদিন ধরে স্বচ্ছ নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং এসআইআর বাতিলের দাবিতে উত্তাল রয়েছে রাজপথ। 
এবার ১০ অক্টোবরের বিক্ষোভ আটকাতে রাজ্যে রাজ্যে প্রতিবাদী ছাত্র যুবদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বন্ধ করা হয়েছে দিল্লিগামী একের পর এক ট্রেন। গৃহবন্দি করা হয়েছে বিভিন্ন রাজ্যে। এমনকি শনিবার প্লেন থেকে নামতেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে সিজেপি’র শীর্ষ সংগঠক অভিজিৎ দীপকে, আশুতোষ্ রাঙ্কাকে। 
এদিন বিক্ষোভকারীদের তুলে বিভিন্ন স্টেডিয়ামে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এসএফআই নেত্রী ঐশী ঘোষ ভিডিও বার্তায় জানিয়েছেন যে তাঁদের মুন্ডকা পুলিশ থানায় নিয়ে রাখা হয়েছে। দীর্ঘক্ষণ জল দেওয়া হচ্ছে না। ধরপাকড়ের জেরে সকলেই আহত। তিনি বলেছেন, জল না দিয়ে বা খাবার না দিয়ে আটকে রেখে প্রতিবাদ দমন করা যাবে ভাবলে ভুল করছে সরকার। শালিমার বাগ থানা থেকে একই বার্তা দিয়েছেন সারা ভারত গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির সাধারণ সম্পাদক মারিয়াম ধাওলে।
এদিকে উত্তর পশ্চিম দিল্লির সুভাষ প্লেস থানায় বৃন্দা কারাতকে আটক করে রাখা হয়েছে। এই থানাতেই রয়েছেন ছাত্র-যুব প্রতিবাদীরা। তাঁদের ফোন কেড়ে নেওয়া হয়েছে। কারাত এই ছাত্র-যুবদের নিয়েই স্লোগান তুলেছেন, ‘ভোট চোর গদি ছোড়’।

Comments :0

Login to leave a comment