Biman Basu

ষোড়শী চৌধুরীর জীবন থেকে শিক্ষা নিয়েই সাম্রাজ্যবাদ ও বিভাজনের বিরুদ্ধে লড়াই চলবে, মেদিনীপুরে বিমান বসু

জেলা

স্বাধীনতা সংগ্রামী, আজীবন বিপ্লবী ও কমিউনিস্ট নেতা কমরেড ডা: ষোড়শী চৌধুরী আবক্ষ মূর্তি উন্মোচন হয় পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার চন্দ্রকোনায়। উন্মোচন করেন পশ্চিমবঙ্গ বামফ্রন্ট কমিটি চেয়ারম্যান বিমান বসু।  তৃণমূলের আক্রমণে নষ্ট হওয়া পার্টি কার্যালয় পুনর্গঠন ও সংস্কার করা দপ্তরের  উদ্বোধন করেন জেলা সম্পাদক বিজয় পাল।
মূর্তি উন্মোচনের পর সমাবেশ হয় এদিন। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিমান বসু, বিজয় পাল সহ নেতৃবৃন্দ। সভাপতিত্ব করেন প্রবীণ সিপিআই(এম) নেতা গুরুপদ দত্ত।সমাবেশ মঞ্চে বিমান বসু হাত দিয়ে প্রকাশিত হয় চন্দ্রকোনা থানা এলাকার স্বাধীনতা আন্দোলন ও কমিউনিস্ট পার্টি গড়ে ওঠার ইতিহাস সংকলিত পুস্তক।
এদিন বিমান বসু বলেন, "মেদিনীপুর জেলা স্বাধীনতা সংগ্রামের ঘাঁটি। স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে মেদিনীপুরের নাম উজ্জ্বল হয়ে থাকবে কোনও দুর্বৃত্তের চেষ্টা করলেও তাকে কলুষিত করতে পারবে না। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ চোখে চোখ রেখে লড়াই করেছে এই মেদিনীপুরের মাটি। কমরেড ষোড়শী চৌধুরীরা সেই লড়াইয়ে স্বাধীনতার সংগ্রামে সামনের সারিতেই ছিলেন। আজকের দিনে যদিও যখন মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ আগ্রাসন করছে তখন গোটা পৃথিবী জুড়ে বামপন্থী মানুষ সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী মানুষ রাস্তায় না বুঝে। ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রপতি মাদুরো ও তার স্ত্রীকে যখন অপহরণ করে নিউইয়র্কে নিয়ে আসা হয়েছে তার বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছে গোটা বিশ্ব। একটি স্বাধীন রাষ্ট্রে ভিতরে ঢুকে এভাবে হামলা চালিয়ে রাষ্ট্রপ্রধান কে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া এর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রসংঘ কেন দৃঢ়ভাবে কোন পদক্ষেপ নিতে পারল না। জানিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বক্তব্য আমরা দেখেছি। কিন্তু আমাদের দেশের তরফে যে বক্তব্য রাখা হয়েছে তা অদ্ভুত ধরনের। দৃঢ় ভাবে আমাদের দেশ প্রতিবাদ তারা করতে পারেনি। তাই আমরা বামপন্থীরা প্রথম থেকেই সাম্রাজ্যবাদ ও মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে। কমরেড ষোড়শী চৌধুরীরা আমাদের তাই শিখিয়ে গিয়েছেন। তৎকালীন সময় পরাধীন ভারতবর্ষে দীর্ঘদিন সেলুলার জেলে কাটিয়েছেন বন্দী জীবন সেখান থেকেই কমিউনিস্ট মতাদর্শকে পাথেয় করে লড়াই সংগ্রাম চালিয়েছেন।"

তিনি আরও বলেন, বিজেপির সরকার বর্তমানে আমাদের দেশ চালাচ্ছে। আর বিজেপিকে চালাচ্ছে আরএসএস। যারা স্বাধীনতা সংগ্রামে ব্রিটিশের পক্ষে ছিল। ষোড়শী চৌধুরীরা শুধুমাত্র ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেন তারা লড়াই করেছিলেন এই আরএসএসের বিরুদ্ধেও। আজকের পরিস্থিতিতে দেশে যেমন বিজেপি পরিচালিত সরকার রয়েছে ঠিক তেমনি রাজ্যে তৃণমূলের সরকার রয়েছে। এই দুই সরকারকেই পরিচালনা করছে আরএসএস। এরা বোঝাপড়া করেই মানুষের মধ্যে বিভাজন ও অবাধ লুট চালাচ্ছে। সাধারণ চোখে তারা একে অপরের বিরোধিতা করলেও এর একই। আমরা আজই আবেক্ষ মূর্তি উন্মোচন করেছি কোনও ব্যক্তি পুজোর জন্য নয়। কমরেড ষোড়শী চৌধুরীর জীবন থেকে শিক্ষা নিয়েই লড়াই আন্দোলন করতে হবে।"

সিপিআইএম পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা সম্পাদক বিজয় পাল বলেন, "আজ ভারত শাসন করছে একসময় যারা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের পক্ষে ছিল। গোটা দুনিয়া জুড়েই দক্ষিণপন্থার বাড়বাড়ন্ত দেখা যাচ্ছে। একসময় ঔপনিবেশিকতাবাদ ও ব্রিটিশের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন কমরেড ষোড়শী চৌধুরী। তৎকালীন সময়ে আরএসএস বিজেপির বিভাজন ও আজকের বিভাজনের প্রেক্ষিত পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু তাদের মূল লক্ষ্য একই রয়ে গিয়েছে। তারা ভারতবর্ষকে হিন্দু রাষ্ট্র করতে চায়। ধর্মীয় বিভাজনের পাশাপাশি বিভিন্ন জায়গায় জাতিগত বিদ্বেষ ও সরাতে শুরু করেছে বিজেপি একদিকে তাদের মন্দির মসজিদের রাজনীতি এবং তাকেই হাওয়া দিচ্ছে রাজ্যের শাসক দল। সরকার একের পর এক মন্দির তৈরি করছি বিভাজনের রাজনীতিকে বাঁচিয়ে রাখতে। আমাদের এই দুই শক্তির বিরুদ্ধেই লড়াই সংগঠিত করতে হবে।"

Comments :0

Login to leave a comment