Afghanistan

আফগানিস্তানে তালিবানের নয়া দণ্ডবিধি: নারী অধিকারের চরম অবমাননা ও ‘দাসপ্রথা’র আইনি স্বীকৃতি

আন্তর্জাতিক

তালিবান শাসিত আফগানিস্থানে জারি হলো এক বিতর্কিত ও কঠোর দণ্ডবিধি। যা দেশটিকে মধ্যযুগীয় বর্বরতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে মনে করছেন মানবাধিকার কর্মীরা। তালিবানের সর্বোচ্চ নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজ়াদার স্বাক্ষরিত ১১৯ অনুচ্ছেদের এই নতুন আইনি নথিতে নারীদের অবস্থানকে প্রকারান্তরে ‘দাসে’র পর্যায়ে নামিয়ে আনা হয়েছে এবং সমাজে লিঙ্গ বৈষম্যের দিক তৈরি করা হয়েছে।
নতুন এই দণ্ডবিধিতে আফগান সমাজকে চারটি স্তরে ভাগ করা হয়েছে। প্রথমে ধর্মীয় নেতা বা ওলামা তালিবান শাসনে তাঁরাই সর্বেসর্বা। কোনো অপরাধ করলে তাঁদের সর্বোচ্চ শাস্তি কেবল ‘উপদেশ’ বা মৌখিক সতর্কতা। অভিজাত শ্রেণি প্রভাবশালী ও ধনী। এই ব্যাক্তিদের ব্যক্তিদের অপরাধের ক্ষেত্রে বড়জোর আদালত থেকে সমন বা উপদেশ দেওয়া হবে। মধ্যবিত্ত শ্রেণি, এদের অপরাধের জন্য কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। নিম্নবিত্ত শ্রেণি, সমাজের এই স্তরের মানুষদের জন্য কারাদণ্ডের পাশাপাশি শারীরিক নির্যাতন ও বেত্রাঘাতের মতো কঠোর শাস্তির কথা বলা হয়েছে।
এই আইনি কাঠামো অনুযায়ী, অপরাধের গুরুত্বের চেয়ে অপরাধীর সামাজিক পরিচয়ই শাস্তির মাত্রা নির্ধারণ করবে।
মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলোর মতে, এই দণ্ডবিধি প্রকৃতপক্ষে আফগানিস্তানে ‘দাসপ্রথা’কে পুনরুজ্জীবিত করছে। নথিতে বারবার ‘দাস’ শব্দের উল্লেখ পাওয়া গেছে।
নতুন দণ্ডবিধিতে স্বামীদের অনুমতি দেওয়া হয়েছে যে, তারা তাদের স্ত্রীদের শাস্তি দিতে পারবেন। শর্ত কেবল একটাই মারের কারণে যেন হাড় না ভাঙে বা শরীরে কোন প্রকাশ্য ক্ষত তৈরি না হয়। এক কথায় বলা যেতে পারে সামন্ততান্ত্রিক এবং পুরষতান্ত্রিক মনোভাব এই নতুন বিধির প্রতিটা ছত্রে স্পষ্ট হয়েছে।
বলা হয়েছে স্বামীর হাতে মারাত্মক নির্যাতনের শিকার হলেও নারী কেবল তখনই বিচার চাইতে পারবেন, যদি তিনি সম্পূর্ণ পর্দা বজায় রেখে এবং একজন পুরুষ অভিভাবককে সঙ্গে নিয়ে আদালতে হাজির হতে পারেন।
মজার বিষয় হলো, অভিযুক্ত স্বামীই যদি সেই নারীর একমাত্র বৈধ অভিভাবক হন, তবে অভিযোগ জানানো অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে। আর যদি দোষ প্রমাণিত হলেও স্বামীর সর্বোচ্চ শাস্তি হবে মাত্র ১৫ দিনের কারাদণ্ড।
অনুচ্ছেদ ৩৪ অনুযায়ী, কোন নারী যদি স্বামীর অনুমতি ছাড়া বারবার বাবার বাড়ি বা আত্মীয়ের বাড়িতে যান এবং স্বামীর অনুরোধ সত্ত্বেও ফিরে না আসেন, তবে ওই নারী এবং তার আশ্রয়দাতা আত্মীয়দের তিন মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
কাবুলের এক আইনি উপদেষ্টা জানিয়েছেন, এই নতুন বিধি পূর্ববর্তী সরকারের আমলে পাওয়া সামান্য নারী সুরক্ষা অধিকারগুলোকেও ধূলিসাৎ করে দিয়েছে। আগে যেখানে গার্হস্থ্য হিংসার জন্য কঠোর শাস্তির বিধান ছিল, এখন সেখানে হিংসতাকেই আইনি রূপ দেওয়া হলো।

Comments :0

Login to leave a comment