katwa Rail Hawker

কাটোয়ায় হকারমুক্তের ফরমান জারি, পেশা বাঁচানোর আবেদন হকারদের

জেলা

কর্পোরেটপন্থী সরকারের রেলহকার উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত বলপূর্বক কার্যকর করার প্রক্রিয়া শুরু করতে চলেছে রেল প্রশাসন। কাটোয়া রেল প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে থাকা ২টি ফাঁকা রেল কামরায় গত ১৫ ফেব্রুয়ারি ভোর পাঁচটা নাগাদ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাকে অজুহাত হিসাবে খাড়া করে কাটোয়া স্টেশন হকারমুক্ত করার এবং ট্রেনে হকারি না করার ফরমান জারি করেছে রেল প্রশাসন। অভিযোগ, রেল হকারদের ওপর জোর করে রেল পুলিশ ও রেল প্রশাসন তাদের অপদার্থতাকে আড়াল করতে চাইছে। 
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাস্থলের ঢিল ছোঁড়া দূরত্বের মধ্যে রেল পুলিশের দপ্তর। সেখানে ২৪ ঘণ্টা পুলিশ পাহারা থাকার নিয়ম। তা সত্ত্বেও এই ঘটনা ঘটল কেমন করে? গোটা রেলস্টেশন সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারিতে রয়েছে। এত সত্ত্বেও কেন রেল পুলিশ পারল না এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা এড়াতে? কোনও সদুত্তর নেই রেল কর্তৃপক্ষের কাছে। 
রেল স্টেশনে সারা রাত দাঁড়িয়ে থাকা ফাঁকা ট্রেন কম্পার্টমেন্টে তালা লাগানোর নিয়ম। রেলের কর্মী সংকোচনের বহরে তা এখন উঠে গেছে। আর পি এফ/জিআরপির নজরদারি তেমনভাবে নেই। রেল পরিষেবা এবং নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় রেলকর্মী নেই। রেলের স্থায়ী নিয়োগ কার্যত বন্ধ। অব্যবস্থার চূড়ান্তে ভারতীয় রেল। 
কাটোয়ায় অগ্নিকাণ্ডের পরে নবদ্বীপ স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা রেল কম্পার্টমেন্টেও আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে।
শুধু হকারদের রুজি রোজগারের উপর আঘাত দিয়ে রেল পরিষেবা ঝকঝকে তকতকে করার কুযুক্তি খাড়া করা যাবে না। মন্তব্য নিত্যযাত্রী সুরেশ দাসের। রেল হকারদের ওপর যাত্রীরাও অনেকটা নির্ভরশীল। 
রেল পুলিশ কি কাটোয়া স্টেশনকে কেন্দ্র করে লক্ষ লক্ষ টাকা বেআইনিভাবে তোলা তোলার কাজেই ব্যবহৃত হবে? প্রশ্ন ভুক্তভোগী রেল হকার, নিত্য যাত্রীদেরও।
কাটোয়া রেল স্টেশনে কর্তব্যে গাফিলতির জন্য অবিলম্বে রেল পুলিশ ও  রেল প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট অফিসারদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। যাত্রীদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিতে হবে। এই দাবিতে সরব কাটোয়ার মানুষ।
নিজেদের রুটি রুজির স্বার্থে শুক্রবার সকাল থেকেই সব হকার একযোগে কাটোয়া স্টেশন থেকে হকারি করার কাজে যুক্ত হবেন বলে জানিয়েছেন সিআইটিইউ অনুমোদিত পশ্চিমবঙ্গ রেল হকার্স ইউনিয়নের পূর্ব বর্ধমান জেলা সম্পাদক বিশ্বজিৎ প্রামাণিক। তিনি হকারদের সতর্ক থাকার আবেদন জানিয়ে বলেন, সরকারকে বিকল্প পেশার ব্যবস্থা করতে হবে অন্যথায় তাঁরা তাঁদের পেশার অধিকার ছাড়বেন না। প্রয়োজনে বড় আন্দোলন হবে। 
রেল হকারদের অভিযোগ, এই বিপদের দিনে তাঁদের সাথে নেই কাটোয়ার ৩০ তৃণমূল বিধায়ক। কাটোয় থেকে নির্বাচিত তৃণমূল সাংসদ সংসদে একটি কথাও বলেন না তাঁদের জন্য। অথচ অতীতে বামফ্রন্ট সরকারের সময়ে সাংসদ, বিধায়করা বহুবার ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন গরিব শ্রমজীবীদের পেশা রক্ষায়। গরিব রেল হকারদের পেশাকে বাঁচিয়ে রাখার আন্দোলনে সকল শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষকে পাশে থাকার আবেদন জানানো হয়েছে।

Comments :0

Login to leave a comment