DA Case

ডিএ মামলায় ঔদ্ধত্যকে সুপ্রিম চপেটাঘাত

উত্তর সম্পাদকীয়​

শ্যামল কুমার মিত্র       
২০১২ সালের ১০ জানুয়ারি মমতা সরকার পুলিশ কর্মীদের ইউনিয়ন/অ্যাসোসিয়েশন  করার অধিকার কেড়ে নিলেন, যে অধিকার পুলিশকর্মীরা অর্জন করেছিলেন ১৯২৩ সালে,ব্রিটিশ শাসনকালে৷। স্পষ্ট হলো, মমতা সরকার  কর্মীদের অধিকারের প্রশ্নে ব্রিটিশ সরকারের থেকেও ভয়ঙ্কর৷ এরপর আরও বেশ কিছু দপ্তরে ইউনিয়ন/অ্যাসোসিয়েশন করা নিষিদ্ধ হলো। যথেষ্ট দ্রুততার সঙ্গে কর্মচারীদের দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অর্জিত সমস্ত গণতান্ত্রিক ও ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার হরণ হলো। সরকার  প্রতিহিংসামূলক বদলি, ডিটেইলনেন্ট, শো-কজ, সাসপেনশন, মিথ্যা মামলা, প্রশাসনিক হয়রানি, কম্পালসারি ওয়েটিং এই সব অস্ত্রগুলিকে সুনামির কায়দায় ব্যবহার করা হতে থাকল আন্দোলন দমনে , প্রতিবাদীদের শবক শেখাতে। সব থেকে আতঙ্কের বিষয় হয়ে দাঁড়ালো, পুলিশ-প্রশাসনের সঙ্গে কর্মচারী সংগঠনের ছদ্মবেশে শাসক দলের গণসংগঠন 'রাজ্য সরকারি কর্মচারী ফেডারেশন' সরাসরি কর্মচারী আন্দোলন ও আন্দোলন সংগঠক এবং প্রতিবাদী কর্মচারীদের বিরুদ্ধে চরম শত্রুতামূলক অবস্থান নিলেন। ২০১২ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আহুত ধর্মঘট ভাঙতে সরকার বেতন বন্ধ সহ 'ব্রেক অব সার্ভিস' -এর মতো অস্ত্রও প্রয়োগ করার নির্দেশ জারি করলেন। এ সবই পশ্চিমবঙ্গের সরকারি প্রশাসনে,আক্ষরিক অর্থে,নজিরবিহীন ৷ ফলে সামগ্রিকভাবে কর্মচারী সমাজে একটা 'হিম শীতল আতঙ্ক' এর পরিবেশ তৈরি করা হলো ৷ বস্তুত এই শাসক দল ক্ষমতায় আসার আগে কর্মী সমাজ কখনো এমন ভয়ঙ্কর আতঙ্করাজের কবলে পড়েননি, তাই এই নতুন আতঙ্করাজ তাঁদের সঙ্গত কারণেই ভীত-সন্ত্রস্ত করে তুলেছে। এমনটা মনে করার কোনও কারণ নেই যে এখন পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। বরং কঠোর বাস্তব হলো এটাই , সরকার সমর্থক সংগঠনের নয়া নেতৃত্ব এই আতঙ্করাজকে প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠা দিতে পেরেছে। এই পরিস্থিতিতে আহুত আন্দোলন কর্মসূচিতে কর্মী সমাগমের স্বল্পতা আন্দোলন সংগঠকদের আতঙ্কিত করে তোলে, কারণ আন্দোলনে সফলতা অর্জনের ক্ষেত্রে 'সংখ্যা' অবশ্যই একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় । এই অবস্থায় একইসঙ্গে কর্মীসমাজ ও সরকারকে স্পষ্ট বার্তা দিতে এবং অবশ্যই ডিএ’র অধিকারকে আইনি প্রতিষ্ঠা দিতে নিতান্তই 'কৌশলগত অবস্থান' হিসাবে স্যাটে ২০১৬ সালে 'কনফেডারেশন অব স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজ অ্যান্ড আদার্স ভার্সেস গভর্নমেন্ট অব ও.বে. অ্যান্ড আদার্স' মামলা (যা ডিএ মামলা নামে পরিচিত)’র শুরু।                                                                                    
কর্মীদের ন্যায্য দাবি অনেক। সব দাবি পূরণে আদালতের দ্বারস্থ হওয়া যায় না। কারণ সব দাবি ,তা সে যতই যুক্তিগ্রাহ্য বা ন্যায্য হোক না কেন ,আদালতে বিচার্য নয়। সংবিধানের ৩০৯ নম্বর ধারাটা একটু দেখা যাক। Article 309 of the Indian Constitution empowers Parliament and State Legslatures to pass laws governing the recruitment and conditions of service for public servants.It also allows the President (for Union Sevices) and Governors ( for State Services) to make rules for these aspects until spcific legislation is enacted. These rules are sbject to the provisions of any subsequent Act of the Legislature. অর্থাৎ রাজ্য সরকারি কর্মীদের ক্ষেত্রে রাজ্য সরকার এবং কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকার কর্মীদের নিয়োগ এবং চাকরির শর্ত (বেতন-ভাতা সহ) নির্ধারণ করার এক এবং একমাত্র অধিকারী। অর্থাৎ সংবিধানের ৩০৯ নম্বর ধারা অনুসারে কেন্দ্র/ রাজ্য সরকার কোনও রুল তৈরি করলে, সেই রুল পরবর্তীতে যদি সরকার মানতে না চায়,একমাত্র তখনই সেই রুল কার্যকর করার দাবিতে আদালতে মামলা করা যায়,সংশ্লিষ্ট দাবির সপক্ষে সংবিধানের ৩০৯ নম্বর ধারা অনুসারে কোনও সরকারি রুল না থাকলে,তার বিচার আদালতের এক্তিয়ারের বাইরে ৷  বামফ্রন্ট সরকারের অর্থমন্ত্রী ড. অসীম দাশগুপ্ত সংবিধানের ৩০৯ নম্বর ধারায় 'রিভিশন অব পে অ্যান্ড অ্যা লাউন্সেস রুলস----২০০৯'(রোপা রুলস---২০০৯) এ সুনির্দিষ্ট সংস্থান রেখে গিয়েছিলেন যে রাজ্যকর্মীরা  All India Consumers Price Index (A.I.C.P.I)অনুসারে ডিএ পাবেন। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য মমতা ব্যানার্জির সরকার 'রোপা রুলস... ২০১৯' এই ডিএ শব্দটাই উল্লেখ করেন ন।৷ ড. দাশগুপ্ত এই সাংবিধানিক প্রতিশ্রুতি লিপিবদ্ধ করে গিয়েছিলেন বলেই এই ডিএ মামলা করা সম্ভব হয়েছে। তিনি এই সাংবিধানিক সংস্থান কর্মীদের উপহার দিয়ে না গেলে,মামলাও হতো না,আজকের এই ঐতিহাসিক জয়ও পেতেন না কর্মী সমাজ ৷ তাই ড. অসীম দাশগুপ্ত ও পূর্বতন বামফ্রন্ট সরকারকে কৃতজ্ঞতা জানাতেই হয় ৷ ঐ সময় কোনও সিনিয়র আইনজীবি মামলার দায়িত্ব নিতে চাইছিলেন না,কারণ কেউই সরকারের ব'কলমে শাসক দলের বিরাগভাজন হওয়ার ঝুঁকি নিতে রাজি ছিলেন না। স্যাটের একজন প্রখ্যাত আইনজীবি আমাদের বেশ কয়েকমাস ঘুরিয়ে বললেন,"প্রবল চাপ আছে ৷ মামলা নিতে পারব না।" সেই সময় সর্দার আমজাদ আলি এই মামলা হাতে নেন, মামলার পিটিশন তৈরি করেন। এরপরে আমরা মামলায় আরও একজন সিনিয়র অ্যাডভোকেট বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যকে যুক্ত করি। এর জন্য কোনও ব্যক্তি/ সংগঠনকে মামলায় যুক্ত হওয়ার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু রাজরোষ ও রাজ প্রলোভন উপেক্ষা করে অর্থ দপ্তরের কর্মী (প্রয়াত) স্বপন দে মামলায় যুক্ত হন। তাঁর জন্যই বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য, ফিরদৌস শামিম, গোপা বিশ্বাসদের মতো অ্যাডভোকেটরা মামলায় যুক্ত হন। এক সময় (প্রয়াত) রমাপ্রসাদ সরকার নামে এক আইনজীবি কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির এজলাসে একটি জনস্বার্থ মামলা করে দাবি করেন ,"দেশের শ্রমশক্তির ৯৮% বেসরকারি ক্ষেত্রে কর্মরত যাদের মুদ্রাস্ফীতির ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয় না। তাই কেন্দ্র,রাজ্য... কোনও সরকারি কর্মীকে ডিএ দেওয়া ...যাবে না।"রমাপ্রসাদ বাবু আমাদের বিরুদ্ধে মামলা করেন,কিন্তু যে মুনশিয়ানায় সরকারি কর্মীদের ডিএ না দেওয়ার পক্ষে যুক্তি সাজিয়েছিলেন তথ্য,পরিসংখ্যান,একাধিক রায় সহযোগে তার প্রশংসা করতেই হয়।
আমরা স্যাটে মামলা করি ২০১৬ সালে৷ ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ তে স্যাটের মাননীয় বিচারপতি অমিত তালুকদার এবং অনুপকুমার চন্দের ((প্রশাসনিক সদস্য) ডিভিসন বেঞ্চ রায় দেন,"As it is found by the Tribunal no one can have any legal right for staking a claim for D.A.,payment of the same being remaining in the sole discretionary realm of the Employer. "এটিই আজ পর্যন্ত বর্তমান সরকারের অবস্থান। এই রায়ের পর,আক্ষরিক অর্থে,কর্মীসমাজের রোষের মুখে পড়তে হয় আমাদের। আমরা হাইকোর্টে এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করি মাননীয় বিচারপতি নিশীথা মাত্রে এবং তপোব্রত চক্রবর্তীর ডিভিসন বেঞ্চে। এই বেঞ্চের চাপে রাজ্য সরকার ১ জানুয়ারি ২০১৮ থেকে অতিরিক্ত ১৫% ডিএ দিতে বাধ্য হন (সরকার সমর্থক কর্মীদের  সভায় এই ঘোষণার সময় মাননীয়া আমাদের কুকুর-বেড়ালের সঙ্গে তুলনা করেন। তিনি তাঁর শিক্ষা,রুচি,সংস্কৃতির সঙ্গে সঙ্গতি রেখেই নিশ্চয় তাঁর প্রশাসনের কর্মীদের কুকুর,বেড়াল আখ্যা দিয়েছেন,এ নিয়ে কিছ আর বলছিনা )। কিন্তু শুনানি শেষের পরেও অবসরের কারণ দেখিয়ে এই বেঞ্চ রায় দিলেন না। কেন দিলেন না তা আজও আমাদের কাছে অবোধ্য। মামলা আবার প্রথম থেকে শুরু হলো মাননীয় বিচারপতি  দেবাশীষ করগুপ্ত এবং শেখর ববি শরাফের ডিভিসন বেঞ্চে যে বেঞ্চের চাপে রাজ্য সরকার ১ জানুয়ারি ২০১৯ থেকে। অতিরিক্ত ২৫% ডি.এ.দিতে বাধ্য হন। বস্তুত এই দুই ডিভিসন বেঞ্চ রাজ্যকে বাধ্য করেছিলেন  ৪০%(১৫%+২৫%)অতিরিক্ত ডিএ দিতে।  ২০২২ সালে যে দুটি মামলা কলকাতা হাইকোর্টে 'বর্ষসেরা' নির্বাচিত হয়েছিল তার মধ্যে অন্যতম এই ডিএ মামলা৷  সর্দার আমজাদ আলি এবং বিকাশরঞ্জন  ভট্টাচার্যের অতুলনীয় যুগলবন্দি এবং ফিরদৌস শামিম, গোপা বিশ্বাস,মাসুম আলি সর্দার, প্রবীর চাটার্জির অনবদ্য সঙ্গত এই মামলায় স্যাটে(২টি) এবং হাইকোর্টে(৪টি) ছয়-ছয়টি ক্ষেত্রে দুটি ঐতিহাসিক রায় হয় (১)"D.A. is a legally enforceeable right of the Employees."(৩১.০৮.২০১৮,মাননীয় বিচারপতি দেবাশীষ করগুপ্ত ও শেখর ববি শরাফের ডিভিসন বেঞ্চ)(২) "D.A. is a legally enforceable fundamental right of the Employees.(২০.০৫.২০২২, মাননীয় বিচারপতি হরিশ ট্যান্ডন এবং রবীন্দ্র নাথ সামন্তের ডিভিসন বেঞ্চ)" রাজ্য সুপ্রিম কোর্টে যায়৷ গত ২৮.১১.২০২২ থেকে সুপ্রিম কোর্টের মাননীয় বিচারপতি হৃষিকেষ রায়, দীনেশ মাহেশ্বরীদের ডিভিসন বেঞ্চ গুলি, কোনও এক অজানা কারণে মামলা শুনছিলেন না,মামলা 'তারিখ-পে-তারিখ' এর খপ্পরে পড়ে গিয়েছিল। আর একজন মাননীয় বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত সমাজমাধ্যমে কর্মীদের একাংশের অতি উৎসাহের কারণ দেখিয়ে মামলা থেকে সরে যান। এটি মামলা ছাড়ার কোনও যুক্তি সঙ্গত কারণ হতেই পারে না। আসলে তিনিও মামলা শুনতে চান নি। কিন্তু মাননীয় বিচারপতি সঞ্জয় কারোল এবং সন্দীপ মেহতার বেঞ্চ মামলাটি শুনে একটি অন্তর্ববর্তী নির্দেশে 'রোপা--২০০৯' এর বকেয়া ডিএ’র ২৫% দিতে রাজ্যকে নির্দেশ দেন যে নির্দেশ সরকার মানেননি। তারপর গত ৪ আগস্ট, ২০২৫ মামলা মাননীয় বিচারপতি সঞ্জয় কারোল এবং পিকে মিশ্রের বেঞ্চে যায়। বেঞ্চ মামলার ম্যারাথন শুনানি করে  গত ৫ ফেব্রুয়ারি ঐতিহাসিক রায়ে বলেন,"(১)অবিলম্বে ২০০৮ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত বকেয়া ডিএ/ডিআর’র ২৫% দিতে হবে রাজ্যকে। (২) তাঁরা সুপ্রিম কোর্টের একজন প্রাক্তন বিচারপতি, ঝাড়খণ্ড ও উত্তরাখণ্ড হাইকোর্টের দু’জন প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি এবং সিএজি (তাঁকে না পাওয়া গেলে একজন সর্বোচ্চস্তরের সরকারি আধিকারিক) কে নিয়ে ৪ সদস্যের এক উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গড়ে দিয়েছেন যাঁরা বাকি ৭৫% বকেয়া কটি কিস্তিতে দেবেন রাজ্য তা স্থির করে গোটা বকেয়া ডিএ/ডিআর প্রদান প্রক্রিয়ায় নজরদারি চালাবেন। এই নির্দেশে আমাদের মনে হয়েছে মহামান্য সুপ্রিম কোর্ট সুপ্রিম নির্দেশ রুপায়ণে রাজ্য সরকারের সদিচ্ছার উপর ভরসা করতে পারেননি,তাঁরা নিজেরাই বিষয়টির নজরদারির দায়িত্ব নিয়েছেন। এটি রাজ্য সরকারের প্রতি সুপ্রিম অনাস্থার প্রকাশ। বিষয়টি রাজ্য সরকারের পক্ষে অমর্যাদার। (৩) বাকি ৭৫% এর প্রথম কিস্তি ৩১-এ মার্চের মধ্যে দিতে হবে। (৪) ১৫ এপ্রিল রাজ্যকে আদালতে কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট দিতে হবে। ১৫ মে পরবর্তী শুনানি (৫) ডিএ মুদ্রাস্ফীতির অনুপাতে পরিবর্তনশীল এবং ডিএ প্রদানের সূচক সর্বভারতীয় গড় পণ্যমূল্য সূচক (A I CP I),  এই সুপ্রিম মান্যতা আমাদের বড় জয়। অনেকেই সন্দেহ প্রকাশ করছেন রায় তো হলো,সরকার মানবে? সুপ্রিমকোর্ট শুধু 'রায়'দিয়েই খান্ত হননি,রায় কার্যকর করার বিষয়ে নজরদারির সংস্থান রেখেছেন। বকেয়া ডিএ প্রদানের সুনির্দিষ্ট সময়সূচি ও কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট জমার বিষয় রেখেছেন। সাধারণত এ ধরনের ঘটনা ঘটে না। এরপরেও সন্দেহের কোনও অবকাশ নেই। রাজ্য সরকার রিভিউ পিটিশন করতেই পারেন,কিন্তু তাতে 'রায়' এর ১ টি শব্দও বদলাবে না এটাই আইন।  ষষ্ঠ বেতন কমিশন তাদের রিপোর্টে নজিরবিহীন ভাবে ডিএ প্রদানকে কর্মীদের  'অধিকার' বলতে অস্বীকার করেছেন।' রোপা-২০১৯' এ 'ডিএ' শব্দটাই নেই। এই সরকার এ পর্যন্ত কর্মীদের ডিএ, পেনশনারদের ডিআরনা দিয়ে কমবেশি ২,৩০,০০০ কোটি টাকা সাশ্রয় করেছেন  ২০১১-১২ অর্থবর্ষ থেকে ২০২০-২১ অর্থবর্ষ পর্যন্ত বেতন-পেনশন খাতে বরাদ্দের ২৫,২৬২ কোটি টাকা ,এ বাবদ কেন্দ্রীয় অর্থ কমিশনের ৯,০০০ কোটি টাকা (সর্বমোট ৩৪,২৬২ কোটি টাকা) রাজকোষে অব্যয়িত অবস্থায় পড়ে আছে। কেন্দ্র ও বেশির ভাগ রাজ্য সরকার ৫৮% হারে ডিএ/ডিআর দিচ্ছেন,এ রাজ্যে তা ১৮%৷ বকেয়া যখন ৪০% ,তখন বাজেটে ১ এপ্রিল থেকে ৪% ডিএ/ ডিআর ঘোষণা করে মাননীয়া যে রাজ্য কর্মীদের এখনো তাঁর ব্যক্তিগত জমিদারির প্রজা বলে মনে করেন সেটাই প্রমাণ করেছেন। স্যাট ২ বার, হাইকোর্ট ৪ বার,সুপ্রিম কোর্টের সর্বশেষ রায় মাননীয়া মমতা বন্দোপাধ্যায়ের ঔদ্ধত্য এবং কর্মী বিদ্বেষী মানসিকতার বিরুদ্ধে ৮২ সিক্কার থাপ্পড় কষিয়েছেন। ডিএ/ডিআর যে কোনও স্বঘোষিত সম্রাজ্ঞীর দয়ার দান নয়,'আইনিভাবে বলবৎযোগ্য অধিকার'— এই সত্য আইনিভাবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে।

Comments :0

Login to leave a comment