Nadia

মায়ের চক্ষুদান করায় হামলা, গ্রেপ্তার পরিবারই! বিক্ষোভের ডাক বিজ্ঞানকর্মীদের

রাজ্য জেলা

মায়ের ইচ্ছা অনুযায়ী মৃত্যুর পর তাঁর চক্ষুদান করেন পুত্র এবং পরিবার। পুত্র নিজে বিজ্ঞানকর্মীও। ছিল কাগজপত্রও। স্থানীয় একাংশের মিথ্যা অভিযোগের জেরে হেনস্তার শিকার হয়েছে পরিবারই। পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে পরিবারের সদস্যদের পুলিশের ভূমিকায় রয়েছে তীব্র ক্ষোভও।
পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চ, গণদর্পণের মতো একাধিক সংগঠন বলেছে যে এই ঘটনা এবং পুলিশের ভূমিকায় বিজ্ঞান মনস্কতা এবং মরণোত্তর চুক্ষদান বা দেহদানের মতো আন্দোলন বাধার মুখে পড়বে। মঙ্গলবার কোতোয়ালি থানায় পরিবারের সদস্যদের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভের ডাকও দেওয়া হয়েছে।
গত রবিবার নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরের দিগনগর গ্রামের ঘটনা। সংখ্যালঘু পরিবারের ওই মহিলার মৃত্যু হয় বার্ধক্যজনিত কারণে। তাঁর শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী মরণোত্তর চক্ষুদান করে পরিবার। সমস্ত নিয়ম মেনেই পরিবারের সদস্যরা লিখিত অনুমতি দেন। তার ভিত্তিতে কর্নিয়া দানের প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়। সেই সময় বাড়িতে এলাকার বহু মানুষ ছিলেন। এই কাজ নির্বিঘ্নেই শেষ হয়। 
এরপর রীতি মেনে দেহ সমাধিস্থ করার প্রক্রিয়া চলতে থাকে। সেই সময় স্থানীয় একাংশ অশান্তি বাঁধায়। ফলে বাধ্য হয়ে পুলিশকে খবর দেয় পরিবার।
জানা গিয়েছে, এই লোকজন মৃতার চক্ষু, কিডনি সহ নানা অঙ্গ চুরির অভিযোগ দায়ের করেছে স্থানীয় থানায়। এদিকে পুলিশের সামনেই বিক্ষোভ চলতে থাকে। এদের কয়েকজন পরিবারের উপর চড়াও হয়। চলে ঘরবাড়ি ভাঙচুরও। অভিযোগ, এই পরিবারকে পরিবারকে রক্ষা করার দোহাই দিয়ে মৃতার ৫ সন্তান (তার মধ্যে ৪ জন মহিলা) সহ ৮/১০ জনকে সঙ্গে করে কৃষ্ণনগর কোতোয়ালি থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। ময়নাতদন্তের দোহাই দিয়ে বার করে নিয়ে যাওয়া হয় মৃতার দেহও। এরপর থানায় প্রয়োজনীয় সমস্ত কাগজপত্র নিয়ে পরিবারের অন্যান্যদের সঙ্গে স্থানীয় বিজ্ঞানকর্মীরা পৌঁছান থানায়। কিন্তু পুলিশ টালবাহানা চালাতে থাকে। ছাড়তে দেরি করে পরিবারের সদস্যদের। আবার মারধর ও ঘর ভাঙচুরের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ নিতে পরিবারকে অপেক্ষা করানো হয় বলে অভিযোগ।
রবিবার গভীর রাতে থানার আধিকারিক জানান, মৃতার অঙ্গ চুরির অভিযোগের ভিত্তিতে আটক করা সকলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার কৃষ্ণনগর আদালত থেকেই রিলিজ করাতে হবে। ময়নাতদন্তের পরেই দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে। 
ঘটনা প্রসঙ্গে গণদর্পণের সাধারণ সম্পাদক সুদীপ্ত সাহা রায়, বিজ্ঞানকর্মী বিমল সরকার,  দীপক রায়, কিরীটি সাহা সহ সকল বিজ্ঞানকর্মী ও বিজ্ঞান সংগঠনের একাধিক কর্মী ও সংগঠক ক্ষোভ জানিয়েছেন। তাঁরা বলেছেন, পুলিশের এই ভূমিকায় মরণোত্তর চক্ষুদানের মত একটি মহৎ কাজের জন্য এই পরিবারের চূড়ান্ত হেনস্তার মুখে পড়তে হলো। আগামী দিনে মরণোত্তর চক্ষুদান, দেহদান, অঙ্গদানের মতো মহৎ কর্মসূচি বাধার মুখে পড়তে পারে এমন ঘটনায়। বিজ্ঞান মানসিকতার প্রসার আন্দোলনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী মৌলবাদী শক্তির একাংশ বলে অনুমান।  
বিজ্ঞান কর্মী ও সমাজকর্মী আবির চাঁদকে সপরিবারে নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে মঙ্গলবার বিকেল চারটের সময় কৃষ্ণনগর কোতোয়ালি থানার সামনে প্রতিবাদ সভার আহ্বান জানানো হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চ, জলঙ্গি নদী সমাজ, অঞ্জনা বাঁচাও কমিটি সহ বিজ্ঞান ও সমাজকর্মী সংগঠন সমূহের যৌথ মঞ্চের পক্ষ থেকে। বিজ্ঞান মনস্কতা প্রসার ও মরণোত্তর অঙ্গদান আন্দোলনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী শক্তির বিরুদ্ধে পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চ নদীয়া জেলা কমিটি তীব্র ক্ষোভ জানিয়েছে। সপরিবারে আমির চাঁদের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করছে।

একপ্রকার নিরুপায় হয়েই পরিবারের তরফে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ এলে, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সহ সম্পূর্ণ পরিস্থিতি পুলিশের কাছে ব্যাখ্যা করা হয়। সেই সময় পুলিশের সামনেই বিক্ষোভরত উশৃংখল কয়েকজন পরিবারের উপর চড়াও হয়, চলে ঘরবাড়ি ভাঙচুরও। শুধুমাত্র পরিস্থিতির দোহাই দিয়ে পুলিশ  পরিবারকে রক্ষা করার দোহাই দিয়ে মৃতার ৫ সন্তান(৪ জন মহিলা)সহ ৮/১০ জনকে সঙ্গে করে কৃষ্ণনগর কোতোয়ালি থানায় নিয়ে যায়। ময়নাতদন্তের দোহাই দিয়ে বার করে নিয়ে যাওয়া হয় মৃতার দেহও। এরপর থানায় প্রয়োজনীয় সমস্ত কাগজপত্র নিয়ে পরিবারের অন্যান্য দের সাথে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানকর্মীরা পৌছলে পুলিশ নানা অছিলায় ওনাদের রিলিজ প্রক্রিয়ায় দেরি করতে থাকে বলে অভিযোগ। মারধোর ও ঘর ভাঙচুরের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ নিতে পরিবারকে অপেক্ষা করাতে থাকে বলে অভিযোগ। হামলাকারি গ্রামের লোকজনের একাংশ থানার বাইরে এসে জড়ো হয়। তাদের তরফেও নাকি মৃতার চক্ষু, কিডনি সহ নানা অঙ্গ চুরির অভিযোগ দায়ের করা হয়। পরে গভীর রাতে থানার আধিকারিক জানান, মৃতার অঙ্গ চুরির অভিযোগের ভিত্তিতে আটক করা সকলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার কৃষ্ণনগর আদালত থেকেই রিলিজ করাতে হবে। ময়নাতদন্তের পরেই দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে।

Comments :0

Login to leave a comment