Kota Building Collapse

কোটায় বাড়ি ধসে মৃত্যু কোচবিহারের পড়ুয়ার, আশঙ্কাজনক মা

জাতীয় রাজ্য

ছবি- অমিত কুমার দেব।

রাজস্থানের কোটায় নিটের কোচিং নিতে গিয়েছিলো কোচবিহার শহরের ১৪নং ওয়ার্ডের গুড়িয়াহাটি রোড সংলগ্ন পুরুষোত্তম পাড়ার ১৮বর্ষীয় অনরণ্য কর্মকার। সেখানেই একটি ক্যাফেতে মায়ের সাথে রাতের খাবার খেতে গিয়ে মর্মান্তিক মৃত্যু হলো তার। শনিবার রাতে অনরণ্য ও তার মা একটি ক্যাফেতে খেতে গিয়েছিলেন। তখন হঠাৎই এই বহুতল ক্যাফের ছাদ ভেঙে পড়ে। আর এই ছাদের নিচে চাপা পড়ে মৃত্যু হয় অনরণ্যের। গুরুতর জখম হন তার মা সুদীপ্তা কর্মকার। বর্তমানে তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন স্থানীয় একটি হাসপাতালে। এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা এলাকায়।
মৃত এই ছাত্রের বাবার নাম অভিজিৎ কর্মকার। তাঁর দুই সন্তান। মেয়ে বড় এবং ছেলে ছোট। মেয়ে নার্সিং ট্রেনিং সম্পন্ন করে বর্তমানে কর্মরত রয়েছে রাজ্যের বাইরে। ছেলে মাধ্যমিক পাশ করবার পর নিটের ট্রেনিং এর জন্য ভর্তি হয় রাজস্থানের কোটায়। তাঁর স্ত্রী ছেলের সাথেই থাকতেন বলে জানা গেছে। শনিবার গভীর রাতে অভিজিৎ কর্মকারের কাছে এই দুঃসংবাদ আসে। এরপর রাতেই তিনি রাজস্থানের কোটার উদ্দেশ্যে রওনা হন। এই ঘটনার খবর এসে পৌঁছানোর পর থেকেই শোকস্তব্ধ অভিজিৎ কর্মকারের প্রতিবেশীরা। 
প্রতিবেশীরা জানান, অনরণ্য কোটায় যেখানে থাকতো, সংশ্লিষ্ট এলাকায় নন-ভেজ খাবার পাওয়া খুব কষ্টসাধ্য। একারণেই এই ক্যাফেতে মাকে নিয়ে খেতে যায় সে। আর এখানেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে বলে জানান তারা।
কোটায় দুর্ঘটনায় কারণ হিসাবে প্রশাসনের প্রাথমিক রিপোর্টে অনুমান, ওই বহুতলের কাছাকাছি একটি খালি জমিতে নির্মাণ কাজের কারণে এই ধসের ঘটনা ঘটেতে পারে। গত আট দিন ধরে সেখানে নির্মাণ কাজ চলছিল মেশিনের দ্বারা খননও করা হচ্ছিল। খননের ফলে ভবনে ক্রমাগত কম্পন হচ্ছিল। এমনকি রেস্তোরাঁর কর্মীরাও তা বুঝতে পারছিলেন। সংবাদ মাধ্যমকে রেস্তোরার কর্মীরা জানিয়েছেন, তারা রেস্তোরাঁর মালিককে বিষয়টি জানিয়েছিলেন এবং প্লটের মালিকের সঙ্গেও কথা বলেছেন। মালিক প্রতিক্রিয়া দিয়ে বলেন নির্মাণের অনুমতি তিনি পেয়েছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মেশিন ড্রিলিং কাছাকাছি ভবনগুলিতে প্রভাব ফেলতে পারে। তাদের মতে, সেক্ষেত্রে মেশিন ব্যবহারের চেয়ে হাতে ড্রিলিং করা নিরাপদ। তবে পুলিশের প্রাথমিক রিপোর্টেই স্পষ্ট মারাত্মক অবহেলার কারণেই এই দুর্ঘটনা। জওহর নগর থানা এই বিষয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ঘটনার তদন্ত চলছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, অনুমতি ছাড়াই ভবনটি তৈরি করা হয়েছে।

Comments :0

Login to leave a comment