Post Editorial

শ্রম কোড: শ্রমিকের মুক্তি নাকি শৃঙ্খল

উত্তর সম্পাদকীয়​

দেবাশিস মিথিয়া

স্বাধীনতার পর থেকে শ্রমিকের অর্জিত সমস্ত শ্রম অধিকার আজ বিপন্ন। ২০২৫ সালে কার্যকর হওয়া শ্রম কোড আসলে শ্রমিকদের দাসে পরিণত করার এক চক্রান্ত। এটি শ্রমিকের অধিকার রক্ষার নয়, অধিকার কেড়ে নেওয়ার নীল নকশা। দৈনিক ৮ ঘণ্টার কাজকে ১২ ঘণ্টায় নিয়ে যাওয়া, মালিকপক্ষের সুবিধার্থে যখন-তখন ছাঁটাই বা ‘হায়ার অ্যা ন্ড ফায়ার’ ব্যবস্থাকে আইনি বৈধতা দেওয়া এবং ট্রেড ইউনিয়নের অধিকার কেড়ে নেওয়া – এর প্রতিবাদে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, দেশজুড়ে সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে।

শুধু শ্রম আইনই নয়, মনরেগা (MGNREGA) প্রকল্পের নাম ও কাঠামো পরিবর্তনের আড়ালে গ্রামীণ কর্মসংস্থানের অধিকারকে সঙ্কুচিত করা হচ্ছে। এই প্রকল্পের বরাদ্দ কমিয়ে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে জটিল সব কারিগরি নিয়ম; আসলে গরিবের কর্মসংস্থান ও মজুরি কেড়ে নেওয়ার এটি এক গভীর চক্রান্ত। এর বিরুদ্ধেও প্রতিবাদের ডাক দেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও লাভজনক রাষ্ট্রায়ত্ত বিমা সংস্থায় ১০০ শতাংশ বিদেশি পুঁজি এবং রেল, কয়লা ও ব্যাঙ্কের মতো জনপরিষেবাগুলোকে দেশি-বিদেশি পুঁজিপতিদের হাতে তুলে দেওয়ার প্রতিবাদেই খেটে খাওয়া মানুষের এই লড়াই। মনে রাখতে হবে, অন্যায় যখন নিয়ম হয়ে ওঠে, প্রতিরোধ তখন কর্তব্য হয়ে দাঁড়ায়। তাই আগামী প্রজন্মের স্থায়ী কর্মসংস্থান ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা করতে এবং স্বৈরাচারী শ্রমকোড ও জনবিরোধী বিলগুলো বাতিলের দাবিতে ১২ ফেব্রুয়ারির শিল্প ধর্মঘট সফল করতে সমাজের সকল স্তরের মানুষের শামিল হওয়া উচিত। 
জটিলতা কমানোর দোহাই দিয়ে পুরানো ২৯টি কেন্দ্রীয় শ্রম আইনকে একীভূত করে  চারটি প্রধান শ্রম  কোডে ভাগ করা হয়েছে, যা আসলে শ্রমিকের রক্ষাকবচগুলোকে দুর্বল করার  নয়া কৌশল। দেখে নেওয়া যাক সেগুলো কী কী।
এক, মজুরি কোড: আগে বিভিন্ন আইনে মজুরির সংজ্ঞা আলাদা ছিল, এখন একটি অভিন্ন সংজ্ঞা আনা হয়েছে। এর ফলে গ্র্যাচুইটি ও পিএফ গণনা সহজ হওয়ার দাবি করা হলেও, অনেক ক্ষেত্রে শ্রমিকের হাতে পাওয়া বেতনের পরিমাণ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।  কারণ, মূল বেতন (বেসিক পে)  মোট বেতনের ৫০ শতাংশ করার বাধ্যবাধকতায় পিএফ’র টাকা বাড়লেও, আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধির এই বাজারে শ্রমিকের হাতে পাওয়া নগদ বেতন বা ‘টেক হোম স্যালারি’ অনেকটাই কমে যাবে। ধরা যাক, আপনার মোট বেতন যদি ৩০,০০০ টাকা হয় এবং আগে আপনার বেসিক ছিল ৯,০০০ টাকা, তবে পিএফ কাটতো সেই ৯,০০০ টাকার ওপর। এখন নতুন নিয়মে আপনার বেসিক হতে হবে অন্তত ১৫,০০০ টাকা। ফলে পিএফ কাটবে এই ১৫,০০০ টাকার ওপর। এতে আপনার হাতে আসা নগদ টাকা কমে যাবে।
দুই, শিল্প সম্পর্ক কোড: এই কোডেই সব থেকে বড় আঘাতটি আনা হয়েছে। কোনও কারখানায় সরকারের অনুমতি ছাড়া ছাঁটাই বা লে-অফ করার কর্মী সংখ্যা ১০০ থেকে বাড়িয়ে ৩০০ করা হয়েছে। এছাড়া, যেকোনও শিল্পে ধর্মঘটে যাওয়ার অন্তত ১৪ দিন আগে নোটিস দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

তিন, পেশাগত নিরাপত্তা: সপ্তাহে ৪৮ ঘণ্টা কাজের সীমা বজায় থাকলেও, দিনে সর্বোচ্চ ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত শিফটের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এতে মালিকপক্ষ চাইলে শ্রমিককে দিনে ১২ ঘণ্টা কাজ করাতে পারবে, যদিও ওভারটাইমের জন্য দ্বিগুণ মজুরির কথা বলা হয়েছে। একইসাথে, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও যাতায়াত ব্যবস্থার পরিকাঠামো ছাড়াই নারীদের রাতের শিফটে (সন্ধ্যা ৭টা থেকে সকাল ৬টা) কাজ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যা নারী শ্রমিকদের ব্যক্তিগত জীবন ও নিরাপত্তাকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেবে।
চার, সামাজিক সুরক্ষা কোড: এই কোডে চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের স্থায়ী কর্মীদের সমান সুবিধা এবং মাত্র ১ বছর কাজ করলেই গ্র্যাচুইটি পাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, ভারতের ইতিহাসে প্রথম বারের মতো সুইগি-জোম্যাটোর মতো গিগ ও প্ল্যাটফর্ম কর্মীদের সরকারি সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনা হয়েছে।

কিন্তু নতুন শ্রম কোডের বিপদ অনেক। ভারতের শ্রম প্রশাসনে আমূল পরিবর্তন আনতে সরকার যে চারটি নতুন শ্রম কোড কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা নিয়ে শ্রমিক মহলে এবং বিশেষ করে ট্রেড ইউনিয়নগুলোর মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এই বিরোধিতার অন্যতম প্রধান কারণ হলো শিল্প সম্পর্কিত কোডে (আইআরসি) আনা “হায়ার অ্যান্ড ফায়ার” নীতি অর্থাৎ সহজে যেমন নিয়োগ করা যাবে তেমনই ছাঁটাই করাও যাবে। পুরানো ‘শিল্প বিরোধ আইন, ১৯৪৭’ অনুযায়ী, কোনো কারখানায় ১০০-র বেশি কর্মী থাকলে মালিকপক্ষ চাইলেই হুট করে কারখানা বন্ধ বা গণছাঁটাই করতে পারতেন না; এর জন্য অন্তত ৬০-৯০ দিন আগে সরকারকে কারণ দর্শাতে হতো এবং সরকারের কাছ থেকে লিখিত অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক ছিল। নতুন নিয়মে কোনও প্রতিষ্ঠানের কর্মী ছাঁটাই বা কারখানা বন্ধের ক্ষেত্রে সরকারের আগাম অনুমতি নেওয়ার সীমা ১০০ থেকে বাড়িয়ে ৩০০ করা হয়েছে। এর ফলে বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ভারতের প্রায় ৯০ শতাংশেরও বেশি শিল্প প্রতিষ্ঠান এখন সরকারি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে আসবে এবং মালিকপক্ষ যেকোনও সময় কোনও দায়বদ্ধতা ছাড়াই কর্মী ছাঁটাই করতে পারবেন। এই আশঙ্কার বাস্তব ভিত্তি পাওয়া যায় ২০১৪ সালের রাজস্থান সরকারের সিদ্ধান্তে, যেখানে প্রথমবার এই ৩০০-র সীমা চালু করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, এই সংস্কারের ফলে সেখানে নতুন কর্মসংস্থান বা বিনিয়োগ উল্লেখ্যযোগ্যভাবে বাড়েনি, বরং শ্রমিকদের মধ্যে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও যথেচ্ছ ছাঁটাইয়ের ঘটনা বেড়েছে।

শ্রমিকদের আপত্তির দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ জায়গাটি হলো দৈনিক ১২ ঘণ্টার কাজের বোঝা। যদিও পেশাগত নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য কোডে সপ্তাহে কাজের সীমা ৪৮ ঘণ্টাই রাখা হয়েছে, কিন্তু দৈনিক শিফট ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত করার নমনীয়তা দেওয়া হয়েছে। সমালোচকদের মতে, এটি আসলে ১৯ শতকের শিল্প বিপ্লব আমলের অমানবিক শ্রম ব্যবস্থাকেই ফিরিয়ে আনা। ১২ ঘণ্টা কাজের পর একজন শ্রমিকের নিজের পরিবার, বিশ্রাম বা সামাজিক জীবনের জন্য কোনও সময় অবশিষ্ট থাকে না, যা দীর্ঘমেয়াদে শারীরিক ও মানসিক অবসাদ তৈরি করে এবং কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে চীনের প্রযুক্তি সংস্থাগুলোতে প্রচলিত “৯৯৬” ( সকাল ৯টায় কাজ শুরু, রাত ৯টায় কাজ শেষ, সপ্তাহে ৬ দিনই কাজ) সংস্কৃতির করুণ পরিণতি আমরা দেখেছি, যেখানে তরুণ কর্মীদের মধ্যে হৃদরোগ ও আত্মহত্যার প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছিল। সম্প্রতি ভারতের তামিলনাড়ু বা কর্নাটকেও বড় বড় প্রযুক্তি কারখানায় এই নিয়ম চালুর চেষ্টা করা হলেও শ্রমিকদের প্রবল প্রতিবাদের মুখে সরকার তা স্থগিত রাখতে বাধ্য হয়।

নতুন শ্রম কোডে যৌথ দর কষাকষির ক্ষমতাকে সঙ্কুচিত করার অভিযোগও উঠেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনও ইউনিয়নকে ‘নেগোশিয়েটিং ইউনিয়ন’ হিসাবে স্বীকৃতি পেতে হলে অন্তত ৫১ শতাংশ শ্রমিকের সমর্থন লাগবে। ভারতের অধিকাংশ কারখানায় একাধিক ইউনিয়নের উপস্থিতি থাকায় কোনও একটি পক্ষের জন্য এই বিপুল সমর্থন অর্জন করা প্রায় অসম্ভব। ফলে আলোচনার টেবিলে শ্রমিকদের কোনও বলিষ্ঠ প্রতিনিধিই থাকবে না। এর পাশাপাশি ধর্মঘটের অন্তত ১৪ দিন আগে বাধ্যতামূলক নোটিস দেওয়ার নিয়মটি শ্রমিকদের প্রতিবাদের অধিকারকে কার্যত অকেজো করে দিয়েছে। ২০১২ সালে মারুতি সুজুকির মানেসার প্ল্যান্টে শ্রমিক ও ম্যানেজমেন্টের যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছিল, তার মূলে ছিল শ্রমিকদের কথা না শোনা এবং ইউনিয়নকে স্বীকৃতি না দেওয়া। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন যে, নতুন কোডের মাধ্যমে যদি ছোট ছোট ইউনিয়নগুলোর কণ্ঠরোধ করা হয়, তবে শ্রমিকদের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ ও হিংসাত্মক রূপ নিতে পারে।

এই সংস্কারগুলো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি বা ‘গ্রেস পিরিয়ড’-এর অভাব এক বিশাল অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। প্রস্তুতির সময় না দিয়ে হুট করে এমন বড় আইনি পরিবর্তন আনলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পগুলি (এমএসএমই) সবথেকে বেশি বিপদে পড়বে, কারণ তাদের এই নতুন আইনি জটিলতা বা স্যালারি স্ট্রাকচারের বদল সামলানোর মতো পরিকাঠামো নেই। ভারতের জিএসটি বা নোটবন্দির অভিজ্ঞতার দিকে তাকালে দেখা যায় যে, পর্যাপ্ত সময় না দিয়ে বড় কোনও পরিবর্তন আনলে অনেক ব্যবসা শেষ পর্যন্ত ধ্বংসের মুখে পড়বে। শ্রম কোডের ক্ষেত্রেও একই রকম “কমপ্লায়েন্স শক” বা আইনি বিশৃঙ্খলা তৈরি হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। সামগ্রিকভাবে, এই কোডগুলো সংগঠিত ক্ষেত্রে চাকরির নিরাপত্তা কমিয়ে মালিকপক্ষের ক্ষমতা বাড়াচ্ছে, অথচ অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকদের জন্য সামাজিক সুরক্ষার যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়নের কোনও স্বচ্ছ রূপরেখা এখনও সামনে আসেনি।

দেখা যাচ্ছে অসংগঠিত শ্রমিকদের সুরক্ষার নামে প্রহসন চলছে ভারতের মোট শ্রমশক্তির প্রায় ৯০ শতাংশই অসংগঠিত ক্ষেত্রের অন্তর্ভুক্ত। সরকার দাবি করছে, প্রথমবারের মতো গিগ (স্থায়ী চাকরির পরিবর্তে স্বল্পমেয়াদি চুক্তিভিত্তিক কাজ) ও প্ল্যাটফর্ম কর্মীদের (যেমন সুইগি, জোমাটো বা উবার চালক) আইনি সংজ্ঞা দিয়ে তারা এক ‘সামাজিক বিপ্লব’ ঘটিয়ে ফেলেছে। কাগজে-কলমে বলা হয়েছে, এই কর্মীদের কল্যাণে অ্যাগ্রিগেটর সংস্থাগুলোকে তাদের বার্ষিক টার্নওভারের ১ থেকে ২ শতাংশ টাকা একটি কেন্দ্রীয় সামাজিক সুরক্ষা তহবিলে জমা দিতে হবে। একইসাথে, ই-শ্রম পোর্টাল ও ইউএএন ’র মাধ্যমে সেই সুবিধার ‘পোর্টেবিলিটি’ নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু এই চটকদার প্রতিশ্রুতির আড়ালে লুকিয়ে আছে এক চরম অনিশ্চয়তা। মাত্র ১-২ শতাংশ টাকা দিয়ে কোটি কোটি অসংগঠিত শ্রমিকের পেনশন, বিমা এবং বার্ধক্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করা কার্যত অসম্ভব। এছাড়া, দিনমজুর বা হকারদের মতো অসংগঠিত শ্রমিকদের কোনও সুনির্দিষ্ট নিয়োগকর্তা না থাকায়, এই সুবিধাগুলো তাদের হাতে পৌঁছানোর কোনও স্বচ্ছ প্রশাসনিক রূপরেখা সরকার আজও দিতে পারেনি। আসলে সরকার শ্রমিককে দেখাচ্ছে যে তাদের জন্য অনেক কিছু করা হচ্ছে, কিন্তু তলে তলে এমন নিয়ম করছে যাতে বড় কোম্পানিগুলোকে আর শ্রমিকদের ভালো-মন্দের দায়িত্ব নিতে না হয়। অর্থাৎ, কর্পোরেটদের দায়মুক্ত করতে সরকার শ্রমিকদের ভাঁওতা দিচ্ছে।


ভারত সরকার এই শ্রম সংস্কারকে ‘আত্মনির্ভর ভারত’ এবং ব্যবসা সহজীকরণের (‘Ease of Doing Business’)  এক মোক্ষম হাতিয়ার হিসাবে প্রচার করছে। তাদের যুক্তি হলো, ব্রিটিশ আমলের পুরানো আইনের বেড়াজাল ভেঙে ডিজিটাল ও গিগ অর্থনীতির সাথে সামঞ্জস্য রাখতেই এই চারটি কোড আনা হয়েছে। বলা হচ্ছে, এর ফলে আইনি জটিলতা কমবে, বিনিয়োগ বাড়বে এবং নারীদের জন্য কর্মক্ষেত্রে অবারিত সুযোগ তৈরি হবে। কিন্তু বাস্তব চিত্রটি ঠিক এর উল্টো। রাজস্থানে এই নিয়ম আগেই পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হলেও দেখা গেছে সেখানে বিনিয়োগ বা কর্মসংস্থান কিছুই বাড়েনি, উলটে শ্রমিকের নিরাপত্তাহীনতা চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। “মুক্ত নিয়োগ ও ছাঁটাই” বা ‘হায়ার অ্যান্ড ফায়ার’ ব্যবস্থার ফলে শ্রমিক আজ মালিকের কাছে নিছক একটি ‘নিষ্পত্তিযোগ্য বস্তুতে’ (Disposable Resource) পরিণত হতে চলেছে। কোনও প্রস্তুতির সময় বা গ্রেস পিরিয়ড না দিয়েই এই পরিবর্তনগুলি চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা ছোট ও মাঝারি শিল্পগুলিকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেবে এবং লক্ষ লক্ষ শ্রমিকের জীবনকে এক গভীর অন্ধকারের মুখে দাঁড় করাবে।
গিগ ইকোনমি এবং অসংগঠিত ক্ষেত্রই ভারতের ভবিষ্যৎ অর্থনীতির চালিকাশক্তি। অথচ নতুন শ্রম কোডে সেই অসংগঠিত শ্রমিকের সুরক্ষাকে বলি দিয়ে কেবল কর্পোরেটদের মুনাফা বাড়ানোর পথ প্রশস্ত করা হয়েছে। তাই এই জনবিরোধী আইন কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। শ্রমিকের অধিকার হরণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো আমাদের নৈতিক কর্তব্য। 
Highlights
গিগ ইকোনমি এবং অসংগঠিত ক্ষেত্রই ভারতের ভবিষ্যৎ অর্থনীতির চালিকাশক্তি। অথচ নতুন শ্রম কোডে অসংগঠিত শ্রমিকের সুরক্ষাকে বলি দিয়ে কর্পোরেটের মুনাফা বাড়ানোই লক্ষ্য। তাই এই জনবিরোধী আইন মেনে নেওয়া যায় না। আগামী প্রজন্মের স্থায়ী কর্মসংস্থান ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা এবং এই স্বৈরাচারী শ্রমকোড বাতিলের দাবিতেই ১২ ফেব্রুয়ারির শিল্প ধর্মঘট।
 

Comments :0

Login to leave a comment