রাজগ্রাম পাথর শিল্পাঞ্চল প্রায় এক বছর ধরে বন্ধ থাকায় প্রত্যক্ষ পরোক্ষ ভাবে বিপাকে পড়েছে প্রায় ২৫হাজার শ্রমিক। ওই এলাকার পাথর খাদান ও ক্র্যাশার বন্ধের ফলে শ্রমিকদের জীবন জীবিকা বিপন্ন হয়ে পড়েছে। অবিলম্বে ক্র্যাশার ও খাদান খোলা এবং শ্রমকোড বাতিলের দাবিতে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী সাধারন ধর্ঘটের সমর্থনে সিআইটিইউ মুরারই-১ ব্লক সমন্বয় কমিটি ও বীরভূম জেলা পাথর শ্রমিক ইউনিয়ন রাজগ্রাম শাখার যৌথ উদ্যোগে বৃহস্পতিবার ওই পাথর শিল্প এলাকার সন্তোষপুরে একটি শ্রমিক কনভেনশন হয়। সেখানে বক্তব্য রাখেন শ্রমিক নেতা আমেরুল ইসলাম প্রমুখ। সভায় সভাপতিত্ব করেন চন্দন রাজবংশী।
কনভেনশনে দাবি প্রস্তাব উত্থাপন করে সিআইটিইউ নেতা এরুল শেখ বলেন, "কেন্দ্রের বিজেপি সরকার শ্রমিক বিরোধী শ্রমকোড আইন লাগু করার ফলে শ্রমিকদের বিপদের মুখে ঠেলে দিয়েছে। তাদের ৮ ঘন্টা কাজের পরিবর্তে এখন ১২ ঘন্টা কাজ করাচ্ছে শিল্প ও কারখানার মালিকরা। এছাড়াও ঠিকা প্রথা চালু করার ফলে তাদের পেনশন, পিএফ ও সামাজিক সুরক্ষা সব খর্ব করেছে। মালিকরা নিজেদের ইচ্ছামত কারখানা চালাবে কেউ প্রতিবাদ করতে পারবেনা। সেখানে শ্রমিকরা যদি আন্দোলন করে তাহলে তাদের ছাঁটাই করা হবে। এই রকম একটি শ্রমিক বিরোধী আইন লাগু হয়ার ফলে বিপন্ন শ্রমিকরা। ঠিক একই ভাবে রাজ্যের তৃণমূল সরকার ও শ্রমিক বিরোধী নীতি নিয়ে চলছে। এই সরকার গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে ভাঙ্গতে পুলিশকে লেলিয়ে দিচ্ছে। এদিকে মুখে বলছে আমরা গরিব দরদী। এই তার নমুনা! রাজগ্রাম বন্ধ পাথর শিল্প খোলার বিষয়ে কোন হেলদোল নেই রাজ্য সরকারের।"
তিনি অভিযোগ করে বলেন, "জেলার একটি অন্যতম পাথর শিল্পাঞ্চল রাজগ্রাম। এখানে যে আজ এক বছর ধরে পাথর খাদান বন্ধ রেখেছে মালিকরা। যার ফলে শ্রমিকরা নিজেদের জীবনজীবিকা চালাতে বাধ্য হয়ে ভিন রাজ্যে চলে যাচ্ছে পরিযায়ী শ্রমিক হিসাবে। অথচ এই পাথর শিল্প চালু করার দাবিতে অতীতে একাধিকবার এবং সম্প্রতি ব্লকে ডেপুটেশন ও জেলা শাসকের কাছে ডেপুটেশন দেওয়া হয়। ফলে কিছু ক্র্যাশার চালু হলেও এখনও অনেক খাদান ও ক্র্যাশার বন্ধ রয়েছে। এইসব নীতির বিরুদ্ধে এবং শ্রম কোড বাতিল ও বন্ধ শিল্প গুলি খোলার দাবিতে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারন ধর্মঘটকে সফল করতে পাথর শিল্পের সঙ্গে যুক্ত শ্রমিকদের ধর্মঘটে সামিল হতে হবে।"
Comments :0