কর্পোরেট ও পুঁজিপতিদের স্বার্থ রক্ষার দালাল বিজেপি সরকারের জনবিরোধী বাজেট জনরোষে পুড়িয়ে দাও শ্লোগানে এবং কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের শ্রমিক মারা পদক্ষেপ ও সাধারণ মানুষ সহ কৃষক, ক্ষেতমজুর মানুষের অধিকার হরনের নীতি রুখে দেওয়ার দাবিতে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সারা দেশ ব্যাপী সাধারণ ধর্মঘট ও রাজ্য জুড়ে শিল্প ধর্মঘটে সামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা ২১ স্থানে মিছিল সহকারে বাজেটের কপি পুড়িয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি করেন শ্রমজীবী মানুষ।
মেদিনীপুর শহরের রেলস্টেশন, কলেজমোড়, খড়্গপুর শহরের ইন্দা, খরিদা ও প্রেম বাজার, দাসপুরের গৌরা, সোনামুই, পিংলার জলচক, সবং, মোহাড়, নারায়নগড়, খাকুড়দা, মোহনপুর, রাধামোহনপুর, আষাঢ়ীতে কৃষক ক্ষেতমজুর ও শ্রমিক সংগঠন মিলিত হয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের একের পর এক মানুষ মারা পদক্ষেপ ও জনবিরোধী বাজেটের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ মিছিল সহকারে বাজেট পুড়িয়ে বিক্ষোভ দেখায়।
বিজেপি সরকারের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন যে বাজেট পেশ করেছেন তা কর্পোরেট ধনীদের দালালি করার মধ্য দিয়ে শাসকের লুঠে খাওয়ার পদক্ষেপ। আর বিপরীতে খেটে খাওয়া মানুষের শোষণের বাজেট বলে ক্ষোভ উগরে দেন বিক্ষোভকারীরা। দাবী করেন এই কর্পোরেট বান্ধব বাজেট সমাজে আপামর মানুষ সহ খেটে খাওয়া মানুষের উপর অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক নিপীড়ন ও বৈষম্য আরও বাড়াবে। এই বাজেটে দেশের কৃষি ও কৃষককের সর্বনাশ আর বহুজাতিক সংস্থার মুনাফা লুটার পদক্ষেপ। জবকার্ড হোল্ডারদের প্রতি চুড়ান্ত অবহেলা, কর্মসংস্থানহীন সার্ভিস সেক্টরের প্রতি আনুগত্য সহ এই বাজেটে অঙ্গনওয়াড়ি, আশা ,মিড ডে মিল, গৃহসহায়িকা প্রভৃতি প্রকল্পগুলিকে উপেক্ষা করা হয়েছে। সারে ভরতুকি কমেছে। শিক্ষা ব্যবস্থাকে জলাঞ্জলিতে পাঠানো হচ্ছে।এই বাজেট জনবিরোধী শ্রমিক বিরোধী ,কৃষক বিরোধী সর্বোপরি সাধারণ মানুষের পিঠে ও পেটে চাবুক মারা হয়েছে।
এই মানুষ মারা বাজেটের আগে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার দেশের শ্রমজীবী মানুষের পেটে লাথি মারার জন্য নতুন শ্রম আইন চালু করে দিয়েছে। যার গালভরা নাম-শ্রমকোড। যা শ্রমিক কর্মচারীদের কাজ পাওয়ার, কাজের জায়গায় নিরাপত্তা সহ মজুরীর দর কষাকষি গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেবে। শ্রমজীবী মানুষকে কৃতদাসে পরিনত করার চক্রান্ত করেছে এই বিজেপি সরকার। আন্তর্জাতিক ভাবে স্বীকৃত ৮ ঘন্টা কাজের অধিকার, ন্যূনতম মজুরির অধিকার, ধর্মঘট করার অধিকার, ইউনিয়ন করার অধিকার, সামাজিক সুরক্ষার অধিকার-সবই কেড়ে নিল এই শ্রমকোড আইন। সরকার, পুলিশ, প্রশাসন ও মালিক শ্রেনীকে এমন ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে এই আইনের বলে আপনি অন্যায়ের প্রতিবাদ করলেই সরাসরি নির্যাতন ও কারাদন্ড দিতে পারে। 'শ্রমিক' হয়ে যাচ্ছে 'ক্রীতদাস'। এর বিরুদ্ধে জনরোষ সহ অসন্তোষ আটকাতে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার নেশা ধরানোর মতো মানুষকে ভাগ করছে ধর্মে ধর্মে, হিন্দু-মুসলমান বিদ্ধেষ মূলক প্রচারে এবং বিভাজনের রাজনীতিতে। এর বিরুদ্ধে আপোষহীন লড়াইয়ের বার্তায় শ্রমজীবী মানুষকে এক হওয়ার আহ্বান ও তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলার কর্মসূচী তে সামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ধর্মঘট সফল করার বার্তা দেওয়া হয়।
Comments :0