I-PAC SUPREME COURT

সুপ্রিম কোর্টে পিছিয়ে গেলো আই-প্যাক মামলার শুনানি

জাতীয় রাজ্য

সুপ্রিম কোর্টে আরও সাতদিন পিছিয়ে গেলো আই-প্যাক মামলার শুনানি। আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি হবে মামলার শুনানি। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্র এবং বিচারপতি এনভি অঞ্জরিয়ার বেঞ্চে শুনানি ছিল। সোমবার রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এই মামলায় হলনামা জমা দেওয়া হয়। এদিন শুনানি শুরু হলে কেন্দ্রের সলিসিটার জেনারেল তুষার মেহতা দাবি করেন রাজ্য হলফনামা দেখার জন্য তাদের সময় দরকার। এর পাশাপাশি তিনি জানান যে ইডি’র পক্ষ থেকে পাল্টা হলফনামা দেওয়া হবে। 
হলফনামা দিয়ে রাজ্যের তরফে ইডির মামলা খারিজের আবেদন করা হয়। রাজ্যের কথায়, হাইকোর্টে এই মামলা চলছে, সুপ্রিম কোর্টে এই মামলা দায়ের করার কোনও অধিকার নেই ইডির। রাজ্যের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে আই-প্যাকের দপ্তরে তল্লাসি চালানো এবং তাদের নথি বাজেয়াপ্ত করার কোন অধিকার ইডি’র নেই। 
গত ৮ জানুয়ারি আই-প্যাকের মালিক প্রতীক জৈন এবং আই-প্যাকের দপ্তরে ইডি হানা নিয়ে নাটকের পরিস্থিতি তৈরি হয়। মুখ্যমন্ত্রী, মুখ্যসচিব, কলকাতা পুলিশের তৎকালিন পুলিশ কমিশনার সহ একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা সেখানে যান। মুখ্যমন্ত্রীকে দেখা যায় ইডি’র সামনে থেকে নথি নিয়ে বেরিয়ে আসতে এবং পুলিশকে দিয়ে তা তৃণমূলের গাড়িতে তোলাতে। কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে মুখ্যমন্ত্রীকে মামলায় পার্টি করেছে ইডি। রাজ্য সরকারকেও পার্টি করা হয়েছে।
আই-প্যাকের মালিক প্রতীক জৈন এবং সেক্টর ৫ এ তাদের অফিসে হানা দেয় ইডি। কয়লা পাচার মামলার তদন্তের সূত্র ধরে এই হানা বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারি সংস্থা। কিন্তু দেখা যায় ইডি প্রতীকের বাড়ি গেলে সেখানে কলকাতা এবং বিধাননগর পুলিশের দুই কমিশনার ও বিশাল বাহিনী নিয়ে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী নিজে। প্রতীকের বাড়ি ঢুকে বিভিন্ন ফাইল, ল্যাপটপ, হার্ড ডিস্ক নিয়ে বেড়িয়ে আসেন এবং তা তৃণমূলের নামে রেজিস্টার করা একটি গাড়িতে তোলেন। তারপর সেখান থেকে যান আই-প্যাকের অফিসে। সেখানেও একই চিত্র দেখা যায়। বিবৃতি দিয়ে ইডি’র পক্ষ থেকে জানানো হয় যে মুখ্যমন্ত্রী তার সাংবিধানিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে তাদের থেকে ফাইল সহ একাধিক নথি ছিনিয়ে নিয়েছে। কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় ইডি। দায়ের হয়েছে মামলা, তাতে যুক্ত করা হয়েছে মমতাকে। পাল্টা ‌আই-প্যাকের দপ্তরে ইডি হানা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে তৃণমূল তাতে যুক্ত করা হয়েছে ইডি এবং আই-প্যাককে।
মমতা দাবি করেছেন আই-প্যাকের অফিস একটি রাজনৈতিক দপ্তর, তাদের সোশাল মিডিয়া সেলের অফিস। সেখানে তাদের দলের প্রার্থী তালিকা থেকে শুরু করে বিভিন্ন রিপোর্ট রয়েছে যা ইডিকে ব্যবহার করে সড়িয়ে ফেলা হচ্ছিল।

Comments :0

Login to leave a comment