জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষা দিতে যাওয়া বড়জোড়া, বেলিয়াতোড় থানার জঙ্গল এলাকার গ্রামগুলির মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীরা হাতির হামলার আশঙ্কা নিয়েই প্রথমদিন ৪-৫ কিলোমিটার জঙ্গলপথ পেরিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রগুলিতে পৌঁছাল। অন্য বছর মাধ্যমিক পরীক্ষার দিন গুলিতে এই সব এলাকায় বনদপ্তর থেকে পরীক্ষার্থীদের জন্য গাড়ির ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু এবছর নজিরবিহীন ভাবেই কোন নিরাপত্তার ব্যবস্থা করল না বনদপ্তর। ফলে, ক্ষোভ তৈরী হয়েছে বহু পরীক্ষার্থী ও তাঁদের অভিভাবকদের মনে। এই মুহূর্তে বড়জোড়া, বেলিয়াতোড় জঙ্গল এলাকায় প্রায় ২০টি হাতি রয়েছে। প্রায়ই হাতির পাল লোকালয়ে চলে আসছে। ক্ষয়ক্ষতি করছে মানুষের। সোমবার শুরু হয়েছে মাধ্যমিক পরীক্ষা। যেকোন সময় রাস্তায় হাতির পালের আগমন হতেই পারে বলে আশঙ্কা অভিভাবক সহ পড়ুয়াদের ।
সোমবার কালপাইনি, ডাকাইসিনি, পাবয়া, বনশোল সহ বড়জোড়া থানার একাধিক জঙ্গল সংশ্লিষ্ট গ্রামে সকাল থেকেই মানুষের মনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কারন সকালেই পড়ুয়া এবং অভিভাবকরা জানতে পেরেছেন বনদপ্তর থেকে কোন গাড়ি দেওয়া হবেনা। ফলে ৪-৫ কিলোমিটার গভীর জঙ্গলপথে ছাত্রছাত্রীদের মোটর সাইকেল বা টোটো করে পরীক্ষাকেন্দ্রগুলিতে যেতে হবে। সেই মতো এই গ্রামগুলি থেকে পরীক্ষার্থীরা কোথাও দল বেঁধে আবার কোথাও পরিবারের লোকজনের মোটরসাইকেলে করে এসে পরীক্ষাকেন্দ্র গুলিতে পৌঁছায়।
খুবই ভয় নিয়েই পরীক্ষা কেন্দ্রগুলিতে আমরা যাচ্ছি বলে এদিন কালপাইনি গ্রামের একাধিক পরীক্ষার্থী জানায়। তাঁদের পরিবারের অভিভাবকরাও খুবই চিন্তিত। তাঁরা জানান, আগে জঙ্গলপথে হুলাপার্টি থাকত। একটা নিরাপত্তার ব্যবস্থা ছিল। এবছর সেটা করা হলনা। ফলে মানসিক অশান্তি নিয়েই ছাত্রছাত্রীরা পরীক্ষাকেন্দ্রগুলিতে যাচ্ছে। কেন এবছর বনদপ্তর কোন নিরাপত্তা দিলনা সে ব্যাপারে বনদপ্তরের কেউ মুখ খোলেননি।
Comments :0