চলতি বছরই প্রথম একজন যাযাবর জনজাতির ছাত্র মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসতে চলেছে। সোমবার শুরু হচ্ছে রাজ্যে মাধ্যমিক পরীক্ষা। এই পরীক্ষায় বাঁকুড়া জেলার তালডাংরা থানার হাড়মাসড়া গ্রামপঞ্চায়েত এলাকার জেমুয়া গ্রামের সৌরভ ব্যাধ মাধ্যমিক পরীক্ষা দেবে। পুরো যাযাবর পল্লীতে এখন একটা আনন্দের পরিবেশ। আনন্দিত সৌরভের স্কুল হাড়মাসড়া হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক মধুসূদন মুখার্জি সহ বাকি শিক্ষক ও ছাত্ররাও।
বহু বছর আগে হাড়মাসড়ার কয়েকটি পরিত্যক্ত কোয়ার্টারে ৭টি যাযাবর জনজাতির পরিবার এসে থাকত। ভিক্ষাবৃত্তি করেই তাঁরা কোনও ক্রমে অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছিলেন। এই অবস্থায় এঁদের কোনও শিশুই লেখাপড়ার সুযোগ পায়নি। পরবর্তী পর্যায়ে বামফ্রন্ট সরকারই তাঁদের হাড়মাসড়া বনদপ্তরের কাছে জেমুয়াতে থাকার জায়গা দেয়। বর্তমানে সরকারি প্রকল্পে পঞ্চায়েত থেকে সেখানে বাড়িও তৈরী করে দেওয়া হয়েছে তাঁদের জন্য। জেমুয়া প্রাথমিক স্কুলেই সৌরভ পড়াশোনা শুরু করে। পরে হাড়মাসড়া হাইস্কুলে পড়তে যায়। তার বাবা দীপক ব্যাধ, মা পিঙ্কু ব্যাধ কোথাও কোনও দিন কায়িক পরিশ্রমের কাজ পেলে করেন। বাকি সময় কার্যত ভিক্ষাবৃত্তি করেই তাঁদের সংসার চলে। যে ৭টি পরিবার এখানে থাকেন তাঁরা সকলেই একইভাবে জীবনযাপন করেন। পড়াশোনার আঙ্গিনায় প্রবেশ করার পরই সৌরভ এই পল্লীর বাকি ছেলে মেয়েদের নিয়ে প্রতিদিন পড়াশোনা করায়। সকালে ও সন্ধ্যায় নিজের পড়াশোনার মাঝেই উঠনে বসে বাকিদের নিয়ে। নিজে চেষ্টা করেই পল্লীর বাকি ছোট, বড় ছেলেদের স্কুলে ভর্তি করে সৌরভ। সে যখন নবম শ্রেনীর ছাত্র তখন থেকেই বাকিদের পড়াতো সে।
তার এই মাধ্যমিক পরীক্ষা দেওয়া নিয়ে হাড়মাসড়া হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক মধুসূদন মুখার্জি জানান, ''সৌরভ একজন মেধাবী ছাত্র। আমরা প্রথম থেকেই সৌরভকে সহযোগিতা করে এসেছি। তার বাড়ির আর্থিক অবস্থার কথা বিবেচনা করেই দশম শ্রেনী পর্যন্ত তাকে স্কুলে মিড ডে মিল খাওয়ানো হয়েছে। আমরা বলেছি এই জনজাতির কেউ পড়াশোনার কোনও সমস্যায় পড়লে যেন স্কুলকে জানায় স্কুল সব দিক দিয়ে সহযোগিতা করবে।"
রবিবার সৌরভের মা পিঙ্কি ব্যাধ জানান, "আমি চাই আমাদের সমাজে সবাই লেখাপড়া শিখুক। লেখাপড়া না জানার জন্য আমরা যে কষ্ট পেয়েছি, বাকিরা যেন না পায়।" এদিন সৌরভ বলে যে ভবিষ্যতে সে শিক্ষক হতে চায়। তার কথায় জানার আগ্রহ মানুষের প্রবল। এটা মেটাতেই হবে।
Comments :0