Polit Bureau on Budget '26

ধনীদের স্বার্থ রাখতে জনসাধারণের বরাদ্দে ছাঁটাই, বাড়বে বৈষম্য: বাজেট প্রসঙ্গে পলিট ব্যুরো

জাতীয়

শ্রমজীবী এবংঅংশের ঘাড়ে বোঝা চাপিয়ে হাতে গোনা কিছু কর্পোরেট এবং বিত্তবানের সংকীর্ণ স্বার্থই দেখা হয়েছে বাজেটে। অবজ্ঞা করা হয়েছে জাতীয় অর্থনীতির বৃহত্তর স্বার্থও। 
২০২৬’র কেন্দ্রীয় বাজেটকে পুরোদস্তুর জনবিরোধী এবং যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর বিরোধী আখ্যা দিয়ে একথা বলেছে সিপিআই(এম) পলিট ব্যুরো।
পলিট ব্যুরোর বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী যাকে আর্থিক শৃঙ্খলা বলছেন তা আসলে কর্পোরেট ক্ষেত্র এবং ধনীদের কর ছাড় দিয়ে জনগণকে শুষে নেওয়া। চলতি অর্থবর্ষের মতো আগামী অর্থবর্ষের বাজেটেও দেখা যাচ্ছে সরকারি আয়ের সঙ্কোচন এবং খরচ বাবদ বরাদ্দ ছাঁটাই হয়েছে।
পলিট ব্যুরো বলেছে যে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে আয়কর এবং জিএসটি বাবদ আদায় বাজেট অনুমানের চেয়ে কম। সেই ঘাটতি পূরণ করা হয়েছে আমদানি শুল্ক বাবদ আয় বাড়িয়ে। তার বোঝা মুখ্যত পড়েছে পেট্রোলিয়াম তেলের ওপর। 
বলা হয়েছে যে সরকারি আয়ের সঙ্কট সম্পর্কে উচ্চবাচ্য করছেন না অর্থমন্ত্রী। কিন্তু বাস্তব হলো, চলতি অর্থবর্ষে যে আয় হবে সরকারের প্রায় সেই অর্থই ধরা হয়েছে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের জন্যও। ফলে সরকারি আয় জাতীয় আয় অংশ হিসেবে কমবে।    
কোষাগারীয় ঘাটতি কমানোর জন্য শ্রমজীবী, কৃষিজীবী এবং সাধারণ মানুষের বরাদ্দই ছেঁটেছেন নির্মলা সীতারামন। বরাবরের মতো ছাড় পেয়েছে কর্পোরেট। খোলাখুলি শ্রমিক ও কৃষকদের জন্য বরাদ্দ ছাঁটাই হয়েছে। রাষ্ট্রীয় কৃষি বিকাশ যোজনা, পিএম পোষণ, পিএম-শ্রী, পিএম-জয়, পিএম-এমএসওয়াই, শস্য বিমার মতো কেন্দ্রীয় এবং কেন্দ্রীয় সহায়তায় চালু প্রকল্পে কমিয়ে দেওয়া হয়েছে খরচ। তফসিলি জাতি, আদিবাসী এবং উত্তর-পূর্বের জন্য কমানো হয়েছে বরাদ্দ। 
কেবল তা-ই নয়, কৃষি ও সংযুক্ত কাজ বা গ্রামোন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক কল্যাণের মতো প্রকল্পে খরচ ছেঁটে দেওয়া হয়েছে। 
লিঙ্গসাম্য বাজেটে বরাদ্দ ৫১ হাজার ১৪৪ কোটি টাকা কমেছে। আগামী অর্থবর্ষে সার, খাদ্য এবং পেট্রোলিয়ামে ভরতুকি বাবদ বরাদ্দ ছাঁটাইয়ের লষ্য জানিয়েছে বাজেট। 
পলিট ব্যুরো বলেছে যে দেশে কৃষিকরা ফসলের দাম পাচ্ছেন না। বাজেট, বিশেষ করে, আক্রমণের নিশানা করেছে কৃষিক্ষেত্রকে। 
পলিট ব্যুরো বলেছে, মূলধনী ব্যয় নিয়ে বহু লম্বা চওড়া প্রচার করছে সরকার। কিন্তু চলতি অর্থবর্ষেই বাজেট বরাদ্দের তুলনায় সরকারের মূলধনী ব্যয় কম হবে বলে অনুমান করছেন অর্থমন্ত্রী। আরেকদিকে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার মাধ্যমে মূলধনী ব্যয় ২০২৪-২৫’র তুলনায় কম হয়েছে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের জন্যও কম করেই ধরা হয়েছে। 
পলিট ব্যুরো বলেছে যে মোদী সরকারের মনোভাব হলো জনতার আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য রাজ্য সরকারগুলি প্রয়াসকে রুদ্ধ করা। কেন্দ্রীয় সহায়তায় চলা প্রকল্প, অর্থ কমিশনের অনুদান এবং অন্য আর্থিক হস্তান্তর বাবদ ব্যয় বাজেট অনুমানের চেয়েও ২ লক্ষ ৩ হাজার ৮০১ কোটি টাকা কমানো হয়েছে। চলতি অর্থবর্ষের প্রকৃত খরচের চেয়েও ৫৯ হাজার ৪৫৬ কোটি টাকা কম বরাদ্দের লক্ষ্য ঘোষণা করা হয়েছে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেটে। রাজ্যগুলি এমনিতেই জিএসটি বাবদ আদায় ঘাটতির কারণে তীব্র সঙ্কটে রয়েছে। তার ওপর ‘ভিবি জি রাম জি’ আইনে খরচের আংশিক দায় রাজ্যগুলির ওপর চাপানো হয়েছে। 
পলিট ব্যুরো বলেছে, অর্থমন্ত্রী তাঁর বাজেট ভাষণে বলেছে যে মোদী সরকারের কার্যকাল স্থায়িত্ব, আর্থিক শৃঙ্খলা এবং মূল্যবৃদ্ধির সামান্য হার নিশ্চিত করেছে। তিনি যা বলেননি তা হলো একমাত্র শ্রমজীবী জনতার সঙ্কটই স্থায়ী হয়েছে। মোদীর মেয়াদ চিহ্নিত হয়ে রয়েছে বেলাগাম কর্মহীনতা, কাজ করে শ্রমজীবীর সামান্য আয়ে। উলটোদিকে স্থিতিশীল হয়েছে ধনী এবং কর্পোরেট ক্ষেত্রে সম্পদের ধারাবাহিক বৃদ্ধি। তীব্র বৈষম্যকে আরও বাড়িয়ে দেবে এই বাজেট। 
পলিট ব্যুরো বলেছে যে বিশ্ব অর্থনীতির অবস্থা বিবেচনায় রেখে নীতি ঠিক করার ক্ষেত্রেও গুরুতর খামতি রয়েছে বাজেটে।

Comments :0

Login to leave a comment