জানা অজানা
নতুনপাতা
গান্ধীজির জননী
তপন কুমার বৈরাগ্য
৩০ জানুয়ারি ২০২৬, বর্ষ ৩
গান্ধীজির আসল নাম ছিল মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী । তিনি ১৮৬৯ খ্রিস্টাব্দের ২রা অক্টোবর গুজরাটের পোরবন্দরে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৪৮ সালের ৩০শে জানুয়ারি শহীদ হন। তার পিতার নাম করমচাঁদ উত্তমচাঁদ গান্ধী।মায়ের নাম ছিল পুতলী বাঈ।
পুতলী বাঈ ছিলেন একজন অসাধারণ মহীয়সী রমণী । তিনি ছিলেন অসাধারণ প্রতিভাময়ী নারী। ছেলেকে নিজের হাতেই প্রথম গৃহশিক্ষা দেন।প্রতি সন্ধ্যায় তিনি ছেলেকে রামায়ণ সুর করে পড়ে শুনাতেন।ছেলে গভীর মনোযোগ দিয়ে তা শুনতেন।
কিছুদিন পর তার রামায়ণের কাহিনী একেবারে মুখস্থ হয়ে গিয়েছিল। হরিশচন্দ্রের কাহিনীও তার মুখস্থ ছিল। মা তাকে প্রথম শুনিয়েছিলেন অহিংসার বাণী।যা তার সারা জীবনের চলার প্রাথেয় ছিল।হরিশচন্দ্রের কাহিনী শুনে তিনি
হরিশচন্দ্রের মতন সত্যের পূজারী হয়ে উঠলেন। শ্রীরামচন্দ্র ছিলেন রামায়ণ মহকাব্যের তার আদর্শ পুরুষ। অস্পৃশ্যতার প্রথম দীক্ষা তিনি তার মায়ের কাছেই পেয়েছিলেন। মা ধর্মপ্রাণা মহিলা ছিলেন। তিনি পূজাঅর্চনার সময় উপবাস ব্রত পালন করতেন।
অনশন করার প্রবল শক্তি তিনি মায়ের কাছে পেয়েছিলেন।উপবাস এবং উপাসনার মাধ্যমে তিনি আত্মশুদ্ধ করেছিলেন। পুতলী বাঈ ছিলেন নীতির উপাসক।মায়ের কাছ থেকে নীতিবোধে জাগ্রত হয়েছিলেন। মা তাকে নিষেধ করেছিলেন কখনো যেন সে সুরাপান না করে,
কখনো যেন মাংস ভক্ষন না করে।গান্ধীজি জীবনে কখনো মাংস ভক্ষন করেন নি। কোনো কুঅভ্যাস তিনি গ্রহণ করেন নি। গান্ধীজির বয়েস যখন ২২বছর তখন তার মা পুতলী বাঈ মারা যান।সালটা ছিলো ১৮৯১খ্রিস্টাব্দ। গান্ধী তখন পড়াশুনার জন্য
বিদেশে।মায়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে তিনি সঙ্গে সঙ্গে দেশে ফিরে আসেন। মায়ের মৃত্যতে তার চোখের ধারা কয়েকদিন অনবরত ঝরে গেছে।গান্ধীজির জননী গান্ধীকে মানব কল্যানে দীক্ষিত করে গেছেন। মহীয়সী মায়ের কোলেই মহান সন্তান জন্মগ্রহণ করেন।
Comments :0