পূজা বোস
শতাব্দীপ্রাচীন হিন্দু স্কুলে কার্যত বন্ধ হয়ে যেতে চলেছে ইংরেজি বিষয়ে শিক্ষাদান। অভিভাবকরা জানাচ্ছেন, ২০২২ সাল থেকে হিন্দু স্কুলের ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত ইংরেজি বিষয়টি পড়ানোর জন্য ছিলেন একজনই মাত্র শিক্ষক। বদলির কারণে অন্য স্কুলে চলে যেতে হচ্ছে তাঁকে। শুধু ইংরেজির শিক্ষক নন, তাঁরই সঙ্গে বদলি হচ্ছেন অঙ্কের দুজন শিক্ষক ও।
কলকাতার এই স্কুলে এরপরে ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক আসবেন কবে সেই বিষয়ে স্কুলের তরফে কোনও সদুত্তর মেলেনি বলে অভিযোগ অভিভাবকদের। পরের বছর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক দেবে এমন ছাত্রের সংখ্যা নেহাত কম নয় হিন্দু স্কুলে। সে সময়ে ইংরেজির মত বিষয়ের শিক্ষকের বদলিতে ছাত্র সহ অভিভাবকদের মধ্যে অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয়েছে।
ছাত্রদের অত্যন্ত প্রিয় তিন শিক্ষকই বিদায় নিচ্ছেন। এই শিক্ষকদের সম্বর্ধনা জানাতে চায় ছাত্ররা। অভিযোগ, বিদায় সম্বর্ধনাতেও বাধা দেয় স্কুল কর্তৃপক্ষ।
ছাত্রের তুলনায় শিক্ষক কম থাকায় আগে থেকেই ধুঁকছিল ২০০ বছরের ঐতিহ্যশালী হিন্দু স্কুল। একে শিক্ষক সংখ্যার অপ্রতুলতা, তার উপর আবার যাঁরা রয়েছেন, তাঁদের দেওয়া হচ্ছে বদলির নির্দেশ। বদলি আটকাতে গত ১৪ জানুয়ারি বিকাশ ভবনে স্মারকলিপিও জমা দিয়েছিলেন অভিভাবকদের একাংশ। যদিও সেদিন শিক্ষামন্ত্রী না থাকায় তাঁর আপ্তসহায়ক সেই স্মারকলিপি গ্রহণ করেন। তারপর ভূগোল ও বিজ্ঞান বিষয়ের দুই নতুন শিক্ষক স্কুলে যোগ দিয়েছেন।
বিদায়ী শিক্ষকদের একজন (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, "বদলি একটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। যে নির্দেশ আসবে আমাদের তা মেনে নিতেই হবে। ছাত্ররা ছোট, ওরা সহজে মনের অভিব্যাক্তি প্রকাশ করতে পারে। তবে ছেড়ে যাওয়া তো খারাপ লাগারই।’’
শিক্ষকদের বদলিতে অনিশ্চয়তার পাশাপাশি সেই ‘খারাপ লাগা‘ রয়েছে অভিভাবকদের মধ্যেও। ওই স্কুলের একাদশ শ্রেণির এক ছাত্রের অভিভাবক (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, "স্যাররা পড়াশোনার পাশাপাশি সংস্কৃতিক বিভিন্ন দিকেও ওদের ( ছাত্রদের) উদ্বুদ্ধ করতেন। এতো গুণী মানুষদের সান্নিধ্য থেকে বঞ্চিত হবে ওঁরা। আমাদের অবস্থা এখন শাঁখের করাতের মতো, সামনেই ওদের পরীক্ষা তার মধ্যেই এই অবস্থা। কবে নতুন কেউ আসবেন ঠিকভাবে কিছু জানতেও পারছি না। দু’জন অন্য বিষয়ের শিক্ষক এসেছেন ঠিকই। তবে পেটে ব্যথার ওষুধে কি আর জ্বর সারে।"
উল্লেখ্য, সিঙ্গুরে মুখ্যমন্ত্রীর সভায় স্কুল থেকে ছাত্রদের নিয়ে যাওয়া হয়। সেই বিষয়ে জানতেনই না অভিভাবকরা। উল্টোদিকে হিন্দু স্কুলের মতো ঐতিহ্যশালী স্কুলের শিক্ষাদান বন্ধ হওয়ার মুখে তবুও কোনো পদক্ষেপ নেয়নি সরকার।এমনকি কোনও সদর্থক উত্তর ও নেই সরকারে তরফে।
রাজ্য জুড়ে ‘স্কুল বাঁচাও মূল বাঁচাও’ আন্দোলনে হিন্দু স্কুলের মতো শতাব্দীপ্রাচীন স্কুলগুলিকেও বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে এসএফআই। শুক্রবারও বিকাশ ভবন অভিযান করছে এই ছাত্র সংগঠন। অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে স্কুলে ছাত্রের অনুপাত অনুযায়ী শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টিও।
Comments :0