মীর আফরোজ জামান: ঢাকা
নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠিত হলেও অপরাধের ঘটনা বাড়ছে বাংলাদেশে। একের পর এক ঘটনায় উদ্বেগও বাড়ছে জনজীবনে।
গত বৃহস্পতিবার সকালে খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার খাদিজাবাগ কৃষ্ণনগর ঠিকরাবাদ এলাকায় ঘরে ঢুকে একই পরিবারের চার সদস্যকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। আহতদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁদের খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
আহত ব্যক্তিরা হলেন কাজী আনিসুর রহমান, তাঁর স্ত্রী রঞ্জুয়ারা বেগম, ছেলে রাইছুল ইসলাম এবং ছোট ছেলে রাশিদুল ইসলামের স্ত্রী ফাহিমা। তাঁদের মধ্যে রঞ্জুয়ারা বেগম ও ফাহিমাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আনিসুরের ছোট ছেলে রাশিদুল প্রায় তিন বছর আগে একটি মামলায় কারাগারে যান। সেখানে তাঁর সঙ্গে ইমরান নামের এক ব্যক্তির পরিচয় হয়। পরে সেই সূত্রে রাশিদুলের সঙ্গে ইমরানের পরিবারের যোগাযোগ গড়ে ওঠে। এক পর্যায়ে ইমরানের স্ত্রী ফাহিমার সঙ্গে রাশিদুলের সম্পর্ক তৈরি হয়। প্রায় ছয় মাস আগে ইমরান আবার একটি মামলায় কারাগারে গেলে রাশিদুল ফাহিমাকে বিয়ে করেন। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ইমরান প্রতিশোধ নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে আরেকটি ঘটনায় ছিনতাইকারীদের পাল্লায় পড়ে প্রাণ হারান এক মহিলা। স্বামীকে নিয়ে দর্জির দোকানে গিয়েছিলেন মুক্তা আক্তার (২১)। কাপড় নিয়ে বাসায় ফিরে আবার বের হন শেষ মুহূর্তের কিছু কেনাকাটা করবেন বলে। কিন্তু সেই বের হওয়াই হয়ে গেল তাঁর জীবনের শেষ যাত্রা। অটোরিকশায় করে যাওয়ার সময় ছিনতাইকারী হঠাৎ ব্যাগ টান দিলে পড়ে যান মুক্তা। গুরুতর আহত মুক্তাকে কয়েক হাসপাতাল ঘুরে নেওয়া হয় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। সেখানেই দুপুরে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে রাজধানীর উত্তরা এলাকায় চলন্ত অটোরিকশায় বসে ছিলেন মুক্তা। হাউজবিল্ডিং মার্কেটের পথে, মেট্রোরেল স্টেশনের মাঝামাঝি এলাকায় হঠাৎ একটি চার চাকার গাড়ি এসে কাছ ঘেঁষে দাঁড়ায়। মুহূর্তের মধ্যে গাড়ি থেকে হাত বাড়িয়ে তাঁর ব্যাগ টান দেয় ছিনতাইকারীরা।
পাশাপাশি শেখ হাসিনা ভারতে চলে যাওয়ার পরের পর্বে বিভিন্ন জেল থেকে সশস্ত্র কর্মকাণ্ডে অভিযুক্ত একাংশকে ছাড়া হয়। মহম্মদ ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গত ১৮ মাসে অনেক সশস্ত্র কর্মকাণ্ডে জড়িত একাধিক অপরাধী জেল থেকে বেরিয়ে এসেই গা ঢাকা দিয়ে আবার পূর্বের সন্ত্রাসী কার্যক্রমে ফিরে গেছে। জুলাই অভ্যুত্থানের সময় যে অস্ত্রগুলো লুট হয়েছিল সেগুলো ইউনুস সরকার উদ্ধার করতে পারেনি। নরসিংদীসহ দেশের বিভিন্ন কারাগার থেকে এমন অনেকে পালিয়ে গেছে। এখনও তারা ধরা পড়েনি।
Comments :0