ডাবল ইঞ্জিনের সরকারের মাহাত্ম্য প্রচার করে নতুন নতুন রাজ্যে ক্ষমতা দখল করতে চায় নরেন্দ্র মোদীর দল। গত বছর বিহার দখলের পর এবার তাদের প্রধান লক্ষ্য পশ্চিমবঙ্গ। একই সঙ্গে কেরালা, তামিলনাডুতে ভোট হলেও সেখানে বিশেষ সুবিধা হবার নয় বুঝে কেন্দ্রীয় সরকার এবং বিজেপি একযোগে বাংলায় ঝাঁপিয়ে পড়েছে। তৃণমূলের অপশাসন ও দুঃশাসনের জেরে রাজ্যে কার্যত রোজগারের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়াকে সামনে রেখে বিজেপি’র স্লোগান, ‘চাকরির দরকার তাই বিজেপি’-র সরকার। কাজের হাহাকারের ফলে পেটের দায়ে এরাজ্যের ছেলে-মেয়েরা বাধ্য হয় ভিন্ন রাজ্যে পরিযায়ী হতে। ঘরবাড়ি, আপনজনকে ছেড়ে ভিন রাজ্যে বহু কষ্টে জীবন কাটাতে হয় বাড়িতে টাকা পাঠানোর জন্য। এই পরিযায়ীদেরই লোভ দেখাচ্ছে বিজেপি ক্ষমতায় এলে নাকি আর কাউকে বাংলা থেকে বাইরে কাজ করতে যেতে হবে না। মোদীর দল নাকি এ রাজ্যেই সকল বেকারদের জন্য কাজের ব্যবস্থা করে দেবে। এমন কথাও জোর গলায় প্রচার করছে যে তারা সরকারে এলে সমস্ত সরকারি শূন্য পদে নিয়োগ করবে। স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়েও নাকি শিক্ষকের কোনও শূন্য পদ থাকবে না।
স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী থেকে বিজেপি’র নেতা-মন্ত্রীরা যখন এমন নির্ভেজাল মিথ্যে কথাগুলি বলেন তখন সামান্য হলেও লজ্জায় মুখগুলি রাঙা হওয়া উচিত। কিন্তু তেমন কিছু হয় না। কারণ মিথ্যা ভাষণে তারা এতটা অভ্যস্ত যে তাদের লজ্জাবোধটাই উবে গেছে। ধরা যাক গুজরাটের কথা, মোদীর নিজের রাজ্য। বহুদিন তিনি নিজে সেখানে মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। কেন্দ্রীয় নেতা-মন্ত্রীরা প্রকাশ্যে ঘোঘণা করুন গুজরাটে বেকার নেই, থাকলেও ধর্তব্যের মধ্যে নয়। এটাও বলুন গুজরাটে সরকারি ক্ষেত্রে কোনও শূন্যপদ নেই। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকেরও অভাব নেই। এই গুজরাটকেই মোদীরা সারা দেশের মধ্যে উন্নয়নের মডেল রাজ্য হিসাবে প্রদর্শন করেন। অথচ সরকারি তথ্য পরিসংখ্যানই প্রমাণ করে দেয় বিকাশের বহু কেন্দ্রিক মাপকাঠিতে কেরালা থেকে বহু যোজন পিছিয়ে আছে গুজরাট। শিক্ষায়, স্বাস্থ্যে, কর্মসংস্থানে, ন্যূনতম মজুরিতে অনেক এগিয়ে কেরালা।
বিজেপি মনে করে হিন্দুত্বের গর্ভগৃহ উত্তর প্রদেশ। সেখানেও বহু দিন থেকে চলছে ডাবল ইঞ্জিনের সরকার। বেকারির হার কমেছে কি? যোগীর রাজ্যে অর্ধেক শিক্ষক পদই শূন্য। দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরিযায়ী শ্রমিক ভিন রাজ্যে যায় কাজ করতে। একইভাবে মধ্য প্রদেশ, রাজস্থানেও ডাবল ইঞ্জিনের সরকার চলছে। বেকারির হার কমেছে কি? রাজস্থানে তো সরকারি হিসাবই বলছে গত পাঁচ বছরে কোনও সরকারি নিয়োগ হয়নি। এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জে ২২ লক্ষ নথিভুক্ত বেকার। বিহারও অনেকদিন ডাবল ইঞ্জিনের দখলে। পরিযায়ী শ্রমিকের সংখ্যায় উত্তর প্রদেশকেও টক্কর দিতে চায় বিহার। আসামের ডাবল ইঞ্জন তো শিক্ষা, চাকরি থেকে হাত তুলে দিয়ে সংখ্যালঘু মুসলিম বিদ্বেষের আগুন জ্বালিয়ে পরিত্রাণ পেতে চাইছে।
আজিম প্রেমজী বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য প্রকাশিত সমীক্ষা রিপোর্ট বলছে দেশে শিক্ষিত বেকারের হার বাড়ছে। স্নাতোকদের ৪০ শতাংশেরই কোনও কাজ নেই। উচ্চমাধ্যমিক পাশদের ৫২ শতাংশ কোনও না কোনও কাজ করেন। মাসিক বেতনের স্থায়ী কাজ করেন মাত্র ৪ শতাংশ। স্নাতকদের ৪৯ শতাংশ কোনও না কোনও কাজ করেন। স্থায়ী বেতনে কাজ করেন ৭ শতাংশ। এক দশক ধরে সিঙ্গল ইঞ্জিন ও ডাবল ইঞ্জিনের সরকার চালিয়ে দেশকে এই জায়গায় টেনে নামিয়েছে। ন্যূনতম লজ্জা থাকলে আর যাই হোক চাকরি দেবার প্রতিশ্রুতি দিতে পারত না।
BJP and Bengal
নির্লজ্জতারও সীমা থাকে!
×
Comments :0