ভোটাধিকার রক্ষা সহ গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার পক্ষে প্রচার আন্দোলন গড়বে সিপিআই(এম)। শ্রম কোড চালুর বিরুদ্ধে জারি থাকবে প্রচার। শ্রমিক বিরোধী বিধি প্রয়োগ না করার দাবিতে সব রাজ্যে চলবে আন্দোলন।
মঙ্গলবার বিবৃতিতে এই লক্ষ্য জানিয়েছে সিপিআই(এম) কেন্দ্রীয় কমিটি। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরান, প্যালেস্তাইন, ভেনেজুয়েলা, কিউবায় সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রচার জোরালো করা হবে। মহিলাদের আসন সংরক্ষণ এখনই চালু করার দাবিতে গণজমায়েত করা হবে।
২২-২৪ মে দিল্লিতে কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে পাঁচ রাজ্যের ফলাফলের বিশ্লেষণ হয়েছে। ফলাফলের পিছনে রাজনৈতিক, সাংগঠনিক এবং আদর্শগত বিষয়গুলি পর্যালোচনা করা হয়েছে। কেরালা, পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি তামিলনাডু, আসামে সিপিআই(এম) প্রাথমিক স্তর থেকে বিশ্লেষণের রিপোর্ট তৈরি করবে। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় সিপিআই(এম) ফের মত জানানোর সুযোগ পেয়েছে। তাকে ইতিবাচক বলেছে কেন্দ্রীয় কমিটি।
সামগ্রিক বিচারে বলা হয়েছে যে হিন্দুত্ববাদী সাম্প্রদায়িক শক্তি সমাজে নিজেদেরকে সংহত করতে পেরেছে। পশ্চিমবঙ্গে সরকারে আসীন হতে পেরেছে। কেরালা এবং তামিলনাডুতে সংখ্যায় কম আসনে জয়ী হলেও বিজেপি’র প্রভাব বেড়ে যাওয়া উদ্বেগজনক।
‘ইন্ডিয়া ব্লক‘ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, অতি দক্ষিণপন্থী শক্তির উত্থান মোকাবিলায় সব বাম, প্রগতিশীল, ধর্মনিরপেক্ষ এবং গণতান্ত্রিক শক্তির ঐক্য জরুরি। কিন্তু কংগ্রেসের ভূমিকা এই প্রশ্নে সহায়ক নয়। কেরালায় কংগ্রেসের প্রচারের সমালোচনা করা হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গে ফ্যাসিস্ট শক্তির মোকাবিলা একমাত্র করতে পারে বামপন্থীরাই : বেবি
আসন পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশন প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, দেসের নির্বাচনী মানচিত্র বদলে দিতে চাইছে বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার। মহিলাদের আস সংরক্ষণকে এর সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে। নিরবাচনী নিজেদের সুবিধার জন্য ডিলিমিটেশন করতে চাইছে বিজেপি। দক্ষিণের রাজ্যগুলির গুরুত্ব কমাতে চাইছে। নিজেদের এজেন্ডা কার্যকর করতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করছে বিজেপি, ফের তা প্রমাণিত।
এসআইআর প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, নতুন একটি মাপকাঠি ‘যুক্তিগ্রাহ্য অসঙ্গতি‘ তৈরি করে বহু মানুষের ভোটাধিকার কাড়া হয়েছে। বিচার ব্যবস্থা এই মানুষের ভোটাধিকার রক্ষা করতে ব্যর্থ। কোনও একটি রাজনৈতিক দলের স্বার্থে ভোটার তালিকায় কারসাজি কখনও দেশে হয়নি। গোটা প্রক্রিয়ায় নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
কেন্দ্রীয় কমিটি বলেছে, আরও ১৭ রাজ্যে এসআইআর করা হবে। প্রকৃত ভোটাদাতার ভোটাধিকার যাতে কেড়ে নেওয়া না হয় নিশ্চিত করতে হবে নির্বাচন কমিশনকে।
বিহার এবং পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর-এ বাদ নামের সরকারি সুযোগ কেড়ে নেওয়ার তীব্র বিরোধিতা করেছে সিপিআই(এম)।
ফুটবল বিশ্বকাপ দেখানোর ব্যবস্থা, ককরোচ জনতা পার্টি, নিট প্রশ্ন ফাঁস, মহিলা-দলিত-আদিবাসীদের ওপর আক্রমণ, শ্রমজীবী বিক্ষোভ, মনরেগা বাতিল, সারের অভাব, পেট্রোপণ্যের দামবৃদ্ধি, ভারতীয় অর্থনীতির বেহাল দশায় ক্ষোভ জানিয়েছে কেন্দ্রীয় কমিটি।
Comments :0