সন্তানের জন্মের আগেই অন্নপ্রাশনের ব্যবস্থা করে ফেলেছেন এ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। যে গুন্ডাদমন আইনের এখনও গেজেট বিজ্ঞপ্তি হয়নি, এমন কি স্বাক্ষর মেলেনি রাষ্ট্রপতির, সেই গুন্ডা দমন আইন প্রয়োগ করে দেশজুড়ে চলমান ছাত্র-যুব আন্দোলনকারীদের চরম সাজা দেবার কথা ঘোষণা করে দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। দিল্লির যন্তর মন্তর থেকে হার না মানা জেদি ছাত্র-যুবরা সংসদ অভিযানের সময় অমিত শাহ’র পুলিশের নৃশংস অত্যাচার ও বেপরোয়া গ্রেপ্তারির বিরুদ্ধে কলকাতায় নজিরবিহীন ছাত্র বিক্ষোভ দেখে রক্তচাপ বেড়ে গিয়েছিল রাজ্যের নতুন শাসক বিজেপি’র। স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী এতটাই ভয় পেয়ে গেছেন যে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে লাগাম ছাড়া হুমকি দিতে শুরু করেন। যে বিক্ষোভের সঙ্গে ধর্ম-বর্ণ-সম্প্রদায়ের কোনও সম্পর্ক নেই তাকে সামনে রেখে ধর্মীয় ঘৃণা ও বিদ্বেষ ছড়াতে থাকেন। সচেতনভাবে হুমকি দেন গুন্ডাদমন আইন প্রয়োগ করে শুক্রবারীদের এমন ব্যবস্থা নেওয়া হবে যাতে গুন্ডাদের তিন পুরুষ সেটা মনে রাখে। খোদ বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান ধর্মতলায় ছাত্র বিক্ষোভে যারা হাঙ্গামা করেছে তাদের ৭০ জনকে চিহ্নিত করা গেছে। এরা ছাত্র নয়, নিট আন্দোলনেও যুক্ত নয়। একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের দিকে তাক করে তিনি এদের শুক্রবারী বলেছিলেন। কয়েকজনকে কুখ্যাত দুষ্কৃতীও বলেছিলেন। শেষ পর্যন্ত ধৃত ১৬ জনের সকলকেই জামিনে মুক্ত করেছে আদালত। মুখ্যমন্ত্রী তড়পালেও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না। প্রতিবাদ করার, মিছিল করার, বিক্ষোভ দেখানোর অধিকার তাদের সংবিধান স্বীকৃত। শুভেন্দুরা চেয়েছেন সংবিধানকে উপেক্ষা করে নিজেদের খেয়ালখুশি মতো বিরোধিতা ও প্রতিবাদ দমন করতে।
বিধানসভায় গুন্ডা দমন বিল পাশ করিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন গুন্ডারাজ খতম করবেন। নানা সভা সমিতিতে প্রতিদিনই তিনি এই আইন নিয়ে লাগাতার হুমকি দিয়ে চলেছেন। দলের নেতা-কর্মীরা হুঙ্কার দিচ্ছেন বাংলা থেকে ধর্মনিরপেক্ষতায় বিশ্বাসী এবং মার্কসবাদীদের উৎখাত করা হবে। এদের বিরুদ্ধে ডিম থেরাপি চালু হবে। স্পষ্ট সংবিধানকে উপেক্ষা করছে। আসলে গুন্ডা দমনের নাম করে চরম স্বৈরাচারী মানসিকতা থেকে সমস্ত বিরুদ্ধ স্বর ও প্রতিবাদী কণ্ঠ স্তব্ধ করাই লক্ষ্য। রাজনৈতিক ও মতাদর্শগত লড়াইয়ে গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল এবং বামপন্থীদের সঙ্গে বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদ বিরোধী ধর্মান্ধ হিন্দুত্ববাদীরা কোনোদিনই পেরে উঠবে না। তাই ফ্যাসিবাদী কায়দা বিরোধিতা দমনের অস্ত্র তৈরি করছে। গুন্ডা দমন আইন তেমনি একটা অস্ত্র। ব্রিটিশ আমলের গুন্ডা দমন আইনকে পুনরায় সামনে এনেছে ব্রিটিশদের উত্তরাধিকারীরা।
শুভেন্দুদের ক্ষমতার রাজনীতি ও প্রতিহিংসার রাজনীতির চোখে বিরোধীরা গুন্ডা। কিন্তু আসল গুন্ডা তো তারা যারা প্রকাশ্য রাজপথে স্বীকৃত রাজনৈতিক দলের পতাকা পা দিয়ে মাড়ায়, লাথি মারে, আগুনে পোড়ায়। গুন্ডা তো সে যে নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর সঙ্গী ও অনুগামীদের গুন্ডা বলে। গুন্ডা তো তারা যারা কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের ছবিতে জুতো ঝোলায়। মুখ্যমন্ত্রী এইসব গুন্ডাদের কবে গ্রেপ্তার করে সাজা দেবেন যাতে তিন পুরুষ মনে রাখতে পারে।
Editorial
সোমবারী গুন্ডারা ছাড় পাবে কেন?
×
Comments :0