মলয়কান্তি মণ্ডল: রানিগঞ্জ
দেশের সংবিধান থেকে ধর্মনিরপেক্ষতা, গণতন্ত্র ও সমানাধিকার সরিয়ে দিতে চাইছে বিজেপি-আরএসএস। সংবিধান বদলে মনুসংহিতা অনুযায়ী দেশ চালাতে চায়। জাতপাত, ধর্ম ও বর্ণ ভিত্তিক বৈষম্যর নীতির ফলেই দেশের গরিব, দলিত, শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আক্রান্ত হচ্ছে। সমাজে সমতা প্রতিষ্ঠা, বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই এবং শোষিত মানুষের কণ্ঠস্বর জোরালো করতে হবে।
বৃহস্পতিবার সামাজিক ন্যায় মঞ্চের পশ্চিম বর্ধমান জেলা কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত সমাবেশে রানিসায়েরের কাঁটাগড়িয়া মাঠে একথা বলেন, দলিত শোষণ মুক্তি মোর্চার সাধারণ সম্পাদক রামচন্দ্র ডোম।
আগামী ৬ অক্টোবর কলকাতার সমাবেশে যোগ দেবেন সামাজিক ন্যায় মঞ্চের সদস্যরা। এদিন প্রাকৃতিক দুর্যোগ উপেক্ষা করে বহু মানুষ সমাবেশে শামিল হন।
এছাড়াও বক্তব্য রাখেন সামাজিক ন্যায় মঞ্চের রাজ্য সম্পাদক অলকেশ দাস, পশ্চিম বর্ধমান জেলা সম্পাদক নারান বাউরি, আদিবাসী অধিকার মঞ্চের নেতা বিনিয় হাঁসদা। সভাপতিত্ব করেন দিলীপ বাউরি।
এদিন সমাবেশে রামচন্দ্র ডোম বলেন, কোটি কোটি দলিত,আদিবাসী, শ্রমজীবী মানুষ কেন পিছিয়ে আছে? তারা পেটে খিদে নিয়ে ঘুমাতে যান, শিক্ষা, স্বাস্থ্যের অধিকার থেকে বঞ্চিত। মোদী সরকারের সমালোচনা করে বলেন, বিজেপি বেসরকারি মালিকের হাতে দেশের সম্পদ তুলে দিচ্ছে। দেশের কয়লাখনি, রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানা করপোরেট মালিকের কাছে সঁপে দেওয়ার আইন হচ্ছে।
তিনি মনে করিয়ে দেন যে কর্পোরেট মালিকেরা শুধুই মুনাফা চায়, দেশ সেবা করতে আসে না। বিজেপির নতুন শিক্ষানীতি অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গের সরকারি স্কুল বন্ধ হচ্ছে। নতুন নতুন বেসরকারি স্কুল গজিয়ে উঠেছে। গরিব ও সমাজের পিছিয়ে পড়া ছেলেমেয়েরা কোথায় পড়াশোনা করবে? সরকারি হাসপাতালের পরিকাঠামোর উন্নতি হচ্ছে না। কোথায় চিকিৎসা হবে? সরকার হাত গুটিয়ে নিচ্ছে।
সামাজিক ন্যায় মঞ্চের রাজ্য সম্পাদক অলকেশ দাস বলেন, জাতপাতের ভিত্তিতে দলিতদের উপর আক্রমণ ৫৭ শতাংশ বেড়েছে। শোষণ বাড়ছে। রুটি রুজি নেই। তিনি বলেন, তৃণমূল কংগ্রেসের কায়দায় পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার চলছে। পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তারা সরকার গঠন করলে গ্যাসের দাম কমবে, বিদ্যুতের দাম কমবে। সব মহিলারা অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের টাকা পাবে। সরকার গঠন করে তারা গরিব মানুষদের ঠকিয়েছে। চার মাসের বিজেপি সরকারের হালচাল দেখে তিনি বলেন, সকাল দেখে বোঝা যায়, সারাদিন কেমন যাবে। দলিত, আদিবাসী গরিব মানুষেরা সবচাইতে বেশি আক্রান্ত। গরিব, দলিত,আদিবাসী মানুষের ঐক্য গড়ে অধিকার রক্ষার দাবিতে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান নেতৃবৃন্দ।
Comments :0