ভাঙড় থেকে জলপাইগুড়ি রাজ্যের একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বহিরাগতদের প্রবেশ, পুলিশি হস্তক্ষেপ এবং সরকারি শিক্ষাব্যবস্থার উপর আক্রমণের অভিযোগ তুললো এসএফআই। শিক্ষা ব্যবস্থাকে রক্ষা, ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখা এবং বেসরকারিকরণের বিরুদ্ধে আন্দোলন জোরদার করার ডাক দেওয়া হয়েছে সংগঠনের পক্ষ থেকে। আগামী ৭ ও ৮ অক্টোবর জলপাইগুড়িতে এসএফআইয়ের বর্ধিত অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয়করণ, বেসরকারিকরণ ও সাম্প্রদায়িকীকরণ বন্ধ করা, পিছিয়ে পড়া অংশের ছাত্রছাত্রীদের জন্য বিশেষ স্কলারশিপ ঘোষণা এবং স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে পরিচালন সমিতি গঠন করার দাবিতে হবে এই অধিবেশন।
এসএফআই রাজ্য সভাপতি প্রণয় কার্য্যী অভিযোগ করেন, ভাঙড় থেকে জলপাইগুড়ি কোনও ক্যাম্পাসই বহিরাগতদের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না। তার দাবি, পরিকল্পিতভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা চলছে এবং বিজেপি নিজেদের লোকজনকে বিভিন্ন ক্যাম্পাসে ঢোকাতে চাইছে। একইসঙ্গে জলপাইগুড়ি ও ভাঙড়ে ক্যাম্পাসের ভিতরে ছাত্রদের উপর পুলিশি হামলার অভিযোগও তোলেন তিনি।
প্রণয়ের দাবি, রাজ্যের ৯৩৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ বা বিক্রির পথে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে। সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থাকে দুর্বল করে বেসরকারিকরণের দিকে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। শিক্ষা ক্ষেত্রকে রক্ষা করার পাশাপাশি কলেজে ছাত্র সংসদ নির্বাচন এবং স্কুল পরিচালন কমিটির নির্বাচন চালুর দাবিও তোলা হয়েছে।
চা-বলয়ের আদিবাসী ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর ছাত্রছাত্রীদের জন্য বিশেষ স্কলারশিপের ব্যবস্থার অভাব নিয়েও সরব হন তিনি। রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থা রক্ষায় সমাজের সমস্ত অংশের মানুষকে একজোট হওয়ার আহ্বান জানান এসএফআই নেতৃত্ব।
অন্যদিকে, ভাঙড় কলেজের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে সরব হন দেবাঞ্জন দে। তিনি বলেন, ‘গত ১৫ বছর ধরে রাজ্যের শিক্ষাক্ষেত্রে আক্রমণ চলছে এবং বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর সেই আক্রমণের মাত্রা আরও বেড়েছে।’ তার দাবি, ভাঙড় কলেজের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ নেই সেই সায়ন্তন বসুকে ওপর থেকে চাপিয়ে কলেজ পরিচালন সমিতির সভাপতি করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের দাবি শিক্ষাবিদ এবং শিক্ষার প্রতি অনুরাগী ব্যক্তিকেই কলেজ পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া উচিত।’
দেবাঞ্জনের অভিযোগ, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ কায়েম করার চেষ্টা চলছে। ভাঙড় কলেজের ছাত্রছাত্রীরা শিক্ষকের অভাব, কেমিস্ট্রি ল্যাবের পরিকাঠামোর সমস্যা, ক্যান্টিনের অভাব এবং লাইব্রেরিতে পর্যাপ্ত বই না থাকার মতো বিষয় জানাতে গিয়েছিলেন। সেই সময়ই বহিরাগতদের নিয়ে কলেজে প্রবেশ করেন পরিচালন সমিতির সভাপতি সায়ন্তন বসু। এর প্রতিবাদ করায় ছাত্রদের উপর পুলিশি আক্রমণ চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
কলেজ ক্যাম্পাসে পুলিশ ডাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কে, সেই প্রশ্নও তোলেন দেবাঞ্জন।তিনি বলেন, ‘গণতান্ত্রিকভাবে নিজেদের দাবি জানাতে গিয়ে ছাত্রদের যদি ক্যাম্পাসের ভিতরেই পুলিশি হস্তক্ষেপের মুখে পড়তে হয়, তাহলে তা নিয়ে জবাবদিহি প্রয়োজন। সায়ন্তন বসুর নির্দেশে পুলিশ ডাকা হয়ে থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে তাকে পদত্যাগ করতে হবে।’
গতকালের বারুইপুর কলেজের ঘটনা নিয়েও সরব হন দেবাঞ্জন। তিনি বলেন, ‘শাহরুখ ও আসলামের জামিনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিচারব্যবস্থার উপর আক্রমণের চেষ্টা হয়েছে।’ একইসঙ্গে ভাঙড় আদালতে আইনজীবী সায়ন ব্যানার্জির উপর হামলার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এই ধরনের ঘটনা আসলে আইনের শাসনের উপর আক্রমণ।
সরকারি স্কুলগুলির আর্থিক পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন দেবাঞ্জন। তার অভিযোগ, স্কুলগুলিতে কম্পোজিট গ্রান্টের টাকা যথাযথভাবে পৌঁছচ্ছে না। সরকারি স্কুলের পরিকাঠামো ও শিক্ষাব্যবস্থা শক্তিশালী করার দাবিতে ‘স্কুল বাঁচাও, মূল বাঁচাও’ স্লোগানকে সামনে রেখে এসএফআই আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।
তার আরও অভিযোগ, সরকারি স্কুলকে বেসরকারিকরণের পথে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা চলছে। স্কুল শিক্ষায় সরকারি বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি জানান তিনি।
SFI
শিক্ষা ক্ষেত্রে বেসরকারিকরণ ও সরকারি হস্তক্ষেপের অভিযোগ, জলপাইগুড়িতে বর্ধিত অধিবেশনের ডাক এসএফআই-এর
×
Comments :0