মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদ থেকে সরাতে হবে জ্ঞানেশ কুমারকে। বন্ধ করতে হবে এসআইআর প্রক্রিয়া। স্বাধীন নির্বাচন কমিশন গঠনের দাবিতে ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ২ অক্টোবর দেশের সর্বত্র জমায়েত করবে সিপিআই(এম) সহ বামপন্থী পাঁচ দল।
বৃহস্পতিবার বৈঠকের পর যৌথ বিবৃতিতে এই সিদ্ধান্ত জানিয়েছে বামপন্থী পাঁচ দল। বিবৃতিতে সই করেছেন সিপিআই(এম)’র সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি, সিপিআই’র সাধারণ সম্পাদক ডি রাজা, সিপিআই(এমএল) লিবারেশনের সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্য, আরএসপি’র সাধারণ সম্পাদক মনোজ ভট্টাচার্য এবং ফরওয়ার্ড ব্লকের সাধারণ সম্পাদক জি দেবরাজন।
পাঁচ বাম দলের দাবি নির্বাচন কমিশনের স্বাধীন এবং গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে কাজের ধারা নিশ্চিত করতে হবে। সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শ অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনার বাছাই পদ্ধতি চালু করতে হবে। বাছাই কমিটিতে প্রধানমন্ত্রী, লোকসভার বিরোধী দলনেতার পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতিকে রাখতে হবে।
পাঁচ বাম দলের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দশ মাসে ১৪ বার চিঠি দিয়েছেন দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবিন্দর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশী। কিন্তু মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার তা গ্রাহ্য করেননি। গুরুত্বপূর্ণ হলো, এসআইআর প্রক্রিয়া থেকে ভোটার তালিকায় নাম তোলার ৬ নম্বর ফর্মে পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়ে বারবার প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। বিধি অনুযায়ী সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে তাঁদের মতামতই গ্রাহ্য হওয়ার কথা। কিন্তু একা জ্ঞানেশ কুমার সব আপত্তি খারিজ করে দিয়েছেন। তাঁদের অনুমতি না নিয়ে সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন দুই নির্বাচন কমিশনার।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি বারবার যে বিষয়গুলি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে বা প্রশ্ন তুলেছে দুই নির্বাচন কমিশনারও তেমন একাধিক বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে যে এসআইআর এবং ভোটার তালিকা তৈরিতে স্বচ্ছ এবং বিকেন্দ্রীকৃত প্রক্রিয়া নিয়ে চলার দাবি একেবারেই ভিত্তিহীন।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গোয়ায় ৯৭ জন ভোটারকে অযোগ্য ঘোষণা করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ইআরও-দের বক্তব্য জানানোর উপায়ই রাখা হয়নি সফ্টওয়ারে। বিষয়টি এসআইআর-র চেয়েও অনেক বড়। নির্বাচন কমিশনের কাজের পদ্ধতি এবং সব প্রাপ্তবয়স্কের ভোটাধিকারের প্রশ্ন জড়িয়ে রয়েছে। কোনও ব্যবস্থায় যখন ভোট দেওয়ার অধিকারকে নির্ভর করতে হয় একটি অস্বচ্ছ, কেন্দ্রীভূত প্রক্রিয়ায় তখন নির্বাচন ব্যবস্থার ওপর জনতার অনাস্থা তৈরি হয়।
পাঁচ বাম দল বলেছে, আগে কখনও নির্বাচন কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতা এবং স্বাধীনতা এত নিচু স্তরে নামেনি। জ্ঞানেশ কুমারকে জবাবদিহি করতে বাধ্য করতে হবে। নির্বাচন কমিশনের ওপর থেকে জনতার ভরসা চলে যাওয়র জন্য তিনিই দায়ী।
LEFT PARTYS
জ্ঞানেশ কুমারকে সরানোর দাবিতে দেশজুড়ে পথে নামছে পাঁচ বামপন্থী দল
×
Comments :0