Md Salim in Inquilab Rally DYFI

বামপন্থীদের ভয় দেখানো যাবে না, মতাদর্শের পথেই হবে লড়াই: ‘ইনকিলাব‘ সমাবেশে সেলিম

রাজ্য কলকাতা

রবিবার ডিওয়াইএফআই’র ডাকে ধর্মতলায় সমাবেশে সেলিম।

পূজা বোস ও অরিজিৎ মণ্ডল

প্রতিশ্রুতি পালন করছে না। উলটে জনতার লড়াই ভাঙতে ধর্মের বিভাজন করছে বিজেপি সরকার। রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ধর্মতলায় ডিওয়াইএফআই’র ইনকিলাব সমাবেশে একথা বলেছেন সংগঠনের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। তিনি বলেছেন, দেশটাকে এক রাখতে হবে। ডিওয়াইএফআই’র পতাকায় লাল তারা রয়েছে। সেটি তার লক্ষ্য। তৃণমূলের নাম এবং প্রতীক শুভেন্দু অধিকারী কেড়ে নিতে পারেন। কিন্তু মতাদর্শগত লক্ষ্য থেকে ডিওয়াইএফআই’র মতো বামপন্থী যুব সংগঠনকে বিচ্যুৎ করতে পারবে না। স্রোতে ভেসে যাওয়ার রাজনীতি বামপন্থীরা করে না।  
সেলিম বলেন, যন্তর মন্তর থেকে আজকের ধর্মতলা দেখাচ্ছে যে দেশের যুবজনতা মাথা নিচু করতে নারাজ। তিনি বলেন, রাজনীতি মানে ‘লেগে পড়ো’, ‘ভেগে পড়ো‘ নয়। তৃণমূল এবং বিজেপি দু’দলই এই রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। মমতাও তো ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করেছিলেন। কিন্তু রাজনীতিতেই যদি কেউ হেরে যায় তাহলে ধর্ম দিয়েও তাকে বাঁচানো যায় না।
সেলিম বলেন, আমরা ধর্মের বিরুদ্ধে নই। কিন্তু কোনও ধর্মকে অন্য কোনও ধর্মের উপর চাপিয়ে দেওয়ার বিরুদ্ধে। ধর্ম নিয়ে মাতামাতি সরকারের কাজ নয়। সরকারের কাজ, শিক্ষা, কাজ, ব্যবসা-বাণিজ্য ঠিক চলছে কিনা তা দেখা। 
সেলিমের ক্ষোভ, বিজেপি’র সরকার আসীন হয়ে নিজেদের প্রতিশ্রুতি পালন করছে না। শিক্ষা-কাজের ব্যবস্থা করছে না। উলটে ধর্ম দিয়ে মানুষের লড়াইয়ে বিভাজনের চেষ্টা করছে। সেলিমের কটাক্ষ, ‘কেয়া হুয়া, তেরা ওয়াদা’!  তিনি বলেন, এরা বাঙলাকে চেনে না। সিপিআই(এম) বুক স্টলে কী লিখবে তা শুভেন্দু ঠিক করে দেবেন? কোন সংবিধান এই অধিকার‌ দেয়? 


সেলিম বলেন, সুকান্তর ওপর বিজেপি-আরএসএস’র রাগ কেন? দুর্ভিক্ষের সময় তিনি লিখেছিলেন ‘শোন রে মালিক, শোনরে মজুতদার, তোদের প্রাসাদে জমা হলো কতো মৃত মানুষের হাড়। হিসেব কী দিবি তার‘। তখন বাংলায় দুর্ভিক্ষ চলছে। সরকারি অবহেলার প্রতিবাদেই লেখা। ৩০-৪০ লক্ষ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। শ্যামাপ্রসাদ ব্রিটিশ শাসনে বাংলার ফজলুল হক মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন। আর সুভাষচন্দ্র বসুর ওপর রাগ কারণ এই হিন্দু মহাসভা আর মুসলিম লিগ, ধর্মের নামে দুই ধরনের রাজনীতিকেই ধিক্কার জানিয়েছিলেন সুভাষচন্দ্র বসু। আজ শ্যামাপ্রসাদকে নায়ক সাজাতে গিয়ে সুকান্তের ছবিতে পুলিশের সামনে জুতোর মালা পরানো হচ্ছে। যারা ভাবছে এভাবে বাংলার পরিবর্তন করবে তারা জেনে রাখুক বাংলার মানুষ তাদেরই পরিবর্তন করে দেবেন। (আরও দেখুন: ‘ইনকিলাব’ সমাবেশে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে জোরালো লড়াইয়ের আহ্বান মীনাক্ষী, আভাসের/ ছাত্র-যুবদের শক্তিকে ভয় পেয়েছে বিজেপি, বাড়বে লড়াই, ঘোষণা ‘ইনকিলাব’ সমাবেশে

সেলিম বলেন, এই পুলিশ মমতা আর ভাইপোর দালালি করেছে। উর্দি একই এখন দল বদলে নিয়েছে। আমাদের বামপন্থীদের ওপর হামলা হচ্ছে আর পুলিশ চুপ করে দেখছে। এই লড়াই আমরা গত পনের বছরে বারবার করেছি।
লড়াই একা হয় না। জোট বাঁধতে হয়। আজকে দেশের যৌবন তা বুঝেছে। মোদী-অমিত শাহেরা বলে প্রতিবাদ করবে না। যাতে মগজে বিষ ঢুকিয়ে দিতে পারে। এখানে মুখ্যমন্ত্রী গুন্ডাদমন আইন এনেছে। আমরা গুন্ডাদমন আইনকে ভয় করি না, আমরা গুন্ডা দমন করতে জানি। বামপন্থীদের ভয় দেখানো যাবে না। লাহেক আলিকে জেলে পুরে ভেবেছিল ভয় দেখিয়ে দেবে। বিধানসভায় বলেছে তিনপুরুষ জেলে ঢুকিয়ে দেবে। লাহেক আলিকেও আটকে রাখতে পারেনি। আমরা আইনের পথে লড়াই করতে জানি। 
সেলিম বলেন, ওরা আজাদি শুনলেই রেগে যায়। কবে ইংরেজের নুন খেয়েছে। এখনও গুন গাইছে। 
ফ্যাসিস্টরা, দক্ষিণপন্থীরা ইতিহাসকে ভুলিয়ে দিতে চায়। মমতা ব্যানার্জি বলতেন যেন ২০১১ থেকে বাংলার ইতিহাস শুরু হয়েছে। নরেন্দ্র মোদী প্রধানমন্ত্রী হয়ে বলেছিলেন যেন ২০১৪ থেকে ভারতের ইতিহাস শুরু হয়েছে। আর আমরা স্বাধীনতার লড়াইয়ের ইতিহাস, নওজোয়ান ভারত সভার ইতিহাসকে স্মরণ করছি। 
সেলিম বলেন, এরা আজ সবার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। আর মনে করেছে কাকেশ্বর বকেশ্বর নিয়ে এসে মানুষকে বোঝাচ্ছে কী আচরণ করতে হবে। আমাদের এসব লোকের দরকার হয় না। আমরা ভগৎ সিং, আসফাকুল্লা, সূর্য সেনদের ছবি রেখেছি। আমাদের ইতিহাস মানে জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে ব্রিটিশের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ইতিহাস। আর যারা ব্রিটিশের দালালি করেছিল তারা সেই ইতিহাসকে অস্বীকার করতে চাইছে।

Comments :0

Login to leave a comment