গোঘাটে সিপিআই(এম) নেতা-কর্মীদের বেধড়ক মারধর করল বিজেপি’র দুষ্কৃতী বাহিনী। সিপিআই(এম) দপ্তরে চলল ভাঙচুর।
রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, গোঘাটের এই হামলায় প্রবীণ সিপিআই(এম) নেতা এবং হুগলী জেলা কৃষক সমিতির সভাপতি ভাস্কর রায়কে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে । এমনকি তাঁর মোবাইল ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
জলপাইগুড়িতে সিপিআই(এম)’র জেলা দপ্তর থেকে চন্দ্রকোনা, গড়বেতা, সোনারপুর বা যাদবপুরে সিপিআই(এম)’র দপ্তরে হামলা হয়েছে। বিজেপি দুষ্কৃতী বাহিনীর একের পর এক হামলায় পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে গভীর ক্ষোভ রয়েছে সর্বত্র।
এদিন এ সংক্রান্ত এক প্রশ্নে ধর্মতলায় সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেন, গোঘাটে গত কুড়ি বছর ধরে তৃণমূলের মস্তান বাহিনী হামলা চালিয়েছে। এরা এখন বিজেপি’র পতাকা নিয়ে হামলা চালাচ্ছে। আর বিজেপি নেতারা তা অস্বীকার করছেন। তিনি বলেন, তৃণমূল সরকারের সময়ে হামলার প্রতিরোধ হয়েছে। আজও হবে। পুলিশের আইসি থেকে এসপি-দের জানানো সত্ত্বেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আমরা বলছি পুলিশকে আইন মেনে চলতে হবে।
হুগলীর গোঘাটে এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ভাঙা হয়েছে শহীদ বেদী। ছিঁড়ে দেওয়া হয়েছে পতাকা। শুধু তাই নয়, রবীন্দ্রনাথের ছবির ফ্রেম ভাঙচুর করা হয়েছে। বাদ যায়নি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের ছবির ফ্রেমও। সেটিও ভেঙে ফেলেছে। সিপিআই(এম) নেতৃবৃন্দ জানিয়েছে, এলাকায় সিআইটিইউ’র সম্মেলন ছিল রবিবার। তার জন্য গোঘাট বকুলতলা থেকে রেজিস্ট্রি অফিস পর্যন্ত পতাকা লাগাচ্ছিলেন সিআইটিইউ কর্মীরা। গোঘাট রেজিস্ট্রি অফিস এলাকায় বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা সিআইটিইউ-কে পতাকা খুলে নিতে বলে। প্রতিবাদ করেন সিআইটিইউ কর্মীরা। এরপরই বেধড়ক মারধর করে পতাকা খুলে নেয় এই বাহিনী। কিছু পরেই গোঘাটে সিপিআই(এম)’র দপ্তরে এসে তাণ্ডব চালায়। নেতাকর্মীদের মারধর করা হয়। দপ্তরের দরজা, জানালা ভাঙচুর চলে।
সিপিআই(এম) বলেছে, রাজ্য তথা দেশে গণতন্ত্র বিপন্ন হচ্ছে। দলের পতাকা লাগানো যদি অপরাধ হয়ে থাকে, তাহলে কোথায় গণতন্ত্র।
ভাস্কর রায় বলেন, আমায় পতাকা খুলে নিতে বলেছে। আমি বলেছি খুলব না। তখন মারধর করেছে।
প্রবীণ সিপিআই(এম) নেতা এবং হুগলী জেলা কৃষক সমিতির সভাপতি আহত ভাস্কর রায়।
Comments :0