PURULIYA

সরকার বদলের পর মেলেনি আবাসের দ্বিতীয় কিস্তির টাকা, সার্ভের পর মিলবে বাকি টাকা বললেন বিজেপি বিধায়ক

জেলা

আবাস যোজনার দ্বিতীয় কিস্তির টাকা না পেয়ে এভাবে প্লাস্টিক টাঙিয়ে বসবাস।

আবাস যোজনার প্রথম কিস্তির টাকা পাওয়ার পর মাথা গোজার আশ্রয়টুকু ভেঙে ঘর বানানো শুরু করেছিলেন। সামান্য যেটুকু নিজস্ব পুঁজি ছিল সেটাও দিয়েছিলেন বাড়ি তৈরীর কাজে। দ্বিতীয় কিস্তির টাকা না পেয়ে অসহায় সহদেব কালীন্দি অন্যের জায়গায় প্লাস্টিক টাঙিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে বসবাস করছেন। কার্যত খোলা আকাশের নিচেই বসবাস করছেন বলা যায়। এই বর্ষার মধ্যে যেভাবে আছেন সেটা দেখে প্রতিবেশীরাও বলছেন দ্বিতীয় কিস্তির টাকা দ্রুত পাওয়া উচিত। যাতে মানুষটা অন্তত পাকা ছাদের তলায় থাকতে পারে।
                        
পুরুলিয়ার বলরামপুর বিধানসভার সোনাইজুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের মাগুড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা পেশায় দিন মজুর সহদেব কালিন্দী। স্ত্রী অন্যের বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করেন। ছেলে মেয়ে নিয়ে পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৬ জন। তপশীলি সম্প্রদায় ভুক্ত সহদেব কালিন্দী ২০২৪ সালে আবাস যোজনার বাড়ির আবেদন করেছিলেন। বিধানসভা নির্বাচনের আগে ফেব্রুয়ারী মাসে তার একাউন্টে প্রথম কিস্তির ৬০ হাজার টাকা পেয়েছিলেন। তারপর কাঁচা বাড়ি ভেঙে ২৭-১০ ফুটের সেই জমিতে পাকা বাড়ি নির্মাণের কাজ শুরু করেন। কিন্তু দ্বিতীয় কিস্তির টাকা না পাওয়ায় বাড়ির কাজ অসম্পূর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। বাধ্য হয়ে স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যার দেওয়া ২টি কালো প্লাস্টিক দিয়ে ছাওনি করে পরিবার নিয়ে বসবাস করছে পরিবারটি। প্রবল ঝড় বৃষ্টির মধ্যে প্রতি মুহূর্তে আশঙ্কা বিপদের। কোনও রকমে বাঁশ দিয়ে ইট ঝুলিয়ে বেঁধে রেখেছেন সেই প্লাস্টিককে। নতুন সরকারের কাছে আবেদন দ্বিতীয় কিস্তির টাকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক।
           
সহদেব কালিন্দীর মেয়ে রিয়া কালিন্দীর প্রশ্ন আর দ্বিতীয় কিস্তির টাকা পাওয়া যাবে কী? চূড়ান্ত অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। শোনা যাচ্ছে আবাস যোজনাটাই আর নাকি থাকবে না। পঞ্চায়েত বলছে সরকার পরিবর্তন হয়েছে। তাদের আর কিছু করার নেই। সহদেব কালিন্দী বৌদি কল্যাণী কালিন্দীর বক্তব্য, সত্যিই পরিবারটা কষ্টে আছে। লোকের ঘরে তো আর দীর্ঘদিন থাকা যায় না। অন্যের জায়গায় জমিতে প্লাস্টিক বেঁধে কোনও রকমে বসবাস করছে। বর্ষার মধ্যে কোনও মানুষ এভাবে থাকতে পারে না। কেউ দেখতেও আসে না। তার বক্তব্য তিনি নিজেও অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার পাননি। 
সহদেব কালিন্দীর বক্তব্য প্রথম কিস্তি টাকার পর কাজ শুরু হয়েছিল। নিজের পুঁজিটাও দিয়ে দিয়েছিলেন। এখন দ্বিতীয় কিস্তির টাকা না পাওয়াতে আর কাজ করতে পারছেন না। বাধ্য হয়ে এই প্লাস্টিকের তলাতেই রয়েছেন। বলরামপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক জলধর মাহাতোর বক্তব্য দ্বিতীয় কিস্তির টাকা দেওয়া হবে। তবে তার আগে সার্ভে হবে ।

 

Comments :0

Login to leave a comment