Post Editorial

ফ্যাসিস্ত হুঙ্কার বনাম কমিউনিস্ট প্রত্যয়

সম্পাদকীয় বিভাগ

ময়ূখ বিশ্বাস
এই গ্রীষ্মেই কিউবার ওপর চরম আঘাত হানতে প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরানে ল্যাজেগোবরে হওয়া, শিশু-নারীদের ওপর জঘন্য অত্যাচারের কিসসা ‘এপস্টিন ফাইলস’ এ নাম উজ্জ্বল করে, ঘরে-বাইরে কোণঠাসা মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর আগে থেকেই প্রায় সাড়ে ছয় দশক ধরে ফিদেল-চে-রাউল-ভিলমা’দের হাতে গড়া কমিউনিস্ট কিউবার ওপর বর্বর অবরোধের জোয়াল আরও শক্ত করেছে সে। বিপ্লবীদের দেশকে ঘিরে রেখেছে মার্কিন রণতরীগুলো। আসতে দিচ্ছে না জ্বালানি, খাদ্য শস্য, ওষুধ বা যে কোনও ধরনের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি। পশ্চিম গোলার্ধের একটা দেশে বিপ্লব করা ৯৫ বছরের রাউল কাস্ত্রোকে মাদুরোর কায়দায় অপহরণ বা ইরানের খেমেইনির মতো খুন করবে বলছে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ। আর ঠিক এই সময়ে দুনিয়ার আরেকপ্রান্তে আমাদের পশ্চিমবঙ্গ নিয়েও ভাবনায় ট্রাম্প কোম্পানি। বাংলায় বিজেপি’র জয়ের পরেই ট্রাম্প তাঁর প্রিয় নরেন্দ্র মোদীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছে। এরপরেই কিউবাকে শেষ করতে চাওয়া চরম কমিউনিস্ট-বিরোধী মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও কলকাতা ছুঁয়ে দিল্লিতে গিয়ে মোদীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ঠিক যেমন চোদ্দ বছর আগে মার্কিন বিদেশ সচিব হিলারি ক্লিন্টন কলকাতা থেকে শুরু করেছিলেন ভারত সফর। রাজ্যে বামফ্রন্টের পরাজয়ের পরে সেদিন মমতা ব্যানার্জিকে শুভেচ্ছা জানাতে এসেছিলেন হিলারি। আসলে মার্কো রুবিও থেকে হিলারি ক্লিন্টন, সাম্রাজ্যবাদ ভালো করে চেনে কে ভাই, কে দুশমন!
এবার ট্রাম্পের নতুন অধ্যাদেশ। পশ্চিম গোলার্ধের একমাত্র কমিউনিস্ট দেশ কিউবা নাকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘বিপজ্জনক’, ‘অস্বাভাবিক ও চরম হুমকি’। তাই এ বিছরের ২৯ জানুয়ারিতে প্রথম ট্রাম্পের নোটিস, তারপর ১ মে আরেক দফা নিষেধাজ্ঞা। এবার শুধু কিউবা নয়, বিদেশি ব্যাঙ্ক-কোম্পানি, এমনকি যারা কিউবার সঙ্গে পরোক্ষ যোগাযোগ রাখে, তারাও তালিকাভুক্ত। যেমন কানাডার শেরিট কর্পোরেশন কোম্পানি কিউবার সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে নিকেল ও কোবাল্ট খনি উত্তোলন করে। সেই শেরিট কর্পোরেশনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। কোম্পানির শেয়ার ৩০ শতাংশ পড়েছে, তিনজন পরিচালকও পদত্যাগ করেছে। এবার তো কিউবার খোদ রাষ্ট্রপতি মিগুয়েল দিয়াজ ক্যানালের ওপরেই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। 
শুধু তাই নয়। এখন ওই বিপ্লবী দ্বীপের বিপ্লবে কমিউনিস্ট মতধারার প্রবর্তক রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে ১৯৯৬ সালের বিমান ধ্বংসের অভিযোগে ট্রাম্প প্রশাসন যাবজ্জীবন সাজা চেয়েছে। নাহলে মার্কিনীরা ওনাকে হত্যা বা অপহরণের হুমকি দিচ্ছে। এর সাথেই ট্রাম্প-রুবিও কিউবার ওপর চাপিয়ে দেওয়া অবরোধের ফলে ক্ষুধাকে হাতিয়ার বানাচ্ছে। চালাচ্ছে আদর্শগত, সাংস্কৃতিক ও মিডিয়া যুদ্ধ। ট্রাম্প- রুবিওর মুখপাত্ররা বলছে, ‘সমস্যাটা অবরোধ নয়। সমস্যাটা সমাজতন্ত্র।’ কিন্তু কিউবার এখানকার প্রজন্ম, সাংবাদিক লিজ অলিভিয়া ফার্নান্ডেজের প্রশ্ন তাদের উদ্দেশ্যে, ‘এটা সত্যি হলে ওরা অবরোধ ওঠায় না কেন?’
এক বছর আগেও কিউবায় তেল সরবরাহকার করত ভেনেজুয়েলা। এ বছর সে দেশ থেকে কিউবায় কোনও জ্বালানি আসেনি মার্কিন খবরদারির কারণে। কিউবার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ দেশ ভেনেজুয়েলার বিশাল তেলের ভাণ্ডারের দিকে বহুদিন ধরে নজর ছিল বিশ্বের তাবড় তেল কোম্পানিগুলোর। লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে ভেনেজুয়েলার বামপন্থী সরকারের তেল কূটনীতির ফলে, ‘সাউথ সাউথ সহযোগিতা’র ফলে মার্কিন আধিপত্য খর্ব হচ্ছিলো। তাই ট্রাম্পের প্রথম দফা শাসনকালে মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন ঠিক করেছিলেন, এমনটা চলতে দেওয়া যায় না। কারণ ১৮২৩-এর ‘মনরো ডকট্রিন’-এর প্রেসক্রিপশন অনুসারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিয়ন্ত্রণ করবে পশ্চিম গোলার্ধ। তাই মার্কিনীরা শুরু করল নৌ অবরোধ, মাদক পাচারের জড়িত বলে মিথ্যা অভিযোগে ভেনেজুয়েলার জাহাজগুলির ওপর অবৈধ বোমা বর্ষণ, হাইড্রোকার্বন সরবরাহ অবরোধ, তেলের ট্যাঙ্কার দখল এবং শেষ পর্যন্ত একটি সার্বভৌম দেশে বৈধ উপায়ে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি ও তার স্ত্রীকে অপহরণ করে নিয়ে গিয়ে নিজেদের দেশে অবৈধভাবে বিচার করছে সাম্রাজ্যবাদী ট্রাম্প প্রশাসন। জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলায় হামলায় ৩২ জন কিউবান যোদ্ধা শহীদ হয়েছেন ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রপতিকে বাঁচাতে গিয়ে। এখন ভেনেজুয়েলা ব্যাকফুটে। কিউবায় আর ভেনেজুয়েলার তেল আসছে না। মেক্সিকো আর রাশিয়া যা দিচ্ছে, তা ট্রাম্পের অনুমতির ফাঁক দিয়ে। কিন্তু ট্রাম্পের শর্ত সেটি সরকার নয়, বেসরকারি খাতে ব্যবহৃত হতে হবে! 
জ্বালানি প্রায় ফুরিয়েছে। ২০-২২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ নেই। ‘পাওয়ার রেশনিং’ (দিনের নির্দিষ্ট সময়ে বিদ্যুৎ বন্ধ করে দেওয়া) চলছে। হাসপাতাল অচল। নবজাতকের ইনকিউবেটর বন্ধ। লাইফ সাপোর্ট যন্ত্র থমকে আছে। জরুরি অস্ত্রোপচার অন্ধকারে হচ্ছে। গ্যাসের বদলে কাঠের আগুনে রান্না শুরু হয়েছে। রাস্তার আলো নিভে গেছে। স্কুল-কলেজ বন্ধ। দোকান বন্ধ। খাবার নষ্ট হচ্ছে। ইন্টারনেট তো বন্ধই রেখেছে মার্কিন বিশাল কর্পোরেশনগুলো। কৃষি কাজে ট্রাক্টরের জায়গায় বলদ নামছে। বিদেশি ব্যাঙ্ক ও কোম্পানিগুলো ভয়ে কিউবার সঙ্গে কোনও সম্পর্ক রাখতে চাইছে না। তৃতীয় দেশের ব্যাঙ্কগুলো যদি কিউবার কোনও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে লেনদেন করে, তাহলে তারা যুক্তরাষ্ট্রের পুরো আর্থিক ব্যবস্থা থেকেই ছিটকে যাওয়ার আশঙ্কায় পড়বে।
এতো প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও কিউবা বিশ্বের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় এক বিস্ময়। জনসংখ্যা দেড় কোটি, ডাক্তার-রোগী অনুপাত ১:১৭০। সেখানে মার্কিনীরা (১:৩৯০) আর আমাদের ভারত (১:১৪৫৬) অনেক পিছিয়ে। কিউবা পোলিও-হাম নির্মূল করেছে, করোনার ভ্যাকসিন বানিয়েছে যা ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসেও টিকে থাকে। ইতালি থেকে চীন-করোনা কালে কিউবার মেডিক্যাল টিম প্রান্তজনের সখা হয়েছিল জীবনের পরোয়া না করে। এই কিউবার ডাক্তাররা তো নোবেল শান্তি পুরস্কারের দাবিদার ছিল। কিউবায় ‘War Heroes’ এর মর্যাদা পান ডাক্তাররা। ২০০০ সালের পর থেকে এই মেডিক্যাল মিশন যে দেশে যায়, চুক্তি অনুসারে সেই দেশ থেকে অর্থ নেওয়া হয়। এর ২৫ শতাংশ ডাক্তাররা পান এবং ৭৫শতাংশ কিউবা ‘রাষ্ট্র’-এর কাছে যায়, যে অর্থ আবার কিউবার স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নতিতে ব্যবহৃত হয়। সমাজতন্ত্রে দীক্ষিত কিউবান ডাক্তার-নার্সরা জানেন, তাদের অর্থ কিউবার রাষ্ট্রপতিরা চুরি করেন না, বরং সেই অর্থে বিনা পয়সায় চিকিৎসা করানো হয় কিউবায়।
তবে ট্রাম্পের ফ্লোরিডা লবি কমিউনিস্ট মূল্যবোধ সম্পন্ন ডাক্তারদেরই ‘মানব পাচারকারী’, ‘কমিউনিস্ট দাসপ্রথার অংশ’ বলে অপবাদ দিচ্ছে। এখানেই শেষ নয়! ব্রাজিলে বলসোনারোর শাসনে ট্রাম্পের নির্দেশে কিউবান মেডিক্যাল টিম বাতিল করেছিলেন। ফল? ব্রাজিলের ১৭০০ মিউনিসিপ্যালিটির স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছিল। ট্রাম্পের চাপে দক্ষিণপন্থী শাসনে থাকা বলিভিয়া, ইকুয়েডরের মতো কিছু দেশ কিউবার ডাক্তারদের নিষিদ্ধ করেছে নিজের দেশের জনগণের কথা না ভেবে। আর কিউবার এতে ক্ষতি হয় কয়েক শত মিলিয়ন মার্কিন ডলার। অথচ, কিউবান ডাক্তাররা চলে আসার পর ব্রাজিলের ১৭০০ মিউনিসিপালিটির স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। কারণ, আমাজন হোক বা সাহারা মরুভূমি— প্রত্যন্ত এলাকায় দেশীয় ডাক্তাররাও যেখানে আসতেন না, থাকতেন কিউবান ডাক্তাররা।
২০২৬, মিড টার্ম নির্বাচন। এপস্টাইন ফাইলে জর্জরিত ট্রাম্প আরও বেপরোয়া। সিআইএ প্রধানকে পাঠিয়েছে কিউবায় হুমকি দিতে। সঙ্গে ১০০ মিলিয়ন ডলার ‘মানবিক সাহায্য’ ঘোষণা, আসলে যে সাহায্য কিউবা কমিউনিস্ট সরকারকে কমিউনিস্ট নীতি ছাড়ার ঘোষণা করার মতোই!
এর মধ্যেই, পুরানো মিথ্যার ঝুড়ি আবার খুলেছে রুবিও কোম্পানি। আউড়ে যাচ্ছে, ‘কিউবায় চীন আর রাশিয়ার ঘাঁটি পুরো পশ্চিম গোলার্ধের জন্য হুমকি।’ কিন্তু যাঁরা কিউবা গিয়েছেন সেই মার্কিন কংগ্রেস সদস্য থেকে সিআইএ অফিসার সহ বড় বড় সংবাদমাধ্যমও জানে, ট্রাম্প-রুবিও মিথ্যা বলছেন। ১৪ মে হাভানায় সিআইএ প্রধান র্যা সটক্লিফের সঙ্গে বৈঠকে কিউবা প্রমাণ দিয়ে বলেছে: ‘আমরা কোনোদিন কোনও সন্ত্রাসবাদী বানাইনি বা সন্ত্রাসবাদীদের আশ্রয় দিইনি। উলটে আমরাই (কিউবা) সন্ত্রাসের শিকার হয়েছি।’ তবু মেগালোম্যানিয়াক ট্রাম্পে বলেই যাচ্ছে, ‘একদিন কিউবা আমাদের কাছেই আসবে।’ আসলে এটা ধাক্কাখাওয়া সাম্রাজ্যের হতাশা। ইরানে মুখ পুড়েছে। চীনে মান খুইয়েছে। বিশ্বে কোণঠাসা মোদীর বন্ধু, ভারতের ওপর অন্যায্য ট্যারিফ বসানো ট্রাম্প তাই এখন ছোট্ট কমিউনিস্ট দ্বীপ আক্রমণ করে বিশ্বের বামপন্থীদের শিক্ষা দিতে চান।
ওদিকে, চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং ও মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেইজিঙ বৈঠকের আগে ও পরে চীনের বিদেশ মন্ত্রণালয় জানিয়ে দিয়েছিল, কিউবা ও ভেনেজুয়েলার বিষয়ে চীনের অবস্থান সবসময় পরিষ্কার ও অপরিবর্তিত। কিউবা ও ভেনেজুয়েলার ওপর নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করছে চীন। চীন তো কিউবাকে চাল দিচ্ছে, সৌরবিদ্যুৎ সরঞ্জাম দিচ্ছে, ১০০০ মেগাওয়াটের বেশি সৌরবিদ্যুৎ যোগ করেছে গত এক বছরে। রাশিয়া আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে পাশে দাঁড়ানোর। ব্রিটেনের বহু সাংসদ পার্লামেন্টে মুখ খুলেছেন কিউবার পক্ষে। দুনিয়ার অধিকাংশ দেশ কিউবার পাশে। রাষ্ট্রসঙ্ঘের ভোটে বার বার প্রমাণিত।
এমতাবস্থায় মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্প-রুবিওর ওপর চাপ বাড়াচ্ছে মিয়ামির বাতিস্তার ভক্ত ফ্যাসিস্তরা। তারা ক্যাসিনো, মাদক, পতিতাবৃত্তি, লুটপাট ফিরিয়ে আনার জন্য দ্রুত কিউবা দখল চায়। সময় ওদের বেশি হাতে নেই, তা তারা বুঝতে পেরেই এবার সামরিক অভিযানের ছক কষছে।
ট্রাম্পের হুমকির জবাবে কিউবার কমিউনিস্ট সরকার জানিয়ে দিয়েছে, ‘যে কোনও সামরিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর পূর্ণ অধিকার আমাদের আছে।’
ইতিমধ্যেই ড্রোন সক্ষমতা বাড়াচ্ছে কিউবা। সেইজন্য সিআইএ’র ঘাম ছুটছে গুয়ান্তানামো বে আর ফ্লোরিডায় হামলার আশঙ্কায়। কিউবার রাষ্ট্রপতি মিগুয়েলের ভাষায়, ‘সামরিক অভিযান চালালে রক্তবন্যা বয়ে যাবে। কিন্তু আমরা কিউবান নাগরিকের মৃত্যু দেখতে চাই না, মার্কিন সেনার জীবনহানিও চাই না’ কিউবার বিদেশ দপ্তর বলছে, ‘এ নয়া অবরোধ সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি হামলা। কিন্তু কিউবা ভয় পায় না’ আর এই কথাগুলো যে ফাঁপা আওয়াজ না, তার প্রমাণ হলো, এপ্রিল মাসের দুই সপ্তাহেই ৮০ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক কিউবান নাম লিখিয়েছেন ‘আমার স্বাক্ষর মাতৃভূমির জন্য’ কর্মসূচিতে। প্রায় এক কোটির একটু বেশি জনসংখ্যার কমিউনিস্ট দেশে এখনই ছেষট্টি লাখ মানুষ দেশ রক্ষায় প্রস্তুত। আর মে দিবসে প্রায় ৫০ লক্ষ কিউবান (দেশের অর্ধেক জনসংখ্যা!) রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানিয়েছে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে।
খাদ্য নেই, বিদ্যুৎ নেই, অথচ কমিউনিস্ট শাসনের বিরুদ্ধে কোনও বিদ্রোহ হয়নি। মানুষ লড়ে যাচ্ছে। এ দেখে ট্রাম্পদের মাথা আরও খারাপ হচ্ছে।
কিন্তু ফিদেল আর রাউলের সেই আন্তর্জাতিকতাবাদে দীক্ষিত বিপ্লবী বাহিনী কিউবার ভূখণ্ড এক ইঞ্চিও বাড়ায়নি, সোনা-দানা-তেল লোটেনি। শুধু ফিরিয়ে এনেছে কিউবার শহীদ সন্তানদের। যারা লড়েছেন বিশ্ব মানবতার মুক্তির জন্যে আলজেরিয়া থেকে নিকারাগুয়ায়। এসবের জন্যে কিউবার ভৌগোলিক সীমানা না বাড়লেও, রাজনৈতিক সীমানা বেড়েছে। কিউবার মানবিকতা, কিউবার প্রতি সংহতি, বিপ্লবী কিউবার সম্মান পৃথিবীর বুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ক্যারিবিয়ানের এই দ্বীপের মজারু কিন্তু বিপ্লবী আদর্শে জেদী মানুষগুলো জানেন মার্কিন সাম্রাজ্যবাদীদের প্রতিটা অভিযোগের পিছনে রয়েছে দখলের মাপ, প্রতিটা হুমকির সাথে রয়েছে যুদ্ধজাহাজ, আর দেশ লুট করা লোভীদের দল। সিয়েরা মায়েস্ত্রার গরিব কৃষক মারিও সারিওলের ঘরে যখন মার্কিন রকেট পড়ছে, তখন দৃপ্ত কণ্ঠে ফিদেল বলেছিলেন, ‘মারিওর বাড়িতে যেসব রকেট ছুঁড়েছে, তা দেখে আমি নিজেকে শপথ দিলাম, মার্কিনীরা যা করছে, তার মূল্য দিতে হবে তাদের। এই যুদ্ধ শেষ হলে আমার জন্য আরেক যুদ্ধ শুরু হবে, যা হবে আরও বড় ও দীর্ঘ।’ 
এটাই বিপ্লবের জিয়নকাঠি। এটাই কমিউনিস্ট প্রত্যয়।
Highlights
এই গ্রীষ্মেই কিউবার ওপর চরম আঘাত হানতে প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরানে ল্যাজেগোবরে হওয়া, শিশু-নারীদের ওপর জঘন্য অত্যাচারের কিসসা ‘এপস্টিন ফাইলস’-এ নাম উজ্জ্বল করে, ঘরে-বাইরে কোণঠাসা মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প। খাদ্য নেই, বিদ্যুৎ নেই, অথচ কমিউনিস্ট শাসনের বিরুদ্ধে কোনও বিদ্রোহ হয়নি। মানুষ লড়ে যাচ্ছে। এ দেখে ট্রাম্পদের মাথা আরও খারাপ হচ্ছে।

Comments :0

Login to leave a comment