Dhaka Court Death Penalty

শিশুকন্যাকে ধর্ষণ করে খুন, দম্পতিকে মৃত্যুদণ্ড ঢাকা আদালতের

আন্তর্জাতিক

মীর আফরোজ জামান: ঢাকা 
বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার মিরপুরের ৮বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনের মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। স্থানীয় সময় রবিবার সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ ঢাকা মহানগর শিশু হিংসা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এই রায় ঘোষণা করেন। অপরাধীদের সর্বোচ্চ সাজার পাশাপাশি আসামি সোহেলকে ৫ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অন্যজনকে দুই লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে নিহত শিশুর পরিবার সেই অর্থ ক্ষতিপুরন পাবে। ক্ষতিপূরণ না দিলে সাজাপ্রাপ্তদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে তোলার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
গত ১৯ মে রাজধানীর মিরপুরের একটি ফ্ল্যাটে ধর্ষণ ও খুনের শিকার হয় দ্বিতীয় শ্রেণির ওই শিশুটি। জানা যায়, শিশুটি গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ ঘর থেকে বের হলে স্বপ্না তাকে কৌশলে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। ওইদিন সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ শিশুটিকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন তার মা। একসময় অভিযুক্তের ঘরের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান তিনি। ডাকাডাকির পর কোনও সাড়াশব্দ না পেয়ে শিশুটির বাবা-মা এবং অন্যান্য ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে অভিযুক্তের ঘরের মেঝেতে মুন্ডুবিহীন দেহ দেখতে পান। মাথা রুমের ভেতরে একটি বড় বালতির মধ্যে দেখতে পাওয়া যায়। তাঁরা দ্রুত পুলিশকে খরর দলে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। স্বপ্নাকে আটক করে পুলিশ। নারায়নগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তারে সক্ষম হয় পুলিশ। ঘটনার পর দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ হয়। দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি ওঠে বিভিন্ন মহল থেকে। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকেও দ্রুত বিচার সম্পন্ন করার আশ্বাস দেওয়া হয়। ঘটনার দিনই প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। একই সঙ্গে আটক করা হয় তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে। পর দিন শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তদন্তে নেমে ডিএনএ রিপোর্ট, ফরেনসিক রিপোর্ট, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার বিভিন্ন সামগ্রী সংগ্রহ করে তদন্ত সংস্থা। ২৪ মে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। অভিযোগপত্রে সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও খুন এবং স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অপরাধে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়। আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করে মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকা মহানগর শিশু হিংসা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠায়। আসামিপক্ষের আইনজীবী মুসা কালিমুল্যাহ আসামি সোহেল রানার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে দেহ গুমে সহযোগিতার অভিযোগে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ডের আবেদন জানান। শনিবার নিহত শিশুর বাবা বলেন, তিনি শুধু নিজের সন্তানের খুনের বিচার চান না বরং এমন একটি সমাজ ও বিচারব্যবস্থা চান যেখানে আর কোনো শিশুকে এ ধরনের নির্মম ঘটনার শিকার হতে হবে না।

Comments :0

Login to leave a comment