সীমান্তে তীব্র উত্তাপের মধ্যেই দিল্লিতে বৈঠকে বসছে ভারত এবং বাংলাদেশের দুই সীমান্তরক্ষী বাহিনী। সোমবার বিএসএফ এবং বিজিবি’র বৈঠকে ‘পুশ ইন’ প্রধান বিষয় হতে চলেছে।
ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের অবস্থান অনুযায়ী সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ কাজ করছে কিনা উঠবে সে প্রশ্ন।
আবার ভারত জোর দেবে বাংলাদেশকে পাঠানো নামের তালিকায় যেখানে নাগরিকত্ব নিশ্চিত করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। সোমবার থেকে ১১ জুন পর্যন্ত হবে এই বৈঠক। বাংলাদেশি নাগরিকদের ফেরত পাঠানো সম্পর্কে কড়া অবস্থানের ঘোষণা আগেই করেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।
সোমবারই বিজিবি দাবি করেছে যে বাংলাদেশের পঞ্চগড়ের বড়বাড়ি সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) এর পুশইন চেষ্টার শিকার নারী ও শিশুসহ দুই পরিবারের ১০ জনকে অবশেষে সীমান্তের শূন্যরেখা (জিরো লাইন) থেকে ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
স্থানীয় ও বিজিবি সূত্রে জানা যায়, রবিবার রাত আনুমানিক ২টোর দিকে বিএসএফ তাদের শূন্যরেখা এলাকা থেকে সরিয়ে নিয়ে যায়। সোমবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন নিলফামারির ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের প্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল মহম্মদ সিরাজুল ইসলাম।
ঢাকায় বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকও জানিয়েছে যে জোর করে ভারত সীমান্ত টপকে কাউকে ‘পুশ-ইন‘ করার চেষ্টা করলে বিজিবি বাধা দেবে। সীমান্তরক্ষী বাহিনী পুরোপুরি সতর্ক।
ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল সম্প্রতি বলেছেন যে দু’দেশের সমঝোতা অনুযায়ী অবৈধ বাংলাদেশি বসবাসকারীদের ফেরানো হবে। তিনি জানান যে নামের তালিকা পাঠানো হয়েছে ঢাকার কাছে। তার মধ্যে বেশ কিছু নাম কয়েক বছর ধরে ঝুলে রয়েছে।
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকায় যে পুশ-ইন চলছে তার সঙ্গে বিদেশ মন্ত্রকের অবস্থানের মিল নেই। পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছেন যে পুলিশ এমন সন্দেহভাজনদের ধরে সরাসরি বিএসএফ’র হাতে তুলে দেবে।
প্রশ্ন উঠেছে, সন্দেহভাজনরা সত্যিই বাংলাদেশি কিনা তা প্রমাণ হবে কী করে। সোমবার বাংলাদেশের পঞ্চগড়ে আটকে থাকা ১০ জনকে বিএসএফ ফিরিয়ে নিলে আরও জোরালো হবে এই প্রশ্ন।
BSF BGB meet
‘পুশ-ইন‘ উত্তাপে দিল্লিতে বিএসএফ-বিজিবি বৈঠক, ১০ জনকে ফেরানোর দাবি ঢাকার
বাংলাদেশের পঞ্চগড়ের বড়বাড়ি সীমান্তে শূন্যরেখায় খোলা আকাশের নিচে বহু মানুষ।
×
Comments :0