Dhupguri

কৃষকদের জায়গা কেড়ে পুলিশ অফিস! ধূপগুড়িতে ক্ষোভ, বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি কৃষক সভার

জেলা

কৃষকদের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে বাম আমলে তৈরী উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্যতম বৃহত্তর কৃষক বাজার ধূপগুড়ি রেগুলেটেড মার্কেটের জমি একের পর এক সরকারি দপ্তরের দখলে চলে যাওয়াকে কেন্দ্র করে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে ধূপগুড়ির কৃষক মহলে। মহকুমা শাসকের পর এবার মহকুমা পুলিশ আধিকারিকের অফিসের জন্য রেগুলেটেড মার্কেটের জায়গা পরিদর্শন করল প্রশাসন। আর এই ঘটনার তীব্র বিরোধিতা করে রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছে সারা ভারত কৃষক সভা।
বুধবার ধূপগুড়ি মহকুমা প্রশাসনের পদস্থ কর্তারা রেগুলেটেড মার্কেট চত্বরে জমি পরিদর্শনে যান। উপস্থিত ছিলেন মহকুমা পুলিশ আধিকারিক অরিন্দম পাল চৌধুরী, আইসি প্রশান্ত চামলিং এবং ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দপ্তরের আধিকারিক ও ইঞ্জিনিয়াররা। ধূপগুড়ি মহকুমা গঠনের পর থেকে এতদিন ঘোষপাড়া মোড়ে পৌরভবনে অস্থায়ী ভাবে মহকুমা পুলিশের কাজ চলছিল। এবার স্থায়ী ভাবে তা রেগুলেটেড মার্কেটে স্থানান্তরের তোড়জোড় শুরু হয়েছে। এই চত্বরেই কৃষিজ বিপণন ভবনে ইতিমধ্যেই মহকুমা শাসকের দপ্তর চালু হয়েছে। পুলিশ প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, এখানে শুধু অফিস নয়, পুলিশ ফোর্সের থাকার জায়গাও তৈরি হবে।
প্রশাসনের এই পদক্ষেপে স্বভাবতই ক্ষুব্ধ এলাকার প্রান্তিক চাষিরা। সারা ভারত কৃষক সভার জলপাইগুড়ি জেলা সম্পাদক প্রাণ গোপাল ভাওয়াল এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে বলেন, ​"ধূপগুড়ি রেগুলেটেড মার্কেটটি বাম আমলে তৈরি হয়েছিল সম্পূর্ণভাবে কৃষকদের স্বার্থে এবং তাঁদের ফসলের সঠিক বিপণনের সুবিধার্থে। অথচ বর্তমানে বহু কৃষক রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে রাস্তার ওপর সবজি বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। তাঁদের বসার বা ফসল রাখার সুনির্দিষ্ট কোনো পরিকাঠামো নেই। এই অবস্থায় সুপার মার্কেটের উন্নয়ন করে কৃষকদের জন্য উপযুক্ত পরিকাঠামো গড়ে তোলার পরিবর্তে সেখানে একের পর এক প্রশাসনিক অফিস তৈরি করা হচ্ছে, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।"
কৃষক সভার নেতৃত্ববৃন্দ মনে করিয়ে দিয়েছেন, এর আগে যখন মহকুমাশাসকের অফিসের জন্য জায়গা নেওয়া হয়েছিল, তখন প্রশাসনের কাছে বারবার ডেপুটেশন দেওয়া হয়েছিল। তৎকালীন মহকুমাশাসক আশ্বাস দিয়েছিলেন যে, মহকুমা অফিস হলেও কৃষকদের কোনো অসুবিধা হবে না এবং রেগুলেটেড মার্কেটের আর কোনো জায়গা অন্য কাজের জন্য নেওয়া হবে না। কিন্তু বুধবারের পরিদর্শনের পর পরিষ্কার, প্রশাসন কৃষকদের দেওয়া সেই প্রতিশ্রুতি রাখেনি।
কৃষক সভার পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, মহকুমা পুলিশ আধিকারিকের অফিসের প্রয়োজনীয়তা তাঁরা অস্বীকার করছেন না। কিন্তু তা রেগুলেটেড  মার্কেটের জায়গা বাদ দিয়ে অন্য যেকোনো সরকারি জমিতে করা হোক। কৃষকদের জায়গা কেড়ে নিয়ে যদি জোরপূর্বক অফিস তৈরি করা হয়, তবে কৃষকদের রুটি-রুজির স্বার্থে আগামীদিনে ধূপগুড়িতে আরও বৃহত্তর ও তীব্র আন্দোলনের পথে হাঁটবে সারা ভারত কৃষক সভা।

Comments :0

Login to leave a comment