Rekha Gupta

গোমাতার যোগ্য সন্তান

সম্পাদকীয় বিভাগ

রান্নার গ্যাস সঙ্কটের মোকাবিলায় স্বঘোষিত বিশ্বগুরুর তাক লাগানো আবিষ্কারের রেশ কাটতে না কাটতেই তাঁরই স্নেহধন্য দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর নতুন এক আবিষ্কার রীতিমতো আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। রান্নার গ্যাসের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং জোগান সঙ্কটের ফলে সাধারণ মানুষের ঘরে দুশ্চিন্তার কালো মেঘ ঠিক তখনই এক নতুন উদ্ভাবন নিয়ে আসরে অবতীর্ণ হন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী। তাঁর স্ব-উদ্ভাবিত  সেই সিম্পল টেকনোলজিতে ছিল পচা নর্দমার দুর্গন্ধে ভরা গ্যাস পাইপের মাধ্যমে সংগ্রহ করে উনুন জ্বালানোর কৌশল। ব্যাস বিনা খরচে গ্যাস এসে যাবে রান্নাও হয়ে যাবে। গুরুর উদ্ভাবনে উজ্জীবিত দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা আবিষ্কার করে ফেললেন জলের বাষ্পীভবন কীভাবে জল সরবরাহে সঙ্কট তৈরি করছে।
সনাতনী হিন্দুত্ববাদী মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছেন প্রবল তাপপ্রবাহে দিল্লির বুকে ভয়াবহ জল সঙ্কটের জন্য তাঁর সরকার দায়ী নয়। সরকার ঠিক জল সরবরাহ করছে। কিন্তু তাপপ্রবাহের ফলে সেই জল বাষ্প হয়ে যাওয়ায় মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে না। কিন্তু এই তাপপ্রবাহের মধ্যে দিল্লির বিভিন্ন জায়গায় যে জল দিনের পর দিন জমে থাকে সে জল অথবা উপছে পড়া নর্দমার জল কেন বাষ্প হয় না সেটা তিনি জানাননি।
এটাই রেখা গুপ্তার প্রথম আবিষ্কার নয়। এর আগেও এমন একাধিক আবিষ্কারের কথা তিনি জনসমক্ষে প্রকাশ করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী হবার আগে তার এমন সাড়া জাগানো আবিষ্কারের কথা শোনা যায়নি। মুখ্যমন্ত্রী হবার পরই তাঁর মস্তিষ্ক অতি উর্বর হয়ে উঠেছে। একের পর এক অভাবনীয় সব আবিষ্কারের কথা মানুষ শুনতে পাচ্ছেন। কয়েকদিন আগেই এক অনুষ্ঠানে গিয়ে তিনি দাবি করেছিলেন দিল্লির রাস্তার ধারে সে সব গাছপালা দেখা যায় সেগু‍‌লো অক্সিজেন তৈরি করে না। পঞ্চম শ্রেণির ছেলে মেয়েরাও তাদের পাঠ্য থেকে জানেন সূর্যালোকের সাহায্যে উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে এবং অক্সিজেন ত্যাগ করে। এখন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী নতুন বিজ্ঞান শেখাচ্ছেন দিল্লির রাস্তার গাছ অক্সিজেন তৈরি করে না।
আসলে এটা নরেন্দ্র মোদী বা রেখা গুপ্তাদের অজ্ঞতা নয়। নাগপুরের বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচিতে হিন্দুত্ববাদী হয়ে ওঠার জন্য যে শিক্ষা দেওয়া হয় এটা তারই ফলশ্রুতি। এই শিক্ষায় যারা শিক্ষিত হয় তারা গোচনায় ক্যানসার নিরাময় করে, গোরুর দুধে সোনা খুঁজে পায়, বীজ গণিতের নতুন সূত্র আবিষ্কার করে। এমনকি নিজেদের অজৈবিক অবতার ভাবতেও শুরু করে। সত্যি সেলুকাস কি বিচিত্র এই দেশ। কাদের হাতে পড়েছে হতভাগ্য ভারতবাসী।

Comments :0

Login to leave a comment