Push in

'পুশ-ইন' প্রচেষ্টায় সীমান্তে মানবিক সঙ্কট

আন্তর্জাতিক

মীর আফরোজ জামান: ঢাকা

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে ‘পুশ-ইন’ অভিযোগকে কেন্দ্র করে সীমান্ত এলাকায় মানবিক উদ্বেগ বেড়েছে। বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী দাবি করেছে, সাম্প্রতিক একাধিক ঘটনায় নারী ও শিশুসহ কিছু মানুষকে সীমান্তের শূন্যরেখার দিকে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়েছে এবং এসব প্রচেষ্টা তারা প্রতিহত করেছে। 
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই ধরনের পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন নারী ও শিশুরা। সীমান্তের শূন্যরেখায় দীর্ঘ সময় অনিশ্চিত অবস্থায় থাকলে খাদ্য, বিশুদ্ধ জল, চিকিৎসা ও নিরাপত্তার মতো মৌলিক চাহিদা সঙ্কটে পড়ে। শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং নারীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদার প্রশ্নও সামনে আসছে । 
বিজিবি বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় ফ্ল্যাগ মিটিং আহ্বান করে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং বলেছে, কোনো ব্যক্তিকে বাংলাদেশি দাবি করা হলেও তাকে গ্রহণের আগে পরিচয় যাচাই ও দুই দেশের বিদ্যমান কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা উচিত। 
বাংলাদেশের অবস্থান হলো, যদি কোনো ব্যক্তি বাংলাদেশের নাগরিক হন, তবে তাকে স্বীকৃত প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ফেরত পাঠানো উচিত। একতরফাভাবে সীমান্তে ঠেলে দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো নিয়ে বাংলাদেশজুড়ে উদ্বেগ ও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সীমান্তে নারী ও শিশুদের উপস্থিতি এই ইস্যুকে শুধু নিরাপত্তা নয়, মানবিক ও কূটনৈতিক সংকটের বিষয় হিসেবেও সামনে নিয়ে এসেছে। দুই দেশের মধ্যে সমন্বিত ও আইনসম্মত প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার দাবি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। 
জুন মাসের ৫ ও ৬ তারিখ পর্যন্ত বিজিবি ও স্থানীয় প্রশাসনের রিপোর্ট অনুযায়ী শূন্যরেখার ভারতীয় অংশে অবস্থানরতদের তাৎক্ষণিক একটি তালিকা এই প্রতিবেদনে তুলে ধরা হলো :
চাঁপাইনবাবগঞ্জ বঙ্গাবাড়ি সীমান্তে ২৮ জন নারী পুরুষ ও শিশু। 
নওগাঁর সাপাহার উপজেলার হাঁপানিয়া সীমান্তে ১৭ জন। তন্মধ্যে ৬ জন নারী ৬জন পুরুষ ও ৫ জন শিশু। 
লালমনিরহাট হাতীবান্ধা বড় খাতা সীমান্তে ১১-১২ জন পুরুষ নারী ও শিশু ছিল। 
লালমনিরহাট পাটগ্রাম শ্রীরামপুর সীমান্তে ১০ জন। বিজিবির বাধার মুখে তারা শূন্যরেখায় অবস্থান করছিল।
লালমনিরহাট আদিতমারী দুর্গাপুর দীঘলমারি ১২ জন।
পঞ্চগড়ে ১০ জন। 
পেট্রাপোল বেনাপোলের সাদীপুর সীমান্তে যাদের পুশব্যাক করা হয়েছিল তাদের নারী পুরুষ শিশু  ১০–১২ জনকে বিজিবির বাধার মুখে  সেখান থেকে সরিয়ে নিয়েছে বিএসএফ।  
মানবাধিকার উন্নয়নমূলক সংস্থা 'প্রতিকার' এর সভাপতি গণশক্তিকে জানালেন, আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার নীতি এবং দ্বিপাক্ষিক প্রত্যাবাসন ব্যবস্থাকে উপেক্ষা করে তথাকথিত বাংলাদেশি পরিচয়ে ব্যক্তিদের সীমান্তের জিরো পয়েন্ট ঠেলে দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে নতুন মানবিক সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ দাবি করেছে, নাগরিকত্ব যাচাই ও আনুষ্ঠানিক প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ছাড়া এ ধরনের একতরফা পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সংস্থাটি জানায়, আন্তর্জাতিক আইন অমান্য করেছে"—এটি একটি আইনি সিদ্ধান্তমূলক দাবি। নিরপেক্ষ প্রতিবেদনে সাধারণত আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ বা আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন বিএসএফের পুশব্যাকের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। তিনি গণশক্তিকে বলেন, আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার এবং দুই দেশের বিদ্যমান কূটনৈতিক প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে নারী, শিশু ও সাধারণ মানুষকে সীমান্তের শূন্যরেখায় অনিশ্চিত অবস্থায় ফেলে রাখা কোনোভাবেই মানবিক নয়। সিপিবি মনে করে, নাগরিকত্ব সংক্রান্ত যেকোনো বিরোধ দুই দেশের আলোচনার মাধ্যমে এবং স্বীকৃত আইনি প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি হওয়া উচিত। সীমান্তে মানবিক সংকট সৃষ্টি না করে উভয় দেশের কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীল ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।

Comments :0

Login to leave a comment