বিশিষ্ট ক্রীড়া প্রশিক্ষক মুরারী মোহন শূর বুধবার রাত ৩টে ১৫মিনিটে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতার কারণে প্রয়াত হয়েছেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮২।
প্রয়াত শূরের পুত্র, পুত্রবধূ, নাতি নাতনী, ভাই বোন বর্তমান। তাঁর ছোট পুত্র রাজ কুমার শূর কঠিন ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার পর থেকেই তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন। গত বছর তাঁর স্ত্রী-ও মারা যান। এরপর থেকে তিনি একবারে ঘরবন্দি হয়ে পড়েন।
বিশিষ্ট ক্রীড়া প্রশিক্ষক মুরারী মোহন শূরের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই রাজ্যের ক্রীড়া মহলে শোকের ছায়া নেমে আসে। তাঁর হাত দিয়ে কলকাতা ময়দান তথা দেশ ও রাজ্যের হয়ে বহু খ্যাতনামা খেলোয়াড় দাপিয়ে ফুটবল খেলেছেন। সুব্রত ভট্টাচার্য, অশোকলাল ব্যানার্জি, রহিম নবি, সোমনাথ ব্যানার্জি, চন্দন ব্যানার্জি, নেপাল আচার্য, সুধীন দাস, গৌতম মুখার্জি, চঞ্চল ব্যানার্জি সহ বহু খেলোয়াড় প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন।
মুরারী মোহন শূর নিজে গোলরক্ষক ছিলেন। কিন্তু ফুটবল প্রশিক্ষক হিসেবে নানা পজিশনের খেলোয়াড় তিনি তৈরি করেছেন। তাঁর প্রশিক্ষণে বেড়ে ওঠা বহু খেলোয়াড় কলকাতা ময়দানে দাপিয়ে ফুটবল খেলেছেন।
মুরারী মোহন শূর নিজে কলকাতার বালি প্রতিভা ক্লাবে এবং পরে টালিগঞ্জ অগ্রগামীতে সুনামের সঙ্গে খেলেন। কিন্তু তিনি প্রশিক্ষক হিসেবে আরও সুনাম অর্জন করেন। তিনি নিজে ভালো অ্যাথলিটও ছিলেন। এ্যাথলেটিক্সে বাংলা চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন। এরপর তিনি ইছাপুর রাইফেল ফ্যাক্টরিতে কর্মজীবন শুরু করেন। ইছাপুর অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরিজ মজদুর ইউনিয়নের সক্রিয় সদস্য ছিলেন।
প্রশিক্ষক হিসেবে পান্ডুয়া ফুটবল অ্যাকাডেমি এবং ভদ্রেশ্বর ইউনাইটেড ক্লাবে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। পান্ডুয়া ফুটবল অ্যাকাডেমি থেকে তিনি রহিম নবিকে পাদপ্রদীপের আলোয় নিয়ে আসেন। হাজার হাজার ছেলেমেয়ে তাঁর হাত ধরে ক্রীড়াজগতে সাফল্য পেয়েছেন। শ্যামনগর যুগের প্রতীক ক্লাবের তিনি প্রাণপুরুষ ছিলেন তিনি। এই ক্লাবে তিনি প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। তিনি ক্লাবের সম্পাদকও ছিলেন। শ্যামনগরের সমস্ত বিদ্যালয়ের বাৎসরিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা পরিচালনা করতেন তিনি।
২০২২ সালে রাজ্যের সেরা ক্রীড়া প্রশিক্ষক হিসেবে তাঁকে ইষ্টবেঙ্গল ক্লাব ‘দীপক জ্যোতি‘ সন্মানে সন্মানিত করে। তাঁর ফুটবল বোধ ছিল অসাধারণ। ফুটবলের দ্রোণাচার্য সন্মান আনুষ্ঠানিকভাবে না পেলেও তিনি শ্যামনগর তথা রাজ্যের ফুটবলের দ্রোণাচার্য ছিলেন। গ্রাম বাংলার ফুটবলের প্রসারের জন্য তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। জহুরির চোখ দিয়ে খুঁজে খুঁজে খেলোয়াড় তুলে আনতেন। তাঁর মরদেহ শ্যামনগর এর বাড়ি থেকে যুগের প্রতীক ক্লাবে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাক্তন খেলোয়াড় রহিম নবি সহ বহু খেলোয়াড়, ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব, ক্লাবের কর্মকর্তা, সদস্য সমর্থক সাধারণ মানুষ মাল্যদান করেন।
তাঁর বাড়িতে গিয়ে মরদেহে মালা দিয়ে শ্রদ্ধা জানান সিপিআই(এম) নেতা সোমনাথ সরকার, কালিদাস চক্রবর্তী সহ অগণিত সাধারণ মানুষ।
Murari Mohan Sur
সুব্রত-রহিম নবির ‘দ্রোণাচার্য‘ মুরারী মোহন শূর প্রয়াত
×
Comments :0