Jammu and Kashmir Statehood

বিশ্বাসঘাতকতার শামিল

সম্পাদকীয় বিভাগ

দেখতে দেখতে সাত বছর পেরিয়ে গেল। আজও জম্মু ও কাশ্মীর তাদের জবরদস্তি কেড়ে নেওয়া পূর্ণাঙ্গ রাজ্যের মর্যাদা ফেরত পায়নি। ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ অন্তত দেড় ডজনবার বিভিন্ন সময়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন শীঘ্রই জম্মু-কাশ্মীরের রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়া হবে। এমনকি কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টেও জানানো হয়েছিল যত দ্রুত সম্ভব পূর্ণাঙ্গ রাজ্যের মর্যাদা ফেরানো হবে। কিন্তু মোদী সরকার কথা রাখেনি। কাশ্মীরের মানুষ রাজ্যের উন্নয়নে তাদের নিজেদের নির্বাচিত সরকারের ভূমিকা দেখতে পাচ্ছেন না। বর্তমানে একটি নির্বাচিত সরকার থাকলে সেটা ঠুঁটো জগন্নাথ। এই সরকারের আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা নেই বললেই চলে। রাজ্যের মূল ক্ষমতা কেন্দ্রীয় সরকার এবং লেফটেনেন্ট গভর্নর বা উপ-রাজ্যপালের হাতে। নির্বাচিত সরকার বহন করছে ক্ষমতাহীন দায়বদ্ধতা।
২০১৯ সালে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ নিয়ে দ্বিতীয়বারের জন্য মোদী সরকার ক্ষমতাসীন হয়েই আগাম আলোচনা ও বিতর্ক ছাড়াই কেবলমাত্র সংখ্যার জোরে সংসদে বিল পাশ করিয়ে জম্মু ও কাশ্মীরের মানুষের বি‍‌শেষ সাংবিধানিক অধিকার কেড়ে নেয়। এই বিশেষ ঐতিহাসিক বাস্তবতায় কাশ্মীরের ভারতভুক্তির শর্ত হিসাবে সংবিধানে যে ৩৭০ ধারা যুক্ত হয় সেই ধারা সরাসরি বাতিল হয়ে যায়। পাশাপাশি ৩৫(ক) ধারার বিলুপ্তি ঘটিয়ে কেবলমাত্র স্থায়ী বাসিন্দাদের জন্য কাশ্মীরের জমির অধিকারও কেড়ে নেওয়া হয়। একই সঙ্গে রাজ্যটি ভেঙে দু’টুকরো করে দু’টি কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলে পরিণত করা হয়।
বিজেপি কাশ্মীরকে তাদের কড়া শাসনের জালে বন্দি রাখতে চায়। কোনও অবস্থাতেই কাশ্মীরের মানুষের নির্বাচিত অন্য কোনও বিরোধীদের দলের হাতে দিতে চায় না। মোদী সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই নানাভাবে চেষ্টা করেছে কাশ্মীরের শাসন নিজেদের হাতে আনতে। কিন্তু সেটা সম্ভব না হওয়ায় কাশ্মীর‍‌ বিধানসভা নির্বাচনই বন্ধ করে দিয়ে রাষ্ট্রপতি শাসনের নামে কেন্দ্রীয়  সরকারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখা। তারপর ৩৭০ এবং ৩৫(ক) ধারা বাতিল হয়।
মোদী-শাহরা চেয়েছিলেন কাশ্মীরকে ভেঙে টুকরো করে খণ্ডিত কাশ্মীরের রাজনৈতিক দখল নিতে। মুসলিম অধ্যুষিত কাশ্মীরের দখল নেবার জন্য নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে নির্লজ্জভাবে আসন পুনর্বিন্যাস করে জেতার অঙ্ক কষে ছিল। কিন্তু হিন্দু প্রধান জম্মুতে কিছুটা সুফল পেলেও কাশ্মীরে গো হারা হারে। সরকার ভেবেছিল বিজেপি ক্ষমতায় আসবে। তারপর রাজ্যের মর্যাদা দেবার ভাবনা ছিল। যেহেতু কাশ্মীর দখলের স্বপ্ন পূরণ হয়নি তাই কাশ্মীরের রাজ্যের মর্যাদাও ফেরত পাওয়া অনিশ্চিত হয়ে গেছে। বিজেপি চায় না কাশ্মীরের মানুষ ভোট দিয়ে অন্য দলের সরকার গড়ুক। তাই কাশ্মীরকে রাজ্যের মর্যাদা দিতে রাজি নয়। এটা গণতন্ত্রের সম্পূর্ণ বিরোধী। কাশ্মীরের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা।

Comments :0

Login to leave a comment