আশ্রয়হীন মানুষের জন্য সরকারি ‘ছায়ানীড়’ আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে। অথচ সেই প্রশাসনের চোখের সামনেই আট দিন ধরে ধূপগুড়ি বাস টার্মিনাসের একটি প্লাস্টিকের চেয়ারকে আশ্রয় করে থাকতে হলো বৃদ্ধা ‘মিনু দিদি’কে। বয়সের ভারে কর্মক্ষমতা হারানো, বাড়িতে ফিরতে অনিচ্ছুক এই বৃদ্ধার নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করতে এগিয়ে আসেনি প্রশাসন। গণশক্তিতে খবর প্রকাশের পর সমাজসেবী সাজু তালুকদারের উদ্যোগে শেষ পর্যন্ত তাঁকে উদ্ধার করে ‘হেভেন শেল্টার’-এ পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হরিমন্দির এলাকায় তাঁর বাড়ি। ছেলে-মেয়ে দু’জন থাকলেও পারিবারিক কারণে তিনি বাড়িতে ফিরতে চাইছিলেন না। জীবনের শেষ দিনগুলি কোনও বৃদ্ধাশ্রমে কাটানোর ইচ্ছার কথাও জানিয়েছিলেন। কয়েকদিন মন্দির চত্বরে থাকার পর টানা আট দিন বাস টার্মিনাসেই দিন-রাত কাটে তাঁর।
ঘটনায় সরাসরি প্রশ্ন উঠেছে ধূপগুড়ি পৌর প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে। আশ্রয়হীন মানুষের জন্য সরকারি পরিকাঠামো থাকা সত্ত্বেও একজন বৃদ্ধা দিনের পর দিন প্রকাশ্য বাস টার্মিনাসে থাকলেন কীভাবে? তাঁকে শনাক্ত করে নিরাপদ আশ্রয়ে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব কার? ‘ছায়ানীড়’ থাকা সত্ত্বেও তার পরিষেবা কেন পৌঁছল না তাঁর কাছে? স্থানীয়দের প্রশ্ন, প্রশাসনের নজরদারি ব্যবস্থা কি আদৌ কাজ করছে?
গত ১২ সেপ্টেম্বর গণশক্তিতে খবর প্রকাশিত হয়। খবরটি দেখে সমাজসেবী সাজু তালুকদার উদ্যোগী হন। বাস টার্মিনাস থেকে বৃদ্ধাকে উদ্ধার করে তাঁর ইচ্ছাকে গুরুত্ব দিয়ে ‘হেভেন শেল্টার’-এ নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়।
একজন অসহায় বৃদ্ধাকে নিরাপদ আশ্রয়ে পৌঁছতে শেষ পর্যন্ত সংবাদপত্রে খবর প্রকাশের প্রয়োজন হলো—এই ঘটনাই ধূপগুড়ির সরকারি আশ্রয় ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
Ganashakti Report
গণশক্তির খবরের জেরে উদ্ধার, হেভেন শেল্টারে ‘মিনু দিদি’
×
Comments :0