ABTA

পিএমশ্রী- সিএম শ্রী-র মাধ্যমে রাজ্যের শিক্ষার হাল ফিরবে না, মত এবিটিএ’র

জেলা

পিএমশ্রী কিংবা সিএম শ্রী-র মাধ্যমে রাজ্যের গুটিকয়েক স্কুলের হাল ফিরিয়ে রাজ্যের বেহাল শিক্ষা ব্যবস্থায় আদৌ কোনও লাভ হবে না। শনিবার কোচবিহারে রাজ্য ও কেন্দ্রের শিক্ষাভাবনা প্রসঙ্গে একথা বলেন, নিখিলবঙ্গ শিক্ষক সমিতির রাজ্য সম্পাদক সুজিত দাস।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ‘স্কুল ফর রাইজিং ইন্ডিয়া’ নামে এক প্রকল্পে বিভিন্ন বাছাই করা স্কুলকে আওতায় এনে সেগুলিকে আধুনিক পরিকাঠামোয় ঢেলে সাজানো হবে। সেটা দেখেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী প্রতি জেলায় দুটি করে সিএমশ্রী প্রকল্প হাতে নিয়েছে। শুধু নিখিলবঙ্গ শিক্ষক সমিতিই নয় বেশির ভাগ শিক্ষকেরাই মনে করছেন এতে রাজ্যে শিক্ষার বেহাল দশার হাল ফিরবে না। 
যতদূর জানা গেছে, পিএমশ্রী কিংবা সিএমশ্রী স্কুলগুলিকে সেন্ট্রাল মডেল স্কুলের ধাঁচে স্মার্ট বোর্ড সহ পড়াশোনার পরিকাঠামো দেবে সরকার। এই স্কুলগুলিতে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ভর্তি নেওয়া হবে মেধার ভিত্তিতে। সুজিত দাস বলেন, রাজ্যে প্রায় ২০ হাজারের কাছাকাছি স্কুল আছে যেগুলির পরিকাঠামো ও শিক্ষকের ঘাটতি রয়েছে! যদি সঠিক সার্ভে হয় এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। যদি পিএমশ্রী এবং সিএমশ্রী প্রকল্পে কিছু স্কুলকে মডেল করা হয় তবে বাকি স্কুলগুলির কী হবে? 
তথ্য বলছে, কেন্দ্রীয় সরকার যে পিএমশ্রী প্রকল্প করছে সেটা যদি ১০০% বাস্তবায়িত হয় তবে দেশের মোট ২৮.৮ কোটি স্কুল পড়ুয়ার মাত্র ২০ লক্ষ অর্থাৎ ০.৮ শতাংশ পড়ুয়া উপকৃত হবে। মুখ্যমন্ত্রীর সিএমশ্রী চালু হলে রাজ্যের মোট পড়ুয়ার মাত্র ৩% উপকৃত হবে। বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষকদের অভিমত, সামগ্রিকভাবে সমস্ত স্কুলের উন্নয়ন করা উচিত সরকারের। বিদ্যালয়ের ছাত্র -শিক্ষক অনুপাতকে মান্যতা দিক সরকার। 
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ন্যাশনাল এডুকেশন পলিসিকে প্রয়োগ করতে সরকারের যথেষ্ট অনীহা রয়েছে। এর ফলে অভিভাবক ও পড়ুয়াদের একটা অংশের প্রাইভেট শিক্ষায় ঝোঁক বাড়ছে। পিএমশ্রী এবং সিএমশ্রী প্রকল্পে জেলায় মাত্র ৪টি স্কুল আওতায় আসবে। বাকিদের কি হবে সেটা আগে স্পষ্ট হওয়া দরকার।
সুজিত দাস আরও বলেন, বাস্তবে গ্রামাঞ্চলে প্রাথমিক থেকে উচ্চ প্রাথমিকে শিক্ষার পরিকাঠামো ভেঙে পড়েছে। এই অবস্থায় মেধার ভিত্তিতে ক্লাস সিক্সে কি করে গ্রামের পড়ুয়ারা সুযোগ পাবে? আমরা চাই সরকার সব স্কুলকেই সঠিক পরিকাঠামো গড়ে দিক। গত তিন বছরে রাজ্যের স্কুলগুলি কম্পোজিট গ্রান্ট পায়নি। চক, ডাস্টার কেনার টাকা নেই স্কুলগুলির তহবিলে। সেগুলি আগে দেখুক শিক্ষা দপ্তর। কম্পোজিট গ্রান্টের ৬০% টাকা কেন্দ্রের, বাকিটা রাজ্যের। দুই সরকার নিয়মমাফিক সেটা দিক। শিক্ষক নিয়োগ করুক। তা না করে বাছাই করা কিছু স্কুল বেছে নেওয়া মানেই অন্য স্কুলগুলিকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া। আমরা চাই শিক্ষার সার্বিক উন্নতি।

Comments :0

Login to leave a comment