নতুনপাতা
বইকথা
মরমে রবীন্দ্রসঙ্গীত
গৌতম রায়
১০ আগস্ট ২০২৬ | ৪র্থ বর্ষ
গৌতম রা
মরমে রবীন্দ্রসঙ্গীত' বইয়ের ভূমিকায় বিশিষ্ট সাহিত্যিক পরিত্র সরকার লিখেছেন, ববীন্দ্রসঙ্গীতের স্থান একেবারে গভীরতম আশে। তাই নিয়ে আমাদের ব্যক্তিগত দিনরাত্রি সমৃদ্ধ হয়, আবার আমাদের বিদ্যাক্ষেত্রে নিরন্তর তার সন্ধান চলে।
ঠিক তাই। এই বইয়ের ১৫টি প্রবন্ধে লেখক সেই সন্ধ্যানেই ব্যাপৃত থেকেছেন। মূলত তিনি বেছে নিয়েছেন একটি করে গান যেমন তবু মনে রেখো, শুধু যাওয়া আসা, অথবা প্রাণ ভরিয়ে তৃষা হরিয়ে। তারপর সেই গানটিকে বিচার করেছেন উলটে পালটে, নানা কৌশলে। সনাতন পালের লেখার বৈশিষ্ট্য হলো তিনি রবীন্দ্রনাথের অবস্থানে থেকে গানগুলিকে বিচার করেননি, করেছেন নিচ থেকে শ্রোতাদের পাশে বসে, আর একজন শ্রোতা হয়ে। রবীন্দ্রনাথের একটি গান শুনতে বসে কোন শ্রোতার মনে কী কী ভাবনা আসে, কেমনতরো সেই অনুরণন এই হলো তার আলোচনার বিষয়। এর ফল হয়েছে এই যে প্রবন্ধগুলি একেবারে ঘটখটে তত্ত্বকথায় ভারাক্রান্ত হয়ে যায়নি বরং যথেষ্ট সরস আর সহজবোধ্য হয়েছে। লেখক মূলত একটি গান শুনতে বসে শ্রোতার মনে কী কী ভাব বা চেতনার উদয় হয় তাই নিয়ে আলোচনা করেছেন। সত্যি বলতে কি সেদিক দিয়ে বইটি নতুন ধরনের।
আনপড় পাঠক জেনে বিস্মিত হবেন যে রবীন্দ্রনাথের গানে স্মরলিপি করেছেন অনেকে, যেমন ইন্দিরা দেবী জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর, দিনেন্দ্রনাথ ঠাকুর বা দিনুকাকা প্রমুখ। আশ্চর্য হলো, ভিন্ন ভিন্ন হাতে স্বরলিপি হলেও রবীন্দ্র গানে মূল রাবীন্দ্রিক ভাবটি কিন্তু সবক্ষেত্রেই অটুট থেকেছে। গানের সাধারণ কাঠামোটি কোথাও বিঘ্নিত হয়নি। এই কারণে রবীন্দ্রনাথের গান শুনে গানটির স্বরলিপিকার কে ছিলেন বলা শক্ত প্রায় অসম্ভবই বলা যায়।
প্রবন্ধগুলি সুলিখিত কিন্তু প্রায় একধাঁচের হওয়ায় একশোরও কম পাতা এই বইটি একটানে পড়ে ফেলাও অসুবিধার। বইটি পড়তে গেলে পাঠকের মনে হবে লেখক প্রবন্ধগুলি যত না পাঠকের কথা মনে রেখে লিখেছেন তার চেয়ে বেশি লিখেছেন আবেগ তাড়িত হয়ে। লেখক যেমন জ্ঞানী তেমনি একজন সম্পৃক্ত রবীন্দ্র সঙ্গীতের শ্রোতা, কিন্তু তিনি লিখেছেন সঙ্গীত রসে আপ্লুত হয়ে, নির্মোহ হয়ে লিখতে পারেননি। এর মধ্যে কবেল বাংলার মাটি, বাংলার জল শিরোনামে প্রবন্ধটি মনে হলো ব্যতিক্রম।
Comments :0