Social Boycott

সামাজিক বয়কটের শিকার তুফানগঞ্জের ক্যান্সার আক্রান্ত রোগী

জেলা

তৃণমূলের মতই বিজেপি এবং তার শাখা সংগঠন এবার মধ্য যুগীয়ো "সামাজিক বয়কটের" ফতেয়া জারি করার নিদান দিচ্ছে কোচবিহার জেলা জুড়ে! সম্প্রতি মেখলিগঞ্জ ও তুফানগঞ্জের এরকম দুটি ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। গত ৬ আগষ্ট মেখলিগঞ্জের জামালদহে ১৮ বছরের এক তরুণী নিখোঁজ হয়। তরুণীর পরিবারের সন্দেহ এক বিবাহিত যুবকের এই নিখোঁজের পেছনে হাত রয়েছে। গত শুক্রবার রাতে জামালদহ বাজারে বিজেপি এবং হিন্দু জাগরণ মঞ্চের নামে এক মিছিল হয়। এরপর হিন্দু জাগরণ মঞ্চের পক্ষ থেকে সন্দেহভাজন ওই যুবক ও তার পরিবারকে সামাজিক বয়কটের ডাক দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একই ভাবে সামাজিক বয়কটের খাঁড়া নেমে এসেছে কোচবিহার জেলার তুফানগঞ্জের এক অসুস্থ দম্পতির পরিবারের ওপরে! এক্ষেত্রে ওই পরিবারের অপরাধ তাঁরা তৃণমূল করতেন।
ওই পরিবারের বিরুদ্ধে অভিযোগ ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত ভোটের সময়ে ওই দম্পতির ছেলে বিজেপির বুথ সভাপতি হিতেন্দ্র বর্মন সহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছিল মারধোরের অভিযোগে। বিধানসভা ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই সেই মামলা তুলে নেবার জন্য চাপ সৃষ্টি চলছে। আর তার জেরেই সামাজিক বয়কটের ডাক এমনিই অভিযোগ ওই বৃদ্ধ দম্পতির।
সুধীর চন্দ্র বর্মনের অভিযোগ শুধু বাজার-হাটে আমাদের কাছে বিক্রি বন্ধের ফতোয়া নয়। আমার স্ত্রী ক্যান্সার আক্রান্ত। তাঁর ওষুধও কিনতে পারছি না কোন দোকানে।এমন কি স্ত্রীর জন্য রক্তের প্রয়োজনে প্রতিবেশীদের মানা করে দেওয়া হয়েছে! অসহায় দম্পতি জানিয়েছেন, আমার ছেলে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরের ওই ঘটনার পর মিথ্যে মামলায় জেলেও গেছে। জামিনে মুক্ত হয়ে সে ভিন রাজ্যে কাজে চলে যায়। কিন্তু ওর মা ক্যান্সার আক্রান্ত, আমিও অসুস্থ, আমার এক বোন মূক বধির। সেও আমাদের সঙ্গেই থাকে। বাধ্য হয়ে ছেলে বাড়ি ফিরে এসেছে। এখন নিজের জমিতে চাষও বন্ধ করে দিয়েছে ওরা। ক্যান্সার আক্রান্ত সুধীর চন্দ্র বর্মনের স্ত্রী চৈতি বর্মনের আকুল আবেদন,"আমাদের ওপর থেকে সামাজিক বয়কট তুলে নিয়ে বাঁচার পথ খুলে দিক প্রশাসন।
যদিও বিজেপির নেতাদের সাফাই এধরনের কোন ঘটনাই হয় নি সবটাই সাজানো। ওরা বাজারঘাট সবই করছে।কেউ বাধা দেয় নি। তবে জানা গেছে কিছুদিন আগে মামলার মিমাংসার জন্য উভয়পক্ষ আলোচনায় বসেছিল। মামলা তুলে নিতেও নাকি রাজি হয়েছিল ওই দম্পতির পরিবার। কিন্তু মামলা আর ওঠে নি।
উল্লেখ্য তৃণমূলের আমলেও তুফানগঞ্জের দুটো ব্লকেই সিপিআই(,এম) দলের একাধিক নেতা কর্মীর ওপর এরকম ফতোয়া জারি করেছিল। এমনকি সিপিআই(এম) দলের প্রাক্তন বিধায়ক তমসের আলী তাঁর নিজের জমিতে চাষ করতে পারে নি বছরের পর বছর। তৃণমূলের রাজত্বের অবসান হলেও তবে কি ফের বিজেপির হাত ধরে মধ্যযুগীয় সামাজিক বয়কট ফিরে এসেছে মেখলিগঞ্জ ও তুফানগঞ্জে এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন জেলার বাসিন্দারা।

Comments :0

Login to leave a comment