নতুনপাতা
বাইশে শ্রাবণ | গল্প
যখন মেঘের দেশে রবিঠাকুর আসেন
সৌরভ দত্ত
৮ আগস্ট ২০২৬ | ৪র্থ বর্ষ
বর্ষা নেমেছে অঝোরে । সন্তোষবাবুর রেডিওতে বাজে-- আজি ঝরো ঝরো মুখর বাদর দিনে।মনে পড়ে বিভূতি স্যার নামতা পড়াচ্ছেন গাবতলায়। হঠাৎ পড়া ছেড়ে আমরা গুণগণ গান ধরেছি--বিষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর, নদেয় এল বান।
তখনকার দিনে স্কুলে বাইশে শ্রাবণ হবে। বাচ্চাদের নিয়ে অনুষ্ঠান।টগর ফুলের মালা গেঁথে আনবে গুঞ্জা। রবীন্দ্রনাথের বাঁধানো বড় ছবিটা বারোমাস টাঙানো থাকত স্কুলে।আমরা যে যার বাড়ি থেকে ফুল নিয়ে যাব।আমাকে ফুল তুলে দিত মা।তখন প্রাইমারি স্কুলে সারা বছর চলতই নানা অনুষ্ঠান।সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী দিবস হিসেবে হিরোশিমা,নাগাসাকি দিবসও পালন হতে দেখেছি স্কুলে। এখন যদিও পরিবেশ, পরিস্থিতি বদলেছে।
এখন স্কুল পেরিয়ে শিক্ষকতায় যুক্ত। চারিদিকে দেখি সবুজের মাঝখান দিয়ে মাথা তুলছে হাইরাইজ।বৃষ্টি এলে প্রকৃতিকে ভালো করে উপভোগ করা যায়। সেদিন ক্লাসে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়াচ্ছিলাম--উস্রি নদীর ঝর্ণা দেখতে যাব।রবিঠাকুর সহজপাঠের দ্বিতীয় ভাগে লিখে গেছেন। এখন ও চিরকালীন। বাচ্চারা দোদুল ছন্দে আবৃত্তি করছিল।কেউ বলছিল-- স্যার, উস্রি কোথায় ? ওদের বলছিলাম--ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যের গিরিডি জেলায় উস্রি নদীর ওপর এই বিখ্যাত জলপ্রপাতটি অবস্থিত। অপূর্ব তার সৌন্দর্য !তোরাও বড় হলে ঘুরতে যাবি।
নববর্ষার সঞ্চার আর রবিঠাকুরের বাইশে শ্রাবণ আমাদের প্রত্যেকের মনে বাঙ্ময় হয়ে থাকে। কিন্তু হয়ত কিছুদিন পর সিলেবাসে রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, সুকান্ত থাকবেন না। বাচ্চারাও পড়তে পারবে না--রাম বনে ফুল পাড়ে কিংবা আশাদাদা ঢাকা থেকে আসবেন।
এসব সাতপাঁচ ভাবতে ভাবতে বাড়ি ফিরছি। দূরে দেখলাম একটা বাচ্চা নিজের আঁকা রবীন্দ্রনাথের পোট্রেট বুকে আঁকড়ে দাঁড়িয়ে আছে ভিজছে রাস্তায়। নদীর জল ফুলেফেঁপে উঠেছে।মাথার ভিতরে খুলে যাচ্ছে গীতবিতানের খাতা।গেয়ে উঠছি নদী আবার আপন বেগে পাগলপারা...পাশ থেকে একজন বয়স্কা ভদ্রমহিলা বলে উঠলেন আজ বাইশে শ্রাবণ না!
Comments :0