Water supply cut off for 9 days in Kashipur minority settlement; streetlights also out

কাশীপুরে সংখ্যালঘু বসতিতে জল বন্ধ ৯দিন, বন্ধ রাস্তার আলো

রাজ্য কলকাতা

অরিজিৎ মণ্ডল: কাশীপুর

জলের অপর নাম জীবন, জল ছাড়া বাঁচবো কি করে বলুন তো! 
এই আর্ত কান্না প্রশাসনের কান পর্যন্ত পৌঁচ্ছাছে না গত ৯ দিন। কলকাতা কর্পোরেশনের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাশীপুর জেটি সংলগ্ন জ্যোতিনগর কলোনিতে আর্তি শিশু-বৃদ্ধবৃদ্ধাদের। 
এখানেই গত ন'দিন ধরে বন্ধ রাস্তার জল। বাতিস্তম্ভে আলোও জ্বলছে না। কেন? এই প্রশ্নের উত্তর নেই।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, এলাকার বেশিরভাগই সংখ্যালঘু। সেই জন্যই মিলছে না জল বা বিদ্যুৎ। কর্পোরেশ এবং প্রশাসনে জানালেও কোনও সুরাহা মেলেনি। 
এই এলাকায় বেশিরভাগই দিনমজুর। একেবারেই গরিব এবং নিম্নবিত্ত মানুষের বাস। 
রাজ্যে সদ্য নির্বাচনের পর কাশীপুর বেলগাছিয়া বিধানসভা কেন্দ্রে জয়লাভ করেছেন বিজেপির রিতেশ তিওয়ারি। তিনি প্রকাশ্যে জানিয়েছেন সংখ্যালঘুরা তাদের তাকে ভোট দেননি, তাই সংখ্যালঘুদের জন্য তিনি কোনও কাজ করবেন না। বিধায়কের এমন বক্তব্য আশঙ্কা বাড়াচ্ছে স্থানীয়দের।


এলাকার মানুষকে নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ বস্তি উন্নয়ন সমিতির স্থানীয় নেতৃবৃন্দ গিয়েছিলেন কলকাতা কর্পোরেশনের এক নম্বর বরো দপ্তরে। এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথাও হয়। তিনি আশ্বাস দিয়েছিলেন একদিনের মধ্যে জলের লাইন চালু করে দেওয়া হবে। 
কিন্তু আশ্বাস আশ্বাসই রয়ে গেছে। তারপর এক সপ্তাহ কেটে গেলেও এখনও পর্যন্ত জলের কোনও ব্যবস্থা করেনি কলকাতা কর্পোরেশন। 
স্থানীয় সিপিআই(এম) নেতৃবৃন্দ মানুষের সহযোগিতা নিয়ে তাদের জন্য জলের ব্যবস্থা করছেন। কিন্তু এক ট্যাঙ্কার জলে সকলের সঙ্কুলান হচ্ছে না। 
এলাকার বস্তি আন্দোলনের নেতা অজিত শাসমল বলছেন, পরিকল্পিতভাবে সংখ্যালঘু মানুষের উপর অত্যাচার করার চেষ্টা করছে। আগে বাংলায় এই জিনিস ছিল না। এই জিনিস আমরা চলতে দেব না। সংখ্যালঘু এলাকায় জল বন্ধ করে দিয়ে তাদেরকে বেকায়দায় ফেলার চেষ্টা করছে। 
তিনি জানাচ্ছেন, বরোতে আমরা ডেপুটেশন দিয়েছি। কলকাতা কর্পোরেশনের প্রশাসক স্মিতা পাণ্ডেকেও চিঠি দেওয়া হয়েছে। মানবাধিকার কমিশনেও আমরা চিঠি দিয়েছি। এছাড়াও হাইকোর্টে একটি মামলা করার পরিকল্পনা আমরা গ্রহণ করেছি। এছাড়াও মানুষকে সংগঠিত করে রাস্তায় আন্দোলনের পরিকল্পনা আমরা নিচ্ছি। 
স্থানীয় বাসিন্দা শেখ মইনুদ্দিন বললেন, "গত মাসের ২৯ তারিখ থেকে জল আসছে না এলাকায়। তার আগের দিন অর্থাৎ ২৮ তারিখ এই এলাকার দুই প্রান্তে দুটি গর্ত করা হয়। স্থানীয় মহিলারা জিজ্ঞাসা করেন কিসের জন্যই গর্ত করা হচ্ছে তখন জানানো হয় জলের লাইনের কাজের জন্য গর্ত করা হচ্ছে। কিন্তু পরদিন সকাল থেকে আর জল আসেনি। ঐদিনই ওই এলাকার রাস্তার সমস্ত লাইট বন্ধ করে দেওয়া হয়। 
তাঁর প্রশ্ন আমরা মুসলিম বলে কি আমাদের জলের লাইন কেটে দেওয়া হল?
আরেক বাসিন্দা রাফেজা বিবি বলেছেন, কলের জল নেই বলে গঙ্গার স্নান করাতে হচ্ছে ছোটদের। গঙ্গার জল অপরিষ্কার। ছোটদের গায়ে চুলকানি হচ্ছে। 
রেশমা শেখ বলেছেন, সিপিআই(এম) আমাদের পাশে রয়েছে। কথা বলতে বলতে কেঁদে ফেলেছেন তিনি। বলেছেন, আমাদের ভয় করছে। তিনি বলেছেন, জল না দিলে বাঁচব কী করে। এত অত্যাচার না করে জলে বিষ মিশিয়ে দাও। বুলডোজার চালিয়ে দাও।
এলাকাবাসীর গভীর আশঙ্কা এরপর যে কোনোদিন চালানো হতে পারে বুলডোজার। মহা অনিশ্চয়তাকে সঙ্গী করে বাঁচছেন বাসিন্দারা।

Comments :0

Login to leave a comment