ধানখেত পাহারা দিতে গিয়ে হাতির হানায় বাগরাকোটে সাইবাল ওরাওয়ের মৃত্যু ফের ডুয়ার্সে মানুষ ও হাতির সংঘাতের প্রশ্নটি সামনে নিয়ে এসেছে। শনিবার মাল হাসপাতালে মৃত্যু হয় তাঁর। কিন্তু সকলেই বলছেন, এটি যেমন প্রথম ঘটনা নয়, তেমন শেষও নয়।
ধানের মরশুম এলেই জঙ্গল থেকে হাতি বেরিয়ে কৃষিজমিতে ঢুকে পড়ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের বক্তব্য, জঙ্গলের ভিতরে হাতির স্বাভাবিক খাবারের জোগান কমে যাওয়ায় ধান, ভুট্টা-সহ কৃষিজমির ফসল হাতির কাছে সহজলভ্য খাবারে পরিণত হচ্ছে।
উত্তরবঙ্গের বনাঞ্চলে হাতির অন্যতম প্রধান খাবার ঘাস। এর পাশাপাশি বাঁশ, লতাগুল্ম, ঝোপঝাড়, গাছের পাতা, কচি ডাল ও ফলও হাতি খায়। বিভিন্ন রিপোর্টে উত্তরবঙ্গের হাতির খাদ্য হিসেবে প্রায় ৬৭ ধরনের উদ্ভিদের উল্লেখ রয়েছে। তার মধ্যে বিভিন্ন ধরনের ঘাস, বাঁশ, ঝোপ ও লতাগুল্ম রয়েছে। কাশ জাতীয় ঘাস, নলখাগড়া, শর ঘাস এবং বিভিন্ন স্থানীয় ঘাসের প্রজাতি হাতির খাদ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
জঙ্গলের ভিতরে শুধু বড় গাছ থাকলেই হাতির খাবারের সমস্যা মেটে না। প্রয়োজন নিচু স্তরের ঘাস, বাঁশঝাড়, ঝোপ ও লতাগুল্মও। হাতির খাদ্যের তালিকায় শিমুল, ডুমুর, বটজাতীয় গাছ, কড়ই, রক্তকরবী জাতীয় ঝোপ, বনলতা ও বিভিন্ন স্থানীয় বাঁশের প্রজাতি রয়েছে। এসব গাছের পাতা, কচি ডাল, ছাল, ফল এবং নিচু স্তরের উদ্ভিদ হাতির খাবার হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
উত্তরবঙ্গের বন, চা-বাগান ও কৃষিজমি মিলিয়ে তৈরি এলাকায় হাতির খাদ্য হিসেবে ১৩২ ধরনের উদ্ভিদ ব্যবহারের তথ্য বিভিন্ন রিপোর্টে উঠে এসেছে। এর মধ্যে মাত্র ২১টি প্রজাতি মোট খাদ্যগ্রহণের প্রায় ৮৫ শতাংশের সঙ্গে যুক্ত বলে বিভিন্ন পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ হাতি অনেক ধরনের উদ্ভিদ খেলেও কয়েকটি নির্দিষ্ট ঘাস, গাছ, বাঁশ ও লতাগুল্ম তার খাদ্যের বড় অংশ জোগায়।
পরিবেশবিদদের বিভিন্ন আলোচনায় জঙ্গলে স্থানীয় প্রজাতির খাদ্যগাছ লাগানো, বাঁশঝাড় ও ঘাসের জমি ফিরিয়ে আনা, জলাশয় সংরক্ষণ এবং হাতির চলাচলের করিডর অক্ষুণ্ণ রাখার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, হাতি ধানখেতে ঢোকার পর শুধু তাড়ানোর ব্যবস্থা করলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয় না। সারা বছর জঙ্গলের ভিতরে পর্যাপ্ত খাবার ও জলের ব্যবস্থা রাখা গেলে কৃষিজমির দিকে হাতির আসার প্রবণতা কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
Man killed in Bagrakot by Elephant
ধান খেত পাহারা দিতে গিয়ে হাতির হানায় ফের মৃত্যু ডুয়ার্সে
×
Comments :0