জনগণের সহযোগিতায় তৈরি বাড়ি এবার জনগণের সেবায় উৎসর্গ করলেন রত্না সেনগুপ্ত। রবিবার রায়গঞ্জের সুভাষগঞ্জে উত্তর দিনাজপুর পিপলস রিলিফ কমিটির হাতে নিজের বাড়ি তুলে দেন তিনি। মানুষের জন্য মানুষের তৈরি সম্পদ কীভাবে জনকল্যাণের কাজে ব্যবহার করা যায়, তারই একটি দৃষ্টান্ত তৈরি হলো এই উদ্যোগে।
সুভাষগঞ্জে আয়োজিত হস্তান্তর অনুষ্ঠানে ছিলেন পিপলস রিলিফ কমিটির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক ডাঃ ফুয়াদ হালিম, সংস্থার পৃষ্ঠপোষক প্রাক্তন সাংসদ ড: রামচন্দ্র ডোম-সহ বিশিষ্টজনেরা। অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ দেন সংগঠনের উত্তর দিনাজপুর জেলা সম্পাদক জয় দত্ত রায়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রত্না সেনগুপ্ত। জয় দত্ত রায় বলেন, উত্তর দিনাজপুর পিপলস রিলিফ কমিটির উদ্যোগে সপ্তাহের সাত দিন দাতব্য চিকিৎসালয় চালু রাখার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রে ২৪ ঘণ্টা স্থায়ী চিকিৎসক ও দু’জন দায়িত্বশীল নার্স রাখার পরিকল্পনাও রয়েছে। পাশাপাশি নতুন ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। ট্রাস্টের নিজস্ব ভবনে ল্যাবরেটরি তৈরি করে স্বল্পমূল্যে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে। জেলার বাসিন্দারা স্বেচ্ছায় কমিটির আজীবন সদস্য হতে পারবেন। সদস্যদের নিয়মিত স্বাস্থ্যপরীক্ষা ও শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেওয়া হবে। গুরুতর অসুস্থতায় চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় যোগাযোগ ও সহযোগিতা দেওয়া হবে। একাকিত্বে ভোগা সদস্যদের পাশে দাঁড়িয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহায়তার ব্যবস্থাও থাকবে। হেল্পলাইনে যোগাযোগ করলে প্রয়োজন অনুযায়ী সহযোগিতা দেওয়ার কথা জানিয়েছে কমিটি।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সমাজের পিছিয়ে পড়া ও বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য মানুষের উদ্যোগেই তৈরি হয়েছে পিপলস রিলিফ কমিটি। সংগঠনের কাজকে আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে এই বাড়ি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
উত্তর দিনাজপুর পিপলস রিলিফ কমিটি দীর্ঘদিন ধরে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে মানুষের পাশে থেকে কাজ করলেও , এদিন আনুষ্ঠানিকভাবে পথ চলা শুরু করে। আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবারকে সাহায্য, চিকিৎসার ব্যবস্থা, ওষুধ ও রক্তের প্রয়োজনে সহযোগিতা-সহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সংগঠনের কর্মীরা যুক্ত রয়েছেন। অসুস্থ ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোই সংগঠনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়। তারা জানান, এই কেন্দ্রে ২৪ ঘন্টা চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া হবে । সেখানে বক্তারা বলেন, সাধারণ মানুষের সমস্যার সমাধান শুধুমাত্র সরকারি ব্যবস্থার উপর নির্ভর করে সম্ভব নয়। সমাজের সামর্থ্যবান মানুষ এবং সাধারণ মানুষ সম্মিলিতভাবে এগিয়ে এলে বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পরিসর আরও বাড়ানো যায়। মানুষের তৈরি সম্পদকে ব্যক্তিগত ভোগের পরিবর্তে জনস্বার্থে ব্যবহার করার এই উদ্যোগ সেই সামাজিক দায়বদ্ধতার কথাই মনে করিয়ে দেয়।
ডাঃ ফুয়াদ হালিম এবং রামচন্দ্র ডোম তাঁদের বক্তব্যে জনকল্যাণমূলক কাজকে আরও বিস্তৃত করার উপর জোর দেন। তাঁরা বলেন, সমাজের যে অংশ বিভিন্ন কারণে পরিষেবা ও সুযোগ থেকে বঞ্চিত, তাদের কাছে পৌঁছনোর জন্য মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ জরুরি। পিপলস রিলিফ কমিটির মতো সংগঠন সেই কাজের ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে।
রত্না সেনগুপ্ত বলেন, মানুষের ভালোবাসা ও সহযোগিতায় যে সম্পদ তৈরি হয়েছে, তা মানুষের প্রয়োজনে ব্যবহার করাই তাঁর উদ্দেশ্য। তাই বাড়িটি পিপলস রিলিফ কমিটির হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আগামী দিনে এই বাড়িকে কেন্দ্র করে আরও বেশি মানুষের কাছে চিকিৎসা ও অন্যান্য জনকল্যাণমূলক পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যাশা রাখি।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় মানুষ ও সংগঠনের কর্মী-সমর্থকরা উপস্থিতি ছিলেন। জনগণের সহযোগিতায় তৈরি বাড়ি জনগণের সেবায় ব্যবহারের এই উদ্যোগকে ঘিরে অনুষ্ঠানে উৎসাহ দেখা যায়।
বিমান বসু, সৃজিত ভট্টাচার্য এবং ডাঃ অরিজিৎ রায়চৌধুরি দম্পতিকে শুভেচ্ছা বার্তা পাঠান।
PRC
পিআরসি'র হাতে বাড়ি তুলে দিলেন রত্না সেনগুপ্ত
×
Comments :0