CPI-M Rally Panchla

উঠে গিয়েছে তৃণমূল, বিজেপি-কে ঠেকাতে বামপন্থীদের পাশে দাঁড়ান, আহ্বান পাঁচলায়

রাজ্য জেলা

পাঁচলার সমাবেশে বলছেন শতরূপ ঘোষ।

মনিরুল হক: হাওড়া

বিজেপি’র বর্বরতা দেখছে সারা দেশ। দেখছে রাজ্য। বামপন্থীরাই সঠিক লড়াই করছে। তৃণমূল বিক্রি হয়ে গিয়েছে বিজেপি-র কাছে। বিজেপি-কে আটকানোর জন্য তৃণমূলকে ভোট দিয়ে থাকলে, আজ পাশে দাঁড়ান বামপন্থীদের। 
রবিবার হাওড়ার পাঁচলায় বিপুল জনসমাবেশে এই মর্মে আহ্বান জানান সিপিআই(এম) রাজ্য কমিটির সদস্য শতরূপ ঘোষ। 
উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, মজুরি ও এসআইআর-এ বাদ প্রকৃত ভোটদাতাদের নাম তোলার দাবিতে হয় সমাবেশ। মূল্যবৃদ্ধি, নারী নির্যাতন, বিদ্বেষ-বিভাজনের রাজনীতির প্রতিবাদও জানানো হয় সমাবেশে। সিপিআই(এম) পাঁচলা এরিয়া কমিটির উদ্যোগে পাঁচলার কুলাইতে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশের মাঠ ছাপিয়ে হয়েছে জমায়েত। আশেপাশের বাড়ির ছাদেও বসে অনেকে শুনেছেন বক্তব্য।
বক্তব্য রাখেন সিপিআই(এম) রাজ্য কমিটির সদস্য পরেশ পাল, জেলা সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য নবীন ঘোষ, সাবিরউদ্দিন মোল্লাও। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সিপিআই(এম) হাওড়া জেলা কমিটির সম্পাদক দিলীপ ঘোষ। সভা পরিচালনা করেন পার্টি নেতা পিন্টু হাজরা।  
শতরূপ ঘোষ বলেন, গোটা রাজ্যজুড়ে আমাদের সভা সমাবেশ করতে হচ্ছে। প্রথম কারণ হচ্ছে, আমাদের আঙুল থেকে ভোটের কালি ওঠানোর আগে তৃণমূল কংগ্রেস পার্টি উঠে গেছে। দ্বিতীয় কারণ, বিজেপি’র সরকার ওদের মন্ত্রীসভা শপথ নেওয়ার আগে, ভালো করে মন্ত্রীর চেয়ারে গিয়ে বসার আগে, ওরা রাস্তায় মানুষের ঘর ভাঙার জন্য, দোকান ভাঙার জন্য জীবন জীবিকা কেড়ে নেওয়ার জন্য বুলডোজার নামিয়ে দিয়েছে। 
শতরূপ বলেন, তৃণমূল ১৫ বছর ধরে পশ্চিম বাংলায় বলে গিয়েছিল যে ‘সিপিএম’, ‘আইএসএফ’ করা যাবে না, বিশেষ করে যে সমস্ত এলাকায় সংখ্যালঘু মানুষ বসবাস করেন। যদি ভোট ভাগাভাগি হয়, তাহলে বিজেপির সুবিধা হয়ে যাবে। সবাইকে মারধর করেছে। একটার পর একটা পঞ্চায়েতের, পৌরসভার ভোট হয়নি। লোকসভা ও বিধানসভা ভোটের সময় ভোটের নামে কি ছেলেখেলা হয়েছে আপনারা জানেন। আমাদের পার্টি অফিস পোড়ানো হয়েছে। আমাদের শয়ে শয়ে কর্মী জেল খেটেছেন, মিথ্যে মামলায় বিনা বিচারে রক্ত ঝরিয়েছেন। এসব তৃণমূল করেছে বিজেপিকে আটকানোর নামে। ১৫ বছর পরে যখন সত্যিকারের বিজেপিকে আটকানোর সময় এল, যখন রাজ্যের সরকারে বিজেপি এল, তখন তারা ‘ভালো তৃণমূল’ হয়ে গেলো।
বিজেপি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এদের শেষের শুরু হয়ে গেছে। মোদী ভেবেছিল জ্ঞানেশ কুমারের কোলে বসে একটার পর একটা ভোট পার করবে। এখন দেখতে পাচ্ছেন জ্ঞানেশ কুমারের অবস্থা কী হয়েছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার বাকি দুই নির্বাচন কমিশনারদের মতামতে উড়িয়ে দিয়েছে। মোদী-শাহের কথায় বেআইনিভাবে এসআইআর করে লোকের নাম কেটেছে। এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছে জ্ঞানেশ কুমার। গত ২৫ সেপ্টেম্বর কলকাতায় মহিলা সমিতি জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ, শাস্তি, জেল চেয়ে মিছিল করেছে। গোটা দেশ জুড়ে বিক্ষোভ হচ্ছে। দিল্লির যন্তর মন্তরে আবার লোকে জড়ো হওয়া শুরু করেছে। এখন জ্ঞানেশ কুমার বলছে আপনাকে আসতে হবে না নাম তালিকায় ফেরানোর জন্য। ইলেকশন কমিশনের লোক বিএলও আপনাদের বাড়ি বাড়ি যাবে। বিএলও তো আমাদের বাড়ি আসবে। কিন্তু জ্ঞানেশ কুমার কদিন পরে বাড়ি যাবে না, তিহার জেলে যাবে। 
পরেশ পাল বলেন, এত মানুষের মধ্যে সঙ্কট। তা থেকে চোখ সরাতে ধর্মের নামে মানুষের বিভাজন হচ্ছে। ধর্ম নিজের ব্যাপার, ধর্ম বিশ্বাসের ব্যাপার, তাহলে অপর ধর্মের মানুষের প্রতি বিদ্বেষ কেন। এই বিদ্বেষ আমাদেরকে প্রতিহত করতেই হবে। গরিব মানুষ রুটি-রুটির লড়াই এই লাল ঝান্ডার তলায় থেকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন এই আহ্বান জানান তিনি।


 

Comments :0

Login to leave a comment