বিশ্বজিত দাস: গুয়াহাটি
ককরোচ জনতা পার্টির সহ-আহ্বায়ক আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে গোটা আসাম। বিজেপি সরকারের স্বৈরাচারী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়েছে জেন জি-রা। রবিবার সকালে রাঙ্কা সহ ৪১ জন সমর্থকদের আটক করেছে হিমন্তবিশ্বের পুলিশ। এমনকি জুবিন গর্গ ফ্যানস ক্লাবের সদস্যদেরও আটক করেছে পুলিশ। রবিবার গুয়াহাটিতে পিংকি চৌধুরী নামে এক মহিলার বাড়িতে আন্দোলন কর্মসূচি ঠিক করতে ককরোচ জনতা পার্টির প্রথম আঞ্চলিক বৈঠক ছিল। বৈঠক শুরু হতেই শতাধিক পুলিশ ওই বাড়িটি ঘিরে ফেলে বৈঠকে অংশ নেওয়া সকলকে আটক করে। জুবিন ফ্যানস ক্লাবের সদস্যরা ওই সময় রাঙ্কার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এলে তাদেরকেও আটক করে। আটক করে তাদের গোপন জায়গায় নিয়ে গেছে পুলিশ। পুলিশ হেপাজতে থাকা রাঙ্কা বলেন, হিমন্তবিশ্ব শর্মা আসামে জঙ্গলরাজ কায়েম করেছেন৷ এটাই তার প্রমাণ৷ আসামের বেহাল শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতি করা, কাজিরাঙায় উচ্ছেদ বন্ধ করা ও বন্যপ্রাণীদের জন্য সংরক্ষিত জমি আদানির হাতে তুলে দেওয়া বন্ধ করা, বিজেপির স্বার্থে নির্বাচন কমিশন আসামে বেআইনি ভাবে আসন পুনর্বিন্যাস করেছে,তা বাতিল করার দাবিতে আসামে জেন জিদের নিয়ে আন্দোলন গড়ে তুলতে রবিবার গুয়াহাটিতে প্রস্তুতি কমিটির এক সভা ছিল। এজন্য একটি হোটেল ভাড়া নেওয়া হয়। কিন্তু শনিবার হোটেল মালিককে ভয় দেখিয়ে আমাদের সভা করতে দেয়নি বিজেপির গুন্ডারা। শেষপর্যন্ত রবিবার স্থানীয় এক মহিলার বাড়িতে বৈঠক করতে সিজেপির কর্মকর্তারা জড়ো হন৷ বৈঠক শুরু হতেই পুলিশ পাঠিয়ে সকলকে আটক করিয়েছেন হিমন্তবিশ্ব শর্মা। জেন জিদের ভয় পেয়েছেন হিমন্তবিশ্ব, তা স্পষ্ট । রাঙ্কা আরো বলেন, নিজের পরিবারের ব্যবসার স্বার্থে আসামে সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থার পটল তুলে দিয়েছেন হিমন্তবিশ্ব শর্মা, তা সিজেপি দেশবাসীর সামনে তুলে ধরতে চাইছে। তা প্রকাশ্যে এলে হিমন্তের মুখ পুড়তো।এই ভয়ে সিজেপি নেতাদের আটক করেছেন। ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে ঘটনার তীব্র নিন্দা করে জানিয়েছে বৈঠক ভেস্তে দিতেই পুলিশ রাস্তা ব্যারিকেড করে দেয় এবং পথে পথে দলের নেতা-কর্মীদের আটক করা হয়। গোটা ঘটনাকে ‘স্বৈরাচারী’ বলে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন তিনি। দীপকে আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মাকে নিশানা করে বলেছেন, রবিবারের মধ্যে আশুতোষকে মুক্তি না দিলে সোমবার আসামে আসবে সিজেপির বিশাল বাহিনী। আশুতোষ রাঙ্কার শীঘ্রই মুক্তির দাবিতে সোচ্চার হয়েছে এসএফআই। সংগঠনের নেত্রী ঐশী ঘোষ সামাজিক মাধ্যমে জানান, আসামে হিমন্তবিশ্ব শর্মা স্বেরাচারী শাসন চালাচ্ছেন। গণতান্ত্রিক আন্দোলন এমনকি সভাসমিতি করতে দিচ্ছেন না৷ জেন জি-দের ভয় পেয়েছেন হিমন্তবিশ্ব।
দীপকে দাবি করেন যে, তাদের নেতাদের সভা করতে বাধা দেওয়া হয়েছে। হিমন্তকে আক্রমণ করে রাঙ্কা একটি পোস্টে বলেন, ‘‘জ্ঞানেশের আড়ালে আসাম নির্বাচনে কারচুপির ঘটনা ফাঁস হয়ে যাওয়ার ভয়ে আছেন হিমন্ত।’’ তিনি বলেন, কীভাবে একটি গ্রামের মানুষকে তিনটি ভিন্ন বিধানসভা কেন্দ্রে বিভক্ত করে বিধানসভার সীমানা তৈরি করা হয়েছিল। কীভাবে এসআইআরের নামে আসামীয়া নাগরিকদের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। তিনি বলছেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা তাঁকে এবং সিজেপি’র সদস্যদের আটক করেছেন কারণ তিনি আসামের জনগণকে ভয় পান। সংগঠনটি এখানকার স্কুলগুলোর বাস্তবতা উন্মোচন করতে চেয়েছিল। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে রাঙ্কা বলেন, এই পদক্ষেপ এটাই প্রমাণ করে যে মুখ্যমন্ত্রী তাঁর আসল পরিচয় ফাঁস হয়ে যাওয়ার ভয়ে ভীত। কিন্তু আমরা তাঁকে ভয় পাই না। আমরা জানি যে তিনি নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণ করেই বিধানসভা নির্বাচনে জিতেছিলেন।’’
এদিকে, রাঙ্কাদের মুক্তির দাবিতে সোচ্চার হয়েছে আসামের বিরোধী দলগুলি৷ বামপন্থী দল, আসাম জাতীয় পরিষদ,রাইজর দল পৃথক পৃথক বিবৃতি দিয়ে রাঙ্কাদের গ্রেপ্তারের কঠোর নিন্দা ও ধিক্কার জানিয়েছে। তাদের শীঘ্রই মুক্তি না দিলে সোমবার পথে নামবে বিরোধীরা। গোটা ঘটনাকে ‘স্বৈরাচারী’ বলে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে সিজেপি।
Comments :0