উত্তর ২৪ পরগনার হালিশহরে পুলিশ হেপাজতে এক তৃণমূল কর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় মৃতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতের পর তিনি জানান, ঘটনার তদন্তে ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মৃতের পরিবারের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে ১০ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্যের কথাও তিনি জানিয়েছেন।
মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এদিন ছিলেন পরিবহন মন্ত্রী অর্জুন সিং, পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিক এবং স্থানীয় নেতারা।
মৃত তৃণমূল কর্মী বিরজু কেওট কাঁচরাপাড়া পুরসভার প্রাক্তন কাউন্সিলর জেনি শর্মা কেওটের স্বামী। তোলাবাজি-সহ একাধিক অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। শুক্রবার তাকে আদালতে পেশ করা হলে পাঁচ দিনের পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়। শনিবার পুলিশ হেপাজতেই তার মৃত্যুর খবর সামনে আসে।
মৃতের স্ত্রী অভিযোগ করেছেন, থানার লকআপের ভিতরে বিরজুকে মারধর করা হয়েছিল এবং সেই কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। যদিও এই অভিযোগ নিয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
পরিবারের সঙ্গে দেখা করার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, হালিশহর থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিককে ক্লোজ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার তদন্তকারী আধিকারিককেও সাসপেন্ড করা হয়েছে। পুলিশ প্রশাসনে কোনও আধিকারিককে ক্লোজ করার অর্থ হল তাকে থানার সক্রিয় দায়িত্ব থেকে সরিয়ে অপেক্ষমাণ অবস্থায় পাঠানো।
গতকাল মৃত তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়েছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। হালিশহরে তার গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ দেখায় স্থানীয় মানুষজন। তাকে উদ্দেশ্য করে চোর স্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি গাড়িতে কাদা ও চটি ছোড়ার অভিযোগ ওঠে।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন গতকালের ঘটনা মমতা ব্যানার্জির বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, মমতা ব্যানার্জির আমলে এতো চুরি হয়েছে যে তাকে মানুষের মুখে চোর শব্দটি শুনতেই হবে।
Suvendu Adhikari
পুলিশ হেপাজতে তৃণমূল কর্মীর মৃত্যু, পরিবারের সঙ্গে দেখা মুখ্যমন্ত্রীর; ম্যাজিস্ট্রেট তদন্তের নির্দেশ
×
Comments :0