জলপাইগুড়ি জেলার ক্রান্তি ব্লকের চাপাডাঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েতের তিস্তা নদীর চর থেকে শুক্রবার সকালে একটি পূর্ণবয়স্ক বুনো হাতির মৃতদেহ উদ্ধার হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এলাকায়। এদিন সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রথমে মৃতদেহটি দেখতে পায়। তাঁরাই বনদপ্তরকে খবর দেন। পরে বনকর্মী ও বনশ্রমিকরা নৌকার সাহায্যে নদীর চর থেকে বিশালাকার মৃতদেহ উদ্ধারের কাজে নামেন।
বন দপ্তরের প্রাথমিকভাবে অনুমান, খাদ্যের সন্ধানে হাতিটি নদীর চর এলাকায় চলে এসেছিল। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে না। তবে গত কয়েক দিনের ক্রমাগত বৃষ্টির কারণে পাহাড় থেকে নেমে আসা জলে তিস্তার জলস্তর হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় হাতিটি জলের তোড়ে ভেসে গিয়ে মারা যেতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে।
পরিবেশপ্রেমী সংগঠন ও বনবস্তি এলাকার বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, গত দেড় দশকে বনাঞ্চলে হাতির খাদ্য উপযোগী বৃক্ষরোপণ ও নিবিড় বনসৃজনের কর্মসূচি আগের তুলনায় দুর্বল হয়েছে। তাদের দাবি, বামফ্রন্ট আমলে উত্তরবঙ্গের স্থানীয় বিধায়কদের হাতে বনদপ্তরের দায়িত্ব থাকায় এলাকার বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রশাসনিক নজরদারি বেশি ছিল। সেই সময় হাতির খাদ্যের জন্য বাঁশ, বেত, নেপিয়ার ঘাস ও অন্যান্য উপযোগী উদ্ভিদের বনসৃজন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল, যার ইতিবাচক প্রভাবও দেখা গিয়েছিল।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, উত্তরবঙ্গে প্রায় ৫৫০-৬০০টি বুনো হাতির বিচরণ রয়েছে। একই সঙ্গে গত এক দশকে মানুষ-হাতি সংঘাতজনিত কারণে মৃত্যু ও ফসলহানির ঘটনাও উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। পরিবেশ মহলের মতে, বনভূমির খাদ্যভাণ্ডার পুনর্গঠন, হাতির করিডর সংরক্ষণ এবং বরাদ্দ অর্থের স্বচ্ছ ব্যবহারের মাধ্যমেই এই সংকট মোকাবিলা সম্ভব।
Elephant
হাতির মৃতদেহ উদ্ধার, চাঞ্চল্য ক্রান্তি ব্লকে
×
Comments :0