হরমুজ প্রণালীর কাছে ওমান উপকূলে গত চারদিনে তিনটি পণ্যবাহী জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে জাহাজগুলিকে অকেজো বা প্রায় কার্যত ধ্বংস করে দিয়েছে মার্কিন নৌবাহিনী। তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হলো এই জাহাজগুলিতে কর্মরত নাবিকদের সিংহভাগই ভারতীয়। ১০ জুন সাটেবেলো নামে যে জাহাজে ট্রাম্প বাহিনী হামলা চালিয়েছিল তার তিন ভারতীয় নাবিক নিখোঁজ থাকার পর তাদের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে ওমানের সেনা বাহিনী। বাকি ২৫ জন নাবিককে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তাদের মধ্যে ২১ জন ভারতীয়। ১১ জুন এমটি জলবীর নামে যে জাহাজে হামলা চালানো হয়েছিল তাতে ভারতীয় নাবিক ছিল ১০জন। তার আগে ৮ জুন হামলা চালানো হয়েছিল মাবিভেক্স জাহাজে। উদ্বেগ ও আশঙ্কার বিষয় ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে আমেরিকা ইজরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের পর হরমুজ অঞ্চলে মোট ৭জন ভারতীয় নাগরিককে সরাসরি যুদ্ধের বলি হতে হয়েছে। পশ্চিম এশিয়ার বাইরে আর কোনও দেশকে এতটা ক্ষতির মুখে পড়তে হয়নি। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে আমেরিকার একজন সেনাও যদি নিহত হয় তাহলে ইরান ধ্বংস করার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প। অথচ তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের আক্রমণে সাত সাতজন নিরাপরাধ ভারতীয় নাবিক নিহত হলেও আমেরিকা ন্যুনতম দুঃখপ্রকাশও করেনি। বাণিজ্য জাহাজে কর্মরত ভারতের নাবিকদের কোনও মূল্যই সম্ভবত আমেরিকার কাছে নেই। উলটে এই অভিযানে যুক্ত থাকা মার্কিন সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড রীতিমতো গর্বের সঙ্গে ঘোষণা করেছে তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ইরানের দিকে যাওয়া ও ইরান থেকে আসা জাহাজগুলি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
এইভাবে নিরপরাধ ভারতীয় নাবিক হত্যার ঘটনায় যেভাবে প্রতিক্রিয়া জানানো বা কঠোর অবস্থান নেওয়ার দরকার ছিল মোদী সরকারের তরফ থেকে তেমন কিছু পাওয়া না যাওয়ায় বিরোধীরা জোরালোভাবে সরকারের সমালোচনা করেছে। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য অনেক অপ্রাসঙ্গিক ও অপ্রয়োজনীয় বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করলেও এই প্রসঙ্গে একেবারে নীরব। ট্রাম্প তাঁর ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠ বন্ধু বলে জাহির করলেও তিন নিরীহ ভারতীয়র জীবন ট্রাম্পের সেনারা কেড়ে নিলেও বন্ধুকে তিনি কিছু বলেননি। বিদেশ দপ্তরের তরফে নরম সুরে প্রতিবাদ বার্তা দেওয়া হলেও রহস্যজনকভাবে তাতে আমেরিকার নামটাই উল্লেখ করা হয়নি। অর্থাৎ বন্ধু ট্রাম্পের আমেরিকা যত অন্যায়ই করুক ভারত মুখ বুঝে সহ্য করে যাবে। বস্তুত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে সামরিক হামলা শুরুর পরও ভারত সমালোচনা বা বিরোধিতায় দৃঢ় অবস্থান নেয়নি। ইরান যুদ্ধ ও পশ্চিম এশিয়ায় অশান্তির জেরে ভারত সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী হলেও এই যুদ্ধ বন্ধের জন্য নৈতিক অবস্থান নিতে পারেনি। আমেরিকা যা কিছু করছে নীরবে তা মেনে যাচ্ছে শুধু। তেমনি মার্কিন চাপ মেনে নিয়ে ভারতের বাজারে মার্কিন পণ্য অবাধে ঢোকার, আমেরিকা থেকে তেল, গ্যাস, যুদ্ধাস্ত্র, পরমাণু বিদ্যুৎ সরঞ্জাম আমদানি করার ব্যবস্থা করেছে। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী ভারতে আমেরিকার রপ্তানি আয় অনেক বাড়িয়ে দেবার ব্যবস্থা মোদী সরকার করে দিয়েছে। কিন্তু কেন? এফস্টিন ফাইল থেকে বাঁচতে? নাকি বন্ধু আদানির কর্পোরেট সাম্রাজ্য রক্ষা করতে?
Fear of Trump
ট্রাম্পের ভয়
×
Comments :0