Dangerous IBC

মোদীর আইবিসি-তে পয়সা হজম করছে ঋণখেলাপি কর্পোরেট

জাতীয়

বকেয়া ঋণ মিটমাটের বন্দোবস্ত আইবিসি চালু হয়েছে নরেন্দ্র মোদী সরকারের সময়ে। ব্যাঙ্কে বকেয়া ঋণের সামান্য অংশ দিয়েই হয়ে যাচ্ছে ‘নিষ্পত্তি‘। এই ব্যবস্থা নিয়েই প্রশ্ন তুলল বম্বে হাইকোর্ট।
বম্বে হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ, ঋণখেলাপিরা এই ইনসলভেন্সি অ্যান্ড ব্যাঙ্করাপ্সি কোড (আইবিসি)-র অপব্যবহার করছে। ঋণ শোধের দায় থেকে মুক্তি পেতে চাইছে। অর্থনীতির ক্ষেত্রে বিপজ্জনক হচ্ছে এই বন্দোবস্ত।
ব্যাঙ্কে ঋণের দায় ১৯ হাজার ২৮৩ কোটি টাকার। মাত্র ৫ হাজার ১০০ কোটি টাকার বিনিময়ে দায় মুক্ত হতে চলেছেন নীতীন এবং চেতন সন্দেশারা।
সুপ্রিম কোর্টে দেশ ছেড়ে পালানো সন্দেশারা ভাইদের বিরুদ্ধে দায়ের ফৌজদারি অপরাধের দায় তুলে নেওয়া হয়েছে। 
সন্দেশারাদের থেকে বিভিন্ন ব্যাঙ্ক পেয়েছে দু’দফায় ৩৫০৭ কোটি এবং ১১৯২ কোটি টাকা। নরেন্দ্র মোদী সরকারের সময়ে চালু ঋণ মিটমাটের বন্দোবস্ত আইবিসি-কে ব্যবহার করে হয়েছে এই লেনদেন।
দেউলিয়া সংস্থার বকেয়া ঋণের দায় নিষ্পত্তির নামে চালু হয়েছে এই আইবিসি। জাতীয় কোম্পানি আইন ট্রাইবুনালে আইবিসি সংক্রান্ত মামলার বিচার হয়। আইবিসি-র বিধি অনুযায়ী ঋণের দায় ছেঁটে, পরিভাষায় যা ‘হেয়ারকাট‘, দেওয়া যায়। যার অর্থ ব্যাঙ্ক বকেয়ার অংশমাত্র পাবে। কিন্তু ঋণখেলাপি কর্পোরেট দায়মুক্ত হয়ে যাবে। 
স্টেট ব্যাঙ্কের সঙ্গে রিলায়েন্স কমিউনিকেশনের মামলায় ৪৭ হাজার ২৫১ কোটি টাকা ঋণের দায়ের মিটমাট হয়েছিল মাত্র ৪৫৫ কোটি টাকায়। ৫৩টি আর্থিক সংস্থার থেকে এই বিপুল ঋণ নিয়েছিল অনিল আম্বানির রিলায়েন্স। রাষ্ট্রায়ত্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠান স্টেট ব্যাঙ্ককেও বিপুল লোকসানের মাশুল গুনতে হয়েছে। 
ভিডিওকনের সঙ্গে মামলায় ঋণদাতা আর্থিক সংস্থাগুলিকে দিতে হয়েছিল ৯৫.৮৫ শতাংশ ছাড়। 
২০১৬-তে চালু হয়েছিল আইবিসি। ২০১৯’র মার্চে ব্যাঙ্কে টাকার ফেরার হার ছিল ঋণের ৪৩ শতাংশ। ২০২৩ সালে এই হার কমে গিয়েছে ৩২ শতাংশ।

Comments :0

Login to leave a comment