বুধবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মোদীর কার্যকালের ৪ হাজার ৩৯৯তম দিন পূর্ণ হয়েছে। এদিন তিনি জওহরলাল নেহরুর ৪ হাজার ৩৯৮দিনের টানা প্রধানমন্ত্রিত্বের রেকর্ড ভেঙে দেন। কেন্দ্রে বিজেপি সরকারের ১২ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে কংগ্রেসের সমালোচনা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ২০১৪ থেকে ২০২৬ বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ’র উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী মোদী।
তাঁর মেয়াদেই এই প্রথম টাকার দাম ডলারের তুলনায় সেঞ্চুরর কাছাকাছি। তাঁর মেয়াদেই লিটারে একশো টাকার অঙ্ক ছাড়িয়েছে পেট্রোল এবং ডিজেল। আরও আগে কর্মহীনতার হারে রেকর্ড তাঁর সময়েই।
তবু এদিন তিনি বলেন, ‘‘১২ বছরের এনডিএ-র একটি বড় সাফল্য হল দেশ কংগ্রেসের শাসন থেকে মুক্ত হয়েছে। কংগ্রেস দেশকে অসহায়ত্ব, নিঃস্বতা ও হীনমন্যতার গর্তে নিমজ্জিত করেছিল। দেশকে বোঝানো হয়েছিল যে ভারতে উন্নয়ন ধীরে ধীরে হয়। তাঁর দাবি প্রথমবার, যখন অটলজির নেতৃত্বে এনডিএ সরকার এসেছিল, আমরা কীভাবে উন্নয়ন করতে পারি তার আভাস পেয়েছি। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত ২০০৪ সালে, দেশ আবার অস্থিতিশীলতার ঝড়ে এবং কংগ্রেসের খপ্পরে পড়ে। উন্নয়নের কথা বাদ দিন, একের পর এক হাজার হাজার কোটি টাকার কেলেঙ্কারিতে দেশকে টেনে নিয়ে যায় কংগ্রেস। ২০১৪ সালে এনডিএ সরকার গঠিত হলে দেশের ভাগ্য আবার বদলে যায়। উদ্দেশ্য, নীতি এবং সিদ্ধান্ত একসাথে কাজ করলে কীভাবে উন্নয়নের গতি ঘটে তা দেশ দেখেছিল।
অথচ, নরেন্দ্র মোদীর মেয়াদেই প্রথম নির্বাচন কমিশনকে কেন্দ্রে আসীন রাজনৈতিক দলের হাতের পুতুল হতে হয়েছে। এসআইআর’র নামে এই প্রথম নাগরিকদের ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য আবেদন পত্র জমা দিতে হয়েছে। সর্বজনীন ভোটাধিকার থাকবে কিনা সংশয় উঠেছে। সরকারে আসীন দলের জয় নিশ্চিত করতে ভোটার তালিকায় কারচুপির মতো মারাত্মক অভিযোগও ভারতের সাংবিধানিক গণতন্ত্রে এই প্রথম।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ভারতের দীর্ঘতম সময় ধরে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ক্ষমতায় ৪ হাজার ৩৯৯ দিন পূর্ণ হওয়ায় ভারত মণ্ডপমে অনুষ্ঠিত এনডিএ সভায় তাঁকে সম্মানিত করা হয়। এদিন দেশবাসীর উদ্যেশ্যে ভাষণ দিতে গিয়ে মোদী বলেন, ‘‘২০১৪ সালের পর ভারতের জনগণ দেখেছে যে, যখন একটি সরকার সঠিক উদ্দেশ্য নিয়ে পরিচালিত হয়, তখন দেশের উন্নয়ন ঘটে। ১২ বছরে ২৫ কোটি মানুষের দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসা এটাই প্রমাণ করে যে আমাদের নীতিগুলো সঠিক। বছরের পর বছরের কাজ আমরা কয়েক মাসের মধ্যেই সম্পন্ন করেছি।’’
‘ইন্ডিয়া’ মঞ্চের দাবি, দেশের অর্থনীতির হাঁড়ির হাল নিয়ে সর্বদলীয় বৈঠক করতে হবে। গুরুতর আর্থিক বিপদের সামনে দেশ। বিদেশি মুদ্রার ভাণ্ডার দ্রুত ক্ষয়ে যাচ্ছে। সেই সময়েই মোদী লম্বা চওড়া দাবি জানালেন। কিন্তু দেশবাসী দেখেছে আমেরিকার রাষ্ট্রপতি কিভাবে কথায় কথায় ভারতকে ধমকাচ্ছেন। তাঁর নির্দেশে যুদ্ধ বন্ধ থেকে রাশিয়ার থেকে তেল কেনার মতো সিদ্ধান্ত আটকে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন। অথচ, মোদী সরকার নীরব থেকেছে।
এনডিএ সরকারের ১২ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী মোদীর কার্যকালের প্রশংসা করে একটি অভিনন্দন প্রস্তাব পাস হয়। প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকেও সর্বসম্মতিক্রমে অভিনন্দন প্রস্তাবটি পাস হয়। প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন. চন্দ্রবাবু নাইডু এবং নাগাল্যান্ডের মুখ্যমন্ত্রী নেইফিউ রিও এতে সমর্থন জানান। বিজেপি-এনডিএ শাসিত ২২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মুখ্যমন্ত্রী, উপ-মুখ্যমন্ত্রী এবং অন্যান্য নেতারা এই সভায় উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা সকলেই প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
Modi
ডলারের দামে সেঞ্চুরি, ভোটাধিকারের সংশয়, ‘নেহরুকে টপকে‘ ভাষণ মোদীর
×
Comments :0