Post Poll Violence

ভোট পরবর্তী সন্ত্রাস অব্যাহত বর্ধমানে, লাল ঝন্ডা খুলে নেওয়ার হুঁশিয়ারি

রাজ্য জেলা

বুধবার বেলা ১টা নাগাদ নিমো ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের অধিনে উদয়পল্লী দক্ষিণ পাড় বেলতলা এলাকায় সিপিআই(এম) কর্মী অরুনাভ বৈরাগীর বাড়িতে বিজেপির ৩ কর্মী ও বেশ কিছু মহিলা কর্মীরা মিলে তাঁকে হুমকি দেয়। বলা হয় ঝান্ডা খুলে নাও।  বেলা ৩ টের মধ্যে লাল ঝান্ডা খুলে নেওয়ার জন্য সময় ও বেধে দেওয়া হয়। না হলে দেখে নেওয়া হবে বলেও শ্বাশানী দেওয়া হয়। বিজেপি দুষ্কৃতীদের সিপিআই(এম) কর্মীকে বলে,  এবার হিন্দুত্ববাদী ভোট হয়েছে। মেমারি বিধানসভা কেন্দ্রের সিপিআই(এম) প্রার্থী কৃষাণু ভদ্র এই এলাকা থেকে পেয়েছে মাত্র ১৬৬ টি ভোট।  কারা ভোট দিয়েছে দেখতে হবে। বেলা ৩ টের মধ্যে লাল ঝান্ডা খুলে নিতে হবে। না হলে কিন্তু দেখে নেওয়া হবে। খবর পেয়ে প্রার্থী কৃষাণু ভদ্র ও জেলা কমিটির নেতৃত্ব ঘটনা স্থলে আসেন। খবর দেওয়া পুলিশ কে। পুলিশ আসতেই পিছু হটে বিজেপির দুষ্কৃতিকারীরা। ক্ষতিয়ে দেখেন সামগ্রিক বিষয়টি। কৃষাণু ভদ্র বলেন, বিজেপির দুষ্কৃতিকারীরা সিপিআই(এম)র ফ্লেক্স, ফেস্টুন খুলে নেওয়ার জন্য হুঁশিয়ারি দেয়। পুলিশ এসে পরিস্থিতি ক্ষতিয়ে দেখে আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। 
অন্যদিকে তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্যের স্ত্রীকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ এবং তাঁর খাবারের দোকানে ভাঙচুরের ঘটনায় এক বিজেপি সমর্থককে গ্রেপ্তার করেছে বর্ধমান থানার পুলিশ। ধৃতের নাম অমিত রাজমল্ল। বর্ধমান থানার নাড়ি বেলবাগান এলাকায় তার বাড়ি। বুধবার ভোররাতে নাড়ি বেলবাগান এলাকা থেকে তাকে ধরা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার ভোটের ফল বেরনোর পর বিজেপির কয়েকজন বর্ধমান থানার কালনা গেট এগ্রিকালচার ফার্মের ১ নম্বর গেট এলাকার বাসিন্দা অনিমা সরকারের বাড়িতে এসে তৃণমূলের কয়েকজন অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে। তাঁর স্বামী নূপুর সরকার তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য। পরের দিন দুপুরে ফের কয়েকজন বেলবাগান এলাকায় অনিমা সরকারের খাবারের দোকানে হামলা চালায়। দোকানে ভাঙচুর করে। এরপর বাড়িতে ঢুকে তাঁকে মারধর করে। শাশুড়ি তুলসী সরকার বাঁচাতে গেলে তাঁকেও মারধর করা হয়। পঞ্চায়েত সদস্যের স্ত্রী নিজেই ঘটনার কথা জানিয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। ধৃতকে এদিনই বর্ধমান সিজেএম আদালতে পেশ করা হয়। সপ্তাহে একদিন তদন্তকারী অফিসারের কাছে হাজিরা, মামলার তথ্য প্রমাণ নষ্ট না করা এবং অভিযোগকারিণী অথবা সাক্ষীকে ভীতি প্রদর্শন না করার শর্তে ধৃতের জামিন মঞ্জুর করেন সিজেএম। অন্যদিকে পূর্ব বর্ধমান জেলা জুড়ে বিজেপি ভোটে জয়লাভ করার পর হামলা অব্যাহত আছে। বর্ধমান শহরে তৃণমূলের কাউন্সিলদের মধ্যে অধিকাংশ পলাতক। বাড়ি ভাঙ্গচুর, দোকান খুলতে না দেওয়া, জরিমানা আদায় শুরু হয়েছে। সারা জেলায় অশান্তির কথা কবুল করে জেলা শাসক ও পুলিশ সুপার এক সাংবাদিক সম্মেলনে জানিয়েছেন এখনও পর্যন্ত জেলায় ৫০ বেশি থানায় থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। অপরাধীদের ধরতে মঙ্গলবার রাততে পুলিশ একাধিক জায়গায় তল্লাশি শুরু করেছে। জেলা শাসক স্বেতা আগরয়াল হুঁশিয়ারি দিয়েছেন  জেলাতে হামলা, সন্ত্রাস করলে কড়া হাতে তা দমন করা হবে। 
ভোট পরবর্তী সন্ত্রাসে বর্ধমান শহরের রামমুদি কলোনি ক্যানেল বাঁধ এলাকায় মহিলাকে মারধর ও তাঁর শ্লীলতাহানির অভিযোগে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতের নাম গোপাল চৌধুরী। রামমুদি কলোনি এলাকাতেই তার বাড়ি। বুধবার ভোররাতে বাড়ি থেকে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রামমুদি কলোনির ক্যানেল বাঁধ এলাকায় ওই মহিলার বাড়ি। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১২টা নাগাদ কয়েকজন মহিলার বাড়িতে চড়াও হয়। চিৎকার করে মহিলাকে বাইরে বেরিয়ে আসতে বলে। বেরিয়ে এলে মহিলাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেয় হামলাকারীরা। এরপর তারা মহিলার হাত ধরে টানাটানি করে। মহিলাকে জোর করে বাড়ি থেকে টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। মহিলা নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করলে তাঁকে মারধর করা হয়। এমনকী তাঁর পরনের পোশাক ছিঁড়ে দেওয়া হয়। আশপাশের লোকজন এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে মহিলা নিজেই ঘটনার কথা জানিয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। ধৃতকে এদিনই বর্ধমান সিজেএম আদালতে পেশ করা হয়। সপ্তাহে একদিন তদন্তকারী অফিসারের কাছে হাজিরা এবং অভিযোগকারিণী অথবা সাক্ষীদের ভীতি প্রদর্শন না করার শের্তর ধৃতের জামিন মঞ্জুন করেন সিজেএম।

Comments :0

Login to leave a comment